সরিস্কা : চিতাবাঘের আক্রমণে সাত দিনে মৃত্যু হল ৪ জনের। ঘটনা রাজস্থানের আলওয়ার জেলার সরিস্কায়। ৪ জনের মধ্যে ৩জন মহিলা ও এক জন পুরুষ। এলাকার সমস্ত মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৬টিরও বেশি গ্রামের মানুষ মূলত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। এমনকি দিনের বেলায়ও মানুষজন ঘরের বাইরে বেরোতে পারছেন না চিতাবাঘের ভয়ে। এই চিতাবাঘটি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কলালঙ্কা, কিশোরী, রায়পুরা, টডি, বল, জাইতপুর, সিলিবাউড়ি প্রভৃতি গ্রামে। 

1

স্থানীয় সূত্রের খবর, চিতাবাঘের ভয়ে কৃষকরা মাঠে চাষ করতে যেতে পারছেন না। এমনকি খেতে জল দেওয়ার কাজও বেশ কিছুদিন ধরে প্রায় বন্ধই বলা যায়। মেয়েরাও রোজকার ঘরের কাজ করতে বাইরে বেরোতে পারছেন না। এমনকি পানীয় জল আনার জন্যও ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না তাঁরা। পড়ুয়ারাও স্কুলে যেতে পারছে না। 

ভুক্তভোগীদের এক জন জানান, “আমরা খাঁচায় বন্দির মতো ঘরে আটকে আছি। খাবার জলও আনতে সাহস পাচ্ছি না”। অন্য এক জন বলেন, প্রশাসন যদি এই চিতাবাঘকে শিগগিরি ধরার ব্যবস্থা না করে, তা হলে আমাদেরই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। 

2

এক সপ্তাহের মধ্যে এত জনের মৃত্যু, চিতাবাঘটিকে ধরার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ জানান, চিতাবাঘটিকে ধরার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করেছেন তাঁরা। সেই দলে রয়েছে, ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আর লক্ষ্যভেদী দলও। এ ছাড়া বন দফতরও চিতাবাঘ ধরার ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এই পদ্ধতির সাহায্যে জলাশয়ের কাছ থেকে চিতাবাঘের থাবার চিহ্ন খুঁজে বার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা চিতাবাঘটিকে ধরার ক্ষেত্রে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। গ্রামের কুয়োগুলোর কাছে একাধিক খাঁচার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সঙ্গে রয়েছে ছ’জনের একটা করে দলও। পাশাপাশি এই এলাকাগুলোতে লাগানো হয়েছে ক্যামেরাও।

3

জেলা প্রশাসন জঙ্গল এলাকায় চিতাবাঘের খোঁজ করার জন্য কাজে লাগাচ্ছে ড্রোন। এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত আর কী উচিত নয়, সেই বিষয়ে গ্রামবাসীদের সতর্কতার জন্য লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। কাউকে একা জঙ্গলের দিকে যেতে বার বার বারণ করা হচ্ছে। কোনো রকম বিপদসংকেত দেওয়ার জন্যও জোরালো ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন