jalpaiguri super speciality hospital

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: তৃণমূল নেতার অনুরোধে কুকুরের ডায়ালিসিস হতে হতেও হয়নি রাজ্যের এক সরকারি হাসপাতালে। বছর দুয়েক আগের ঘটনা। সেই ঘটনা তুমুল আলোড়ন ফেলেছিল দেশ জুড়ে।

এ বার আরেক তৃণমূল নেতার ফোন পেয়ে মৃত ঘোষিত শিশুকন্যার দেহ নিয়ে এসে ফের চিকিৎসা করলেন চিকিৎসক। জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ঘটনা। এ দিকে ওই শিশুর মৃত্যুতে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে রবিবার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তারা বাবা।

জলপাইগুড়ির বারোপাটিয়া-নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েতের নাথুয়ার চরে বাড়ি পেশায় কৃষক বিদ্যুৎ দাসের। শনিবার বিকেলে খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায় তার ১৯ মাসের মেয়ে বর্ষা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু পরীক্ষা করে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রবিবার মর্গে পাঠানো হবে জানিয়ে মৃতদেহ রাখার ঘরের রেখে দেওয়া হয় বর্ষার দেহ।

কিন্তু তার ফুটফুটে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে, এ কথা মেনে নিতে পারেন বর্ষার পরিবার। তাদের বিশ্বাস ঠিকমতো চিকিৎসা না করেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। এর পরেই শিশুর বাবা ফোন করেন তৃণমূল নেতা এবং বারোপাটিয়া-নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কৃষ্ণ দাসকে। কৃষ্ণ দাস আবার জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্যও। তিনি সরাসরি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সহ হাসপাতালের পদস্থ কর্তাদের ফোন করেন। তাঁর ‘অনুরোধ’ ছিল, বাবা-মায়ের সান্ত্বনার জন্য শিশুকন্যার  আরও একবার চিকিৎসা করা হোক। ঘণ্টা দুয়েক পর দেহ রাখার ঘর থেকে ফের শিশুটির দেহ নিয়ে আসা হয় ওয়ার্ডে। শিশুটির বাবা বিদ্যুৎ দাসের দাবি, লাগানো হয় অক্সিজেনের নলও। আধ ঘণ্টা সেই ভাবে রেখে ফের জানানো হয় শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। দেহটি আবার মৃতদেহ রাখার ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই তৈরি হয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে, হাসপাতালের নিয়ম কানুন নিয়েও। যেখানে চিকিৎসক নিজেই পরীক্ষা করে একবার মৃত ঘোষণা করেছেন, তিনি ফের কেন মৃতদেহ চিকিৎসার জন্য বের করে আনলেন? প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি নিজের চিকিৎসা নিয়েই সন্দিহান ছিলেন ওই চিকিৎসক? নাকি তৃণমূল নেতার ‘অনুরোধ’ তামিল করতেই এই রকম একটা অঘটন ঘটালেন? এখনও পাওয়া যায়নি এই প্রশ্নের উত্তর।

krishna das
তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস।

যদিও ওই তৃনমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের সাফাই, জনপ্রতিনিধি হওয়ার দরুন তার কাছে নানা রকম অনুরোধ আসে। পীড়িত বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতেই তিনি ওই অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু এই অনুরোধ কতটা যুক্তিসংগত বা আইনসম্মত? উত্তর মেলেনি তারও।

তবে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। রবিবার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার জানিয়েছেন, একজন ডেপুটি সিএমওএইচ এর তত্ত্বাবধানে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তারাই ঘটনার তদন্ত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবেন। তার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যদিও চিকিৎসকের পরিচয় প্রকাশ করতে চায়নি স্বাস্থ্য দফতর।

এ দিকে আজ,রবিবার শিশুকন্যার বাবা কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতিতেই তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম বারেই যদি সঠিক চিকিৎসা হত তা হলে সে বেঁচে যেত, দাবি বিদ্যুৎ দাসের। সেই অভিযোগেরও তদন্ত করবে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি, জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। আজ ময়নাতদন্তের পর দেহ শিশুর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তবে তদন্ত ও তার পদক্ষেপ যাই হোক না কেন, নেতা-বাবুদের অনুরোধ উপরোধের ঢেঁকি গেলার প্রবণতা এই সরকারি কর্মচারীদের কবে শেষ হবে তার সদুত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here