নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। সকালের ঝলমলে ব্লেজার দুপুর গড়াতেই বদলে গেল লাল ব্লাউজ আর মুগা রঙা মেখলা-চাদরে। কামাখ্যার সেই পুজারিনী আবার বিকেলের পাঁচ তারা জমায়েতে অফ হোয়াইটের উপরে জরির কাজ করা টু-পিস গাউনে যথারীতি গ্ল্যামার-কুইন। শুধু রূপেই নয়, তির্যক প্রশ্নের চৌখস জবাবেও প্রিয়ঙ্কা চোপড়া বুঝিয়ে দিলেন অসম পর্যটনের দূত হিসেবে তাঁকে বেছে নিয়ে কোনো ভুল করেনি রাজ্য সরকার।

তাঁর নাম ঘোষণা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। অসমের বিখ্যাত কোনো ব্যক্তি না হয়ে কেন প্রিয়াঙ্কা, সে ব্যাপারেও কম প্রশ্ন ওঠেনি। সে সব জটিলতা কাটিয়ে উঠে, এ দিন সরকারি ভাবে গুয়াহাটির একটি হোটেলে অসম পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর হিসেবে প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার নাম ঘোষণা করলেন পর্যটনমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। প্রিয়ঙ্কা জানালেন, আজ থেকে তিনি অসমেরও নাগরিক। গোটা অনুষ্ঠানে, প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রিয়ঙ্কার মুখে ‘আমাদের অসম’ সব বিতর্ককে ব্যাকফুটে ঠেল দেয়।

priyanks

প্রিয়ঙ্কা সকালে চার্টার্ড বিমানে মুম্বই থেকে গুয়াহাটি আসেন। সেখানে পৌঁছেই তাঁর প্রথম গন্তব্য ছিল কামাখ্যা মন্দির। প্রিয়ঙ্কাকে এক ঝলক দেখতে তখন উপচে পড়ছে ভিড়। কামাখ্যায় পুজো দিয়ে প্রিয়ঙ্কা জানান, ভিতরে এক অন্য রকমের শক্তির উৎস্রোত অনুভব করছেন।

proyanka

বিকেলে পর্যটন সমাবেশের প্রথমে মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা প্রিয়ঙ্কাকে পর্যটন দূত হিসেবে ঘোষণা করেন। অসমে আসা দেশ-বিদেশের পর্যটন সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রিয়ঙ্কা। হিমন্ত ঘোষণা করেন, পরের বছর পর্যটন বিকাশে ৪৬০ কোটি টাকা খরচ করবে রাজ্য। বিশেষ জোর দেওয়া হবে গ্রামীণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং হোম স্টে-র বিকাশে। পর্যটনকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন পর্যটন নীতির পাশাপাশি, বাড়িতে অতিথি রাখার প্রথা জনপ্রিয় করতে ‘আমার আলহি’ প্রকল্পও হাতে নিচ্ছে অসম সরকার।

প্রিয়ঙ্কা বলেন, “অসমে না জন্মাতে পারি, কিন্তু আমি একজন গর্বিত ভারতবাসী। আর অসম তার ধর্মীয়, প্রাকৃতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্নতা নিয়ে একেবারে ছোটো এক ভারত। সেই রাজ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার ভার এখন আমার ওপর। তাই আমার দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল আজ থেকে।” গত বছর গুয়াহাটি এসেছিলেন মেরি কম ছবির প্রচারে। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রিয়ঙ্কা বলেন, “মেরি কমের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রে মণিপুরকে চিনেছিলাম। আজ থেকে কামাখ্যার আশীর্বাদ নিয়ে অসমে ঘুরে বেড়ানো শুরু। চেনা শুরু।”

প্রশ্ন ছুটে আসে, হলিউডে এত ব্যস্ত যে বলিউডকেই সময় দিতে পারেন না।

হলিউড-বলিউড নিয়ে ব্যস্ত থাকা প্রিয়ঙ্কা কি আদৌ অসমের জন্য সময় দিতে পারবেন, সে প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনও দায়িত্ব নিয়ে ১০০ শতাংশ পালন করিনি, আমার বিরুদ্ধে তেমন অভিযোগ নেই। অসমের দায়িত্ব যখন নিয়েছি, বিশ্বের সর্বত্র তার হয়ে গলা ফাটাব।” সন্ত্রাস প্রসঙ্গে প্রিয়ঙ্কা বলেন, “সন্ত্রাস-সমস্যা সব রাজ্যে, সব দেশেই থাকে। কিন্তু তার মধ্য থেকেই সুন্দরকে খুঁজে বের করে তুলে ধরতে হয়। দূত হিসেবে সেটাই আমি করব আর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।”

ps

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকের পরে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ মুম্বই ফিরে যান তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here