ওয়েবডেস্ক: অমিত শাহ যতই বিরোধী জোটকে কটাক্ষ করুন। কর্নাটকে কুমারস্বামীর শপথকে ঘিরে আরও ঘনবদ্ধ হচ্ছে বিরোধী জোট। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন আমন্ত্রিত হয়েছেন। তেমনই আমন্ত্রিত হয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশে যাদব, আরজেডির তেজস্বী যাদব। টিডিপি, টিআরএস, ডিএমকে নেতৃত্ব তো থাকবেনই। কিন্তু এ সবের মাঝেই এদিন সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকেও শপথে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কুমারস্বামী। সংসদীয় রাজনীতির আসন সংখ্যার বিচারে সিপিআইএম গোটা দেশে এই মুহূর্তে খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। তবুও কেন সীতারামকে আমন্ত্রণ কুমারস্বামীর। শুধুই কি সৌজন্য?

এর পেছনে কঠোর বাস্তব যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে ঐতিহাসিক কারণও।

  • আঞ্চলিক দলগুলির এই জোট তৈরির পেছনে প্রধান ভূমিকা রয়েছে কংগ্রেসের। আর মাঝেমধ্যে বিরোধ হলেও কংগ্রেসের সঙ্গে দুই বাম দল সিপিআই ও সিপিএমের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ভাবেই ভালো। সিপিআই তো জরুরি অবস্থাকেও সমর্থন করেছিল। ইন্দিরা গান্ধীর ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রীয়করণের নীতিকে পছন্দই করেছিল বামদলগুলি। আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে কিছুটা বিরোধ তৈরি হলেও বিজেপি বিরোধিতার লাইন ফের দুই দলকে কাছাকাছি এনে দিয়েছে। ইউপিএ ১ সরকারের বিভিন্ন আর্থিক নীতিতে বামেদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বামেদের পরামর্শ বরাবরই কংগ্রেস গুরুত্ব দেয়। তাই আপাতত শক্তিতে দুর্বল হলেও বামেদের কাছছাড়া করতে নারাজ কংগ্রেস।
  • বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক জোট তৈরি হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু ২০১৯-এর ভোটের পর তার চেহারাটা ঠিক কেমন হবে এখনও পুরো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন আঞ্চলিক দল অতীতে নানা সময় বিজেপির হাত ধরেছে। তৃণমূলও ধরেছে। কিন্তু বাবরি মসজিদ পরবর্তী ভারতীয় রাজনীতিতে বামেরা কখনওই বিজেপির সঙ্গে যায়নি। তাই বিজেপি বিরোধী জোটে বামেদের থাকাটা অবশ্যম্ভাবী। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে বামেরা দুর্বল হয়ে পড়লেও কেরালায় তাঁরা গোটা দশেক আসন পাবে। এছাড়া সাম্প্রিতক কালে দেশজুড়ে যে কৃষক আন্দোলনের প্রয়াস তারা করছেন, তাতে সব মিলিয়ে তাঁদের আসন সংখ্যা ১৫-র বেশি হয়ে যেতেও পারে। বিজেপি বিরোধী জোটকে ক্ষমতাসীন হতে হলে ওই ১৫টি আসনেরও যথেষ্ট গুরুত্ব থাকবে।
  • এছাড়া রয়েছে ঐতিহাসিক কারণ। জনতা দল তথা ভারতবর্ষে কংগ্রেস বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলির উত্থানের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে বামেরা। জনতা দলের বিভিন্ন টুকরোগুলোর সঙ্গে বামেদের এখনও যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক। ১৯৯৬ সালে কুমারস্বামীর বাবা দেবেগৌড়া যে যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল বামপন্থীরা তথা সিপিএম। বস্তুত, সিপিএম জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী করতে রাজি না হওয়াতেই শিঁকে ছিঁড়েছিল দেবেগৌড়ার। সে ইতিহাস ভোলা সম্ভব না দেবেগৌড়ার।

সব মিলিয়ে বিজেপি বিরোধী যে কোনো উদ্যোগে ইয়েচুরি ডাক পেতেই থাকবেন। পশ্চিমবঙ্গের হীনবল বামেদের দিকে তাকিয়ে সে রহস্যের সমাধান করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here