ওয়েবডেস্ক: দার্জিলিং-এর সর্বনাশে নেপালের পৌষমাস। বন্‌ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দার্জিলিং-এর চা শিল্পে ক্রমশ ভাগ বসাতে শুরু করেছে নেপাল। স্বাদে এবং গন্ধে যা দার্জিলিং চায়েরই সমতুল্য।

দার্জিলিং-এর আবহাওয়ার মিল হওয়ায় দুই অঞ্চলের চায়ের খুব একটা তফাত নেই। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা বন্‌ধের সুযোগে বাঙালির কাপে জায়গা করে নিয়েছে নেপালের চা। কারণ এই দার্জিলিং-এর ৮৭টি চা-বাগানে ওই বন্‌ধের সময়ে কোনো কাজই হয়নি।

শিলিগুড়ির চা ব্যবসায়ী অনিল বনসল বলেন, “বন্‌ধের প্রভাবে দার্জিলিং-এর চা শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই সুযোগে বাজারে ঢুকে পড়েছে নেপালি চা।” বন্‌ধের সময়ে দার্জিলিং-এর বিভিন্ন চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা নেপালের চা বাগানের উদ্দেশে পাড়ি জমান। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে বন্‌ধ উঠে গেলেও শ্রমিকরা আর ফিরে আসেননি।

নেপালে যে চা উৎপাদন হয়, তার বেশির ভাগই চলে আসে ভারতের বাজারে। দার্জিলিং চা সংগঠনের চেয়ারম্যান বিনোদ মোহন বলেন, “নেপাল বছরে যদি ৪৫ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন করে, তা হলে মাত্র পাঁচ লক্ষ কেজি নিজেরা গ্রহণ করে, বাকি চল্লিশ লক্ষ কেজি চলে আসে ভারতে।”

নেপালের সঙ্গে ভারতের ‘ফ্রি ট্রেড এগিমেন্ট’ থাকার ফলে ভারতের বাজারে সেই চায়ের প্রবেশে কোনো বাধা নেই।

নেপাল টি অ্যান্ড কফি প্ল্যান্টেশনের তরফ থেকে জানা গিয়েছে ২০১৫-২০১৬ বর্ষে দার্জিলিং-এ উৎপাদিত হয়েছিল ৮৫ লক্ষ কেজি চা, অন্য দিকে নেপালে হয়েছিল ৫৫ লক্ষ কেজি। তার পরই দার্জিলিং-এ বন্‌ধ শুরু হয়। সুতরাং ২০১৭-১৮ বর্ষে উৎপাদনের হিসেবে দার্জিলিংকে ছাপিয়ে যেতে পারে নেপাল।

আরেকটা ব্যাপার যেটা দার্জিলিং-এর চায়ের পরিপন্থী হয়ে উঠতে পারে, তা হল চা চাষের জমি। ক্রমশ বেশি বেশি জমিকে চা উৎপাদনের উপযোগী করে তুলছে নেপাল। অন্য দিকে দার্জিলিং-এ নতুন জমি আর নেই।

ডিটিএ চেয়ারম্যান যদিও বলেন, “দার্জিলিং চায়ের সঙ্গে কিছুর তুলনা চলে না। সস্তায় বিক্রি হওয়া নকল দার্জিলিং চা, আমাদের প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।” টি-বোর্ডকেও এই ‘নকল’ চা রফতানির ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিউ ইয়র্কের চা ব্যবসায়ী নীরজ লামা বলেন, “গত দশ বছরে বিশ্ব বাজারে ক্রমশ প্রভাব ফেলছে নেপালি চা।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here