Vijay Diwas

আগরতলা: শ্রীপল্লি গ্রামের ডুকরা এলাকার কেউ জানেই না সেই ঐতিহাসিক দিন আর মৃত্যুর কথা। ল্যান্সনায়েক অ্যালবার্ট এক্কা হলেন ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের শ্রেষ্ঠ নায়ক। এই যুদ্ধে তাঁর বীরত্বের জন্য তাঁকে মরণোত্তর পরমবীরচক্র দেওয়া হয়েছিল। ৪৭ বছর আগের ঘটনা। ৩ আর ৪ ডিসেম্বর। সে দিন তিনি মাত্র ১৪ জন সহযোগীকে নিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। রক্ষা করেছিলেন আগরতলাকে। বর্তমানে এলাকার সকলেই ভাসা ভাসা কিছু জানেন ওই ঘটনা আর এক্কার ব্যাপারে। কিন্তু মৃত্যুদিন কবে তা ছিল অজানা। তাই অবশেষে ৪৭ বছর পর শ্রীপল্লির ডুকলি গ্রামে সেই জায়গায় স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলা হল। ৭৫ বছরের ভুবন দাস কিছু স্থানীয় মানুষ আর এলাকার সৈনিকদের সাহায্যে একটি স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলেন। প্রসঙ্গত মৃত্যুদিবসের সকালে লিচুবাগান এলাকার অ্যালবার্ট এক্কা পার্কে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বিধায়ক দীলিপ দাস।

এক্কা জন্মেছিলেন ১৯৪২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। খ্রিস্টান পরিবারের মানুষ তিনি। বাড়ি বর্তমান ঝাড়খণ্ডের জারি গ্রামে। ২০ বছর বয়সে বিহার রেজিমেন্টে যোগ দেন। ২০১৬ সালে এক্কার পরিবার ডুকলি গ্রামের সেই জায়গায় এসেছিল। সেখানকার মাটি সংগ্রহ করে। তখনই বিষয়টি জানতে পারেন সবাই।

Lance Naik Albert Ekka

৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সেই রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধ হয়। পাক সৈন্যরা অতর্কিতে আগরতলা আক্রমণ করে। আগরতলা থেকে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে গঙ্গাসাগর রেলস্টেশনের কাছে এই যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ হয় ভারতীয় সেনার ১৪ গার্ড রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে পাক সেনার। তৎকালীন ভারত-পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তের কাছে এটি ছিল সব থেকে নিকটবর্তী রাজধানী। বাঙলা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাগারও বলা যায় একে। কারণ সেই সময়ে দু’ বার ঘুরে গিয়েছেন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমন। ফলে এই জায়গাটিকে দখল করতে পারলে পাকিস্তানের পক্ষে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাওয়া সহজ হত। পাকিস্তানের সেই আগ্রাসন আর অধীনতা থেকে দেশকে বলা ভালো আগরতলাকে রক্ষা করেছে এক্কা আর তাঁর ১৪ জন সঙ্গীর প্রাণপণ করা এই লড়াই।

 

দুঃখের বিষয় হল এত ঘটনা অজানা এলাকার বেশির ভাগ বাসিন্দাদের কাছেই। ডুকলি গ্রামের বাসিন্দা দীপঙ্কর সরকার বলেন, এখানে সে দিন এক্কা আর তাঁর দলবল মিলে কী কাণ্ড করেছিলেন। দিনটা মনে করতে না পারলেও কিছুটা তো মনে আছেই। বাসিন্দা শান্তি দাস ঘটনাটি জানলেও দিনক্ষণ শহিদের নাম ইত্যাদি কিছুই জানেন না। এমনকি কার স্মৃতিসৌধ তা-ও জানেন না।

কিন্তু বলতে পারলেন সমীর দেব। দিনক্ষণ, ঘটনা, শহিদদের নাম পুঙ্খানুপুঙ্খ বলে গেলেন তিনি। তিনি বলেন স্থানীয়দের, বয়স্কদের এই ব্যাপারে এগিয়ে আসা উচিত।

Vijay Diwas

ভুবন দাস বলেন, যে দিন এক্কা আর বাকি দশ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছিল সে দিন তিনি সামনেই ছিলেন। তখন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ একটি সংস্থায় কর্মী হিসাবে কাজ করতেন। সে দিন পাক সেনাদের ভয়ে কেউই সামনে আসেননি। তিনি বলেন, এক্কার মতো মহান সৈনিককে উপযুক্ত সম্মান জানানো উচিত। ত্রিপুরার ইতিহাসে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র।

অন্য এক জন বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র দাস। স্মৃতিসৌধের পাশেই তিনি বাড়ি করেছেন। বলেন, তিনি জানতেন না কে কেন কী হয়েছিল এখানে ইত্যাদি। পরে যখন এক্কার পরিবার এসে তাঁর বাড়ির এলাকা থেকে মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে গেলেন তখনই জানতে পারেন। গোটা ঘটনাটি জেনে তিনি খুবই গর্বিত।

উল্লেখ্য ৩ তারিখের ওই সংঘর্ষে শহিদ হয়েছিলেন যে ১১ জন জওয়ান, তাঁরা হলেন ল্যান্সনায়েক এক্কা, গুলাব সিংহ, কাশীনাথ শাহু, ডেভিড তিজ্ঞা, মালকিয়াত সিংহ, উধো সিংহ, রামদেও সাহিন, কেশর দেব, ডাল সিংহ, জোশেপ টপনো, শিবনারায়ণ, দুর্গা প্রসাদ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here