teachers' protest

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: নিজের অপসারণ নিয়ে মুখ খুললেন ধর্তিমোহন রায়। সরাসরি না বললেও ঘটনা যে অপ্রত্যাশিত তা আজ আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন। বুধবার নিজের বাড়িতে বসে তাঁর মন্তব্য, “আগে কে কী করছে বুঝে নিই তার পর যা বলার বলব।” তবে নিজের আগামী পদক্ষেপ নিয়ে ধোঁয়াশা রেখেছেন।

এ দিকে ধর্তিমোহন রায়ের অপসারণের বিরোধিতা করে আসরে নামল শিক্ষকমহলের একটা বড়ো অংশ এবং রাজবংশী ক্ষত্রিয় সমিতি। বুধবার কয়েকশো শিক্ষক-শিক্ষিকা জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের দফতরে গিয়ে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, ধর্তিমোহন রায়কে সংসদের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করতে হবে।

বিক্ষোভে মূলত তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা থাকলেও আন্দোলনের নেত্রী সবিতা হাজরা ভৌমিক জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক ব্যানার নয়, সমস্ত শিক্ষককে নিয়ে মঞ্চ তৈরি করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, পরিচ্ছন ভাবমূর্তির মানুষ ধর্তিমোহন রায়ের জেলার শিক্ষা-আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বস্তুত, পেশাগত ভাবে ধর্তিমোহন রায় নিজেও স্কুলের শিক্ষক এবং এক সময় তৃণমূল শিক্ষা সেলের জেলা সভাপতিও ছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান করা হয়। শিক্ষকদের দাবি, তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর শিক্ষকদের অনেক সমস্যারই সুরাহা হয়েছে। তাই তাঁর অপসারণ তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না, জানিয়েছেন শিক্ষক নেতা নির্মল সরকার।

dhartimohan roy at his residence
নিজের বাড়িতে ধর্তিমোহন রায়।

এ দিকে এ দিন সাংবাদিক সন্মেলন করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজবংশী ক্ষত্রিয় সমিতি। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ধর্তিমোহন রায় নিজেই। যদিও সাংবাদিক সন্মেলনে তিনি ছিলেন না। সমিতির জেলা সভাপতি হেমচন্দ্র রায় জানান, এই ঘটনায় রাজবংশী সমাজকে অপমান করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বরে সচিবের সই করা আপসারণের চিঠি কেন প্রায় দু’ মাস পর ১৪ নভেম্বর পাঠানো হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অপসারণের আগে শোকজ কেন করা হল না, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। সমিতির সদস্য ভার্গব বর্মণের অভিযোগ, তাঁদের সন্দেহ এ সবের পেছনে ‘অন্য কিছু’ রয়েছে। আপাতত তাঁরা আন্দোলনের পথে না গেলেও কলকাতায় প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে ধর্তিমোহন রায়কে পদে পুনর্বহালের দাবি পেশ করবেন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে, জানিয়েছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ফটিক চন্দ্র রায়।

প্রসঙ্গত, ১৫ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশিকা জারি করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সংসদের চেয়ারম্যান। তাতে বলা হয়েছিল পুজোর ছুটির মধ্যে বিদ্যালয় খোলা রেখে সংখ্যালঘুদের স্কলারশিপের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। পুজোর ছুটিতে কাজের নির্দেশে ক্ষুদ্ধ হয়েছিল শিক্ষকমহল। সেই খবর পৌঁছোয় শিক্ষা দফতর এবং খোদ শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও। সে দিনই তাঁকে পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যদিও কারণ বলা হয়নি। তবে সরকারি নির্দেশিকা না আসায় এত দিন সংসদে চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিলেন ধর্তিমোহন রায়। মঙ্গলবার সেই অপসারণ-নির্দেশিকা এসে পৌঁছোয় জেলাশাসকের কাছে। যদিও অপসারণের কারণ সেখানে বলা নেই। এখন দেখার যে, এই নির্দেশিকা ঘিরে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে তা শান্ত হয় কোন পথে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here