tajmahal adoption

নয়াদিল্লি: তাজমহল নিয়ে উলটোপালটা মন্তব্য থেকে রাজনীতিবিদের বিরত থাকার পরামর্শ দিল অখিল ভারতীয় ইতিহাস সংকলন যোজনা (এবিআইএসওয়াই)। উলেখ্য, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একটি শাখা সংগঠন এই এবিআইএসওয়াই। জাতীয় পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের ইতিহাস নতুন করে লেখার পক্ষে ওকালতি করে এই সংগঠন।

আরও পড়ুন: ‘তাজমহল আমাদের ঐতিহ্যের অঙ্গ’, ঢোক গিললেন যোগী

হিন্দুদের মুছে ফেলতে চেয়েছিল, এমন এক জন তাজমহল তৈরি করেছেন, এই মন্তব্য করে বেশ আলোড়ন তুলেছেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সংগীত সোম। তাঁর এই মন্তব্যে বিপুল সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তাঁর এই মন্তব্যের ঠিক আগে উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের পুস্তিকায় তাজমহলের নাম বাদ পড়ায় এক দফা বিতর্কের ঝড় ওঠে। তার পরে পরেই সংগীতের এই মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।

ইউনেস্কোর সংরক্ষিত এই স্মারকসৌধ দেখতে বছরে ৮০ লক্ষেরও বেশি পর্যটক বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসেন। শাসকদল বিজেপি বুঝতে পেরেছে, তাদের বিভিন্ন নেতার তাজমহল সম্পর্কে এই মনোভাব যদি পৃথিবী জুড়ে চাউর হয়ে যায়, তা হলে তাদের ভাবমূর্তিতে যেমন কলঙ্ক লাগবে, তেমনই তাজমহল সম্পর্কে সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হতে পারে। তাতে আখেরে আর্থিক ক্ষতি হবে অনেক বেশি।

তাই বিজেপি নানা ভাবে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে। সেই কাজ করতে এ বার মাঠে নামল এবিআইএসওয়াই। সংগঠনের সেক্রেটারি বালমুকুন্দ পাণ্ডে হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছেন, “রাজনীতিবিদরা ইতিহাস লেখেন না। এটা ইতিহাসবিদ ও পুরাতত্ত্ববিদদের কাজ। তাঁরা নানা গবেষণা করে এই কাজ করেন। এই কাজ তাঁদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাজমহলের ইতিহাস নিয়ে রাজনীতিবিদদের মন্তব্য করা উচিত নয়। ভারতীয়রাই কঠিন পরিশ্রম করে এই সৌধটি বানিয়েছেন।”

ভারতীয় শাসকদের তালিকায় ‘শেষ হিন্দু রাজা’ হেমচন্দ্রের মতো ‘ভারতীয় নায়কদের’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য লড়াই চালাচ্ছেন আরএসএস-এর এই অন্যতম কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তাজমহলকে শুধু মুঘল স্থাপত্য বলে উড়িয়ে দিলে চলবে না। “এটা একটা শিল্পকর্ম, পর্যটকদের কাছে বিপুল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কে বানিয়েছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হল এটা ভারতের একটা জনপ্রিয় গন্তব্য।”

আরও পড়ুন: তাজমহল কি আদতে শিবমন্দির? সরকারকে স্পষ্ট বক্তব্য জানাতে বলল তথ্য কমিশন

তাজমহল যে আদতে হিন্দু সৌধ ছিল, এর স্বপক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করার জন্য এর বেসমেন্ট খুলে দেওয়ার জন্য বহু বিজেপি এবং আরএসএস সমর্থক ওকালতি করছেন। বালমুকুন্দ কিন্তু ঘুরিয়ে সেই প্রসঙ্গ আবার তুলেছেন।

তিনি বলেন, “ইতিহাস চরম সত্য নয়। আরও গবেষণা করার সুযোগ সব সময়েই থাকে। তবে এটা করার জন্য বৈজ্ঞানিক পথ আছে। এই স্মারকসৌধ সম্পর্কে আরও গবেষণা করার জন্য ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ, ইউনেস্কো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, বিশেষ এক্স রে ব্যবহার করতে পারে।”

আরও পড়ুন: তাজমহল একটি সমাধি, কোনো মন্দির নয়, প্রথম বার আদালতে বলল এএসআই

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here