নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : বেপরোয়া গতির বলি ফের এক বন্যপ্রাণ। ভারী লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেল একটি মাঝবয়সি স্ত্রী চিতাবাঘ। রবিবার সকালের ঘটনা। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার ওপর দিয়ে গিয়েছে ৩১নং জাতীয় সড়ক। বনাঞ্চল ঘেরা এই সড়ক বন্যপ্রাণীদের যাতায়াতের ‘করিডর’ বলেই পরিচিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চিতাবাঘটিকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। তার মাথা থেঁতলে গিয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন চালসা রেঞ্জ ও খুনিয়া রেঞ্জের বনকর্মীরা। খুনিয়া রেঞ্জের রেঞ্জার সমীর শিকদার জানিয়েছেন, আঘাতের বীভৎসতা দেখে অনুমান, কোনো ভারী গাড়ির ধাক্কাতেই মৃত্যু হয়েছে প্রাণীটির। তবে প্রাণীটির মুখ থেঁতলে যাওয়ায় এটি লেপার্ড না লেপার্ড ক্যাট তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বনাধিকারিক সমীরবাবু। তবে স্থানীয় বনবস্তির বাসিন্দাদের দাবি, এটি একটি মাঝবয়সি চিতাবাঘ।  স্থানীয় বাসিন্দারাই জানিয়েছেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রচুর ভারী গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এর আগেও গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ৩১নং জাতীয় সড়কে গাড়ির ধাক্কায় বহু বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালেই দু’টি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছিল এই জাতীয় সড়কে। এ ছাড়াও লেপার্ড ক্যাট, সাপ, হরিণ-সহ বহু প্রাণী বেপরোয়া গতির শিকার। এই নিয়ে বিভিন্ন সময় পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি সরব হয়েছে। এ দিনের ঘটনার পরও তাঁরা একই দাবি তুলেছেন বন দফতরের কাছে। ‘নেচার অ্যন্ড ফাউন্ডেশন’-এর সম্পাদক অনিমেষ বসু জানিয়েছেন, বনাঞ্চল সংলগ্ন রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে বন দফতর ও পুলিশ-প্রশাসনকে। ‘নেচার অ্যন্ড অ্যাডভেঞ্চার’-এর সম্পাদক সুজিত দাসের বক্তব্য, দিন দিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বন্যপ্রাণীদের মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এই বিষয়ে এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মৃত চিতাবাঘটিকে ময়না তদন্তের জন্য গরুমারা জাতীয় উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে খবর বন দফতর সূত্রে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here