কলকাতা:  পাঁচ দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিলেন মহিলা। শরীর এতই দুর্বল, উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও নেই। মুখের ওপর ভনভন করছে মাছি। না, কলকাতার কোনো বস্তি কিংবা গলিঘুপচি নয়।  মহম্মদ আলি পার্কের সামনের রাস্তায় টানা পাঁচ দিন ধরে কাতরাচ্ছিলেন মহিলা। গত পাঁচ দিনে কম করে কয়েক লক্ষ লোক যাওয়া-আসা করেছে চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউ দিয়ে। কারোর চোখেই পড়ল না ঘটনাটা? চোখে নিশ্চয়ই পড়েছে, তবে ব্যস্ততার জীবন থেকে সময় বের করে আজকাল আর নিজে থেকে ঝামেলায় জড়াতে চান না কলকাতাবাসী।

পাশেই সেন্টাল অ্যাভেনিউ দমকলকেন্দ্র। সেখান থেকেও এগিয়ে আসেনি কেউ। গাড়ি করে লালবাজার যাওয়ার পথে ঘটনাটি চোখে পড়ে যায় জোড়াসাঁকো থানার সাব ইন্সপেক্টার সুরজিৎ ভট্টাচার্যের। গাড়িতে তুলে নেন অসুস্থ মহিলাকে। থানার ওসি অমিত রক্ষিতকে ফোন করে ঘটনার বিবরণ দেওয়ার পর ওসির নির্দেশেই সুরজিৎবাবু মহিলাকে নিয়ে যান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো থেকে ওষুধ কেনা, সব একাই করলেন সুরজিৎবাবু। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মহিলা পুরোপুরি সুস্থ না হলেও প্রাথমিক ভাবে বিপদমুক্ত।  

জোড়াসাঁকো থানার ওসি বললেন, “এখনও এই মহিলার নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। তবে তদন্ত শুরু হয়েছে। সুস্থ হয়ে নাম ঠিকানা জানালে আমাদের থানার তরফেই তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে”।

আর কী বলছেন সাব ইন্সপেক্টার সুরজিৎবাবু ? খুব বেশি কিছু বলেননি তিনি।“এটা আমার কাজ। কাজের বাইরে কিছু করিনি’’।

রাস্তায় কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে গেলে, তাকে সাহায্য করা, একটু খাওয়ার জল এগিয়ে দেওয়া, হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা না থাকলে নিদেনপক্ষে আর পাঁচটা লোককে জড়ো করা, এ সব তো নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব সুরজিৎ বাবু! মহানগরের যান্ত্রিক জীবন রোজ একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে সহানুভূতির সব রঙ।  

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here