zim coup

হারারে: প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের সঙ্গে বেশ কিছু দিন হল সেনার দূরত্ব বাড়ছিল। সেই দূরত্ব আরও বাড়ে যখন কিছু দিন আগেই দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমার্সন মাঙ্গাগওয়াকে সরিয়ে দেন মুগাবে। সেনার একটা বড়ো অংশ মাঙ্গাগওয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল।

দেশে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতাকে প্রশমিত করতে সেনা হস্তক্ষেপ করবে বলে বিবৃতি দেন সেনাপ্রধান কন্সটান্টিনো চিওয়েঙ্গা। এর পরেই মঙ্গলবার রাত থেকেই হারারের রাস্তার দখল নিয়ে নেয় জিম্বাবোয়ে সেনা।

প্রথমে জিম্বাবোয়ের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র জেডবিসি দফতর সেনার দখলে। তার পরেই মুগাবের বাসস্থানের কাছে প্রচুর গুলি বিনিময়ের শব্দ শোনা যায়। বার তিনেক বিস্ফোরণের শব্দও কানে আসে। দেশবাসী ভেবে ফেলেন, বিশ্বের অন্য দেশের মতো জিম্বাবোয়েতেও এ বার সামরিক অভ্যুথানের ঘটনা ঘটে গিয়েছে। তবে বুধবার সকালে সেনা জানায়, পুরোপুরি অভ্যুথান নয়, মুগাবেকে মসনদে রেখেই জিম্বাবোয়ের ক্ষমতা দখল করেছে তারা।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রে একটি বিবৃতি দিয়ে সেনা জানায়, “দেশে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার জন্য দায়ী অপরাধীদের ধরতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।” পাশাপাশি তারা জানিয়ে দেয়, প্রেসিডেন্ট মুগাবে এবং তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সুরক্ষিত রয়েছেন।

‘অপরাধীদের’ কবজা করা হলেই দেশে যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে সে কথাও বলে দেয় সেনা। এই বিবৃতির পরেই দেশের অর্থমন্ত্রী ইগ্নাতিয়ার চম্বোকে গ্রেফতার করে সেনা। তবে এই ঘটনার পরে এখনও পর্যন্ত মুগাবে এবং তাঁর পরিবারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৯৩ বছর বয়সি বিশ্বের সব থেকে প্রবীণ এই রাষ্ট্রনেতা।

উল্লেখ্য, ১৯৮০-তে জিম্বাবোয়ের স্বাধীনতা অর্জনের সময় থেকে প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন মুগাবে। এককালে দেশবাসীর কাছে যিনি নায়কের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন, সেই মানুষটির ওপরে দেশবাসীর ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। তার মূল কারণ তাঁর একনায়কতন্ত্রসুলভ আচরণ। পাশপাশি দেশের অর্থনৈতিক দশা অত্যন্ত খারাপ। মানুষের সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই সম্ভবত ক্ষমতা দখলে নেমেছে সেনা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here