national flag at fuliya

নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: আট কেজির বড়ো রসগোল্লা থেকে প্রায় তিন কিমি রাস্তা জুড়ে আঁকা আলপনা – গত মাস তিনেকের মধ্যে সবই দেখেছে নদিয়া। এ বার সেই জুনিয়র ওয়ানহান্ড্রেড ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বৃহত্তম জাতীয় পতাকা। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে নদিয়ার ফুলিয়ায় উড়ল সেই বৃহত্তম জাতীয় পতাকা।

প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে শীতের আমেজ গায়ে মেখে কুয়াশার আস্তরণ সরিয়ে তখন সবে আড়মোড়া ভাঙা শুরু করেছে ফুলিয়ার মানুষ। শান্তিপুর থানার সেই ফুলিয়ায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাঠে এই পতাকা উত্তোলিত হল শুক্রবার সকালে। এই পতাকা দৈর্ঘ্যে ১২১.৫ ফুট ও প্রস্থে ৮১ ফুট। সব মিলিয়ে পতাকার ওজন প্রায় ৬৫ কেজির মতো। বাবুরাম বিশ্বাস নামে এলাকার এক সূচিজীবী এই পতাকা সেলাইয়ের কাজ করেছেন। প্রায় এক মাস সময় লেগেছে এই পতাকা তৈরিতে। পতাকা উত্তোলনের জন্য তৈরি হয়েছে ১৮২.৬ ফুট উচুঁ বাঁশের কাঠামো। এর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে ২৫৭৮টি বাঁশ। এই কাঠামো তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।

imagine the size of the flagকপিকলের সাহায্যে এই পতাকা উত্তোলন করা হয়। শুক্রবার সকালে এই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নদিয়ার ধুবুলিয়ার বাসিন্দা ৯৬ বছরের প্রবীণ স্বাধীনতাসংগ্রামী রমেন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এখানে এসে ভালো লাগছে। এত মানুষ জড়ো হয়েছেন দেশের জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানাতে। এটা দেখেই ভালো লাগছে খুব। দেশ আর দেশের পতাকাকে উচ্চে তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের সকলেরই। দেশ গঠনে এ ভাবেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার সকাল থেকেই মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন মাঠে। ৮টা ২৫ মিনিট নাগাদ উত্তোলিত হল জাতীয় পতাকা। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সুর মেলালেন সকলেই। ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করল শিশুশিল্পীরা। আট্টারি সীমান্তে উত্তোলিত জাতীয় পতাকার থেকেও আয়তনে এটি বড়ো বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। ইতিমধ্যে তারা লিমকা বুক অফ রেকর্ডসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

উদ্যোক্তাদের কথায়, দেশ আর দেশের পতাকাকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ। সংস্থার সদস্য অভিনব বসাক বলেন, “দেশ আর জাতীয় পতাকার সম্মান সবার সামনে তুলে ধরতে চাই আমরা। একই সঙ্গে বাংলার নাম উজ্জ্বল করতে চাই আমরা। এই বৃহত্তম পতাকা কোনো সংগ্রহশালায় মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ করার ইচ্ছা আছে আমাদের।” উল্লেখ্য, এর আগে এই সংস্থার উদ্যোগে প্রায় তিন কিমি রাস্তা জুড়ে আলপনা আঁকা হয়েছিল। তৈরি হয়েছে আট কেজির রসগোল্লা। এ বার তাঁদের উদ্যোগে উত্তোলিত হল বৃহত্তম জাতীয় পতাকা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here