ওয়েবডেস্ক : এক জন মা প্রথমে বিয়ে করেছিলেন নিজের ছেলেকে। তার পর বিয়ে করলেন মেয়েকে। ঘটনা ওকলাহোমা ডানকানের।

৪৪ বছরের প্যাট্রিসিয়া স্পান। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে প্যাট্রিসিয়াকে বিয়ে করে মিস্টি। মিস্টির বয়স তখন ২৬ বছর। বিয়ের ছ’ মাস পর সেপ্টেম্বর মাসে তাদের ব্যভিচারের দায়ে গ্রেফতার করা হয়। তখনই মিস্টি তার ওপর আনা অভিযোগ খারিজ করার জন্য আবেদন জানায়। বলে, তার সঙ্গে প্ররোচনা করা হয়েছে।

আদালতের তথ্য বলছে, প্যাট্রিসিয়া মিস্টির জন্মদাতৃ মা। তিনি মিষ্টিকে মিথ্যে বুঝিয়ে বিয়ে করেছেন। আদালত তাদের ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। মিস্টি তার দোষ স্বীকার করে নিয়েছে।

মিস্টি আদালতের কাছে আবেদনেও জানিয়েছিল, বিয়ের আগে তিন জন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেছে বলে প্যাট্রিসিয়া তাকে আশ্বাস দেয়। বলে, প্রত্যেকেই এই বিয়েকে আইনসিদ্ধ বলেছে। তার পর তারা বিয়ে করেছে।

এক জন শিশুকল্যাণকারীর নজরে আসে ঘটনাটি। তাঁর মনে হয়, মিস্টি আর প্যাট্রিসিয়ার মধ্যে কোনো জৈবিক সম্পর্ক আছে। তার পরই ২০১৬-র আগস্ট মাসে তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তখন মিস্টিরা ডানকানে বসবাস করছে।

প্যাট্রিসিয়া এই তদন্তকারী আর মানব পরিষেবা বিভাগকে জানায়, তার আগের পক্ষে তিন ছেলেমেয়ে আছে। তাদের মধ্যে এক জন মেয়ে, সেই হল মিস্টি আর দু’জন ছেলে। সে তাদের ওপর অভিভাবকত্ব হারায়। তার পর লম্বা সময় কোনো যোগাযোগ ছিল না। দু’ বছর আগে মিস্টির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সেটাই শুরু। বর্তমানে তাদের অভিভাবক তাদের ঠাকুমা।

প্যাট্রিসিয়া আরও বলে, সে আইন ভালোই জানে। তার আর মিস্টির বিয়ে মোটেই আইনবিরুদ্ধ নয়। কারণ জন্ম সার্টিফিকেটে জন্মদাতৃর নামের জায়গায় তার নাম নেই। তারা এক পদবিও ব্যবহার করে না। সে প্যাট্রিসিয়া অ্যান ক্লেটন নামে পরিচিত।

মজার ব্যাপার অবশ্য, আংশিক ভাবে প্যাট্রিসিয়ার এই কথা সত্য প্রমাণ হয়ে যায়। পুলিশ মিস্টির জন্ম তথ্য যাচাই করে দেখেছে। সেখানে এক জায়গায় জন্মদাতৃর নামের জায়গায় ঠাকুমার নাম লেখা আছে। পুলিশের ধারণা অভিভাবকত্ব বদলের পর এই পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের মূল সার্টিফিকেটে প্যাট্রিসিয়ার নাম আছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে প্যাট্রিসিয়া তার ১৮ বছরের ছেলেকে বিয়ে করেছিল। পরে ২০১০ সালের মার্চ মাসে তার ছেলে এই সম্পর্কে থেকে বেরিয়ে আসে। সম্পর্কটাকে ব্যভিচার বলে আখ্যা দেয়।

প্যাট্রিসিয়া আর মিস্টির এই বিয়েকে জেলা আদালত বাতিল ঘোষণা করেছে। আদালত জানিয়েছে, প্যাট্রিসিয়া প্ররোচনা করে তার মেয়েকে বৈবাহিক সম্পর্কে টেনে এনেছে। এখানে ব্যভিচারের সাজা ১০ বছর। তবে মিস্টি দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তার সাজা মুলতবি করা হয়। কিন্তু আগামী দু’ বছর তাকে আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। আর জানুয়ারি মাসে প্যাট্রিসিয়াকে আদালতে তোলা হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here