সঞ্জয় কীর্তনিয়া ও নুর এ আলম ফকির

গালিব ইসলাম:

আড্ডা গল্প গান। জীবনের নানা কথা। শিল্পী হওয়ার জন্য নয়। ফকিরি গানের মূলে সমন্বিত সংস্কৃতির ধারা। এক দিন তা-ই টেনেছিল কিশোর নুরকে। তখন কত আর বয়স বছর সাতেক হবে।

আজকের জনপ্রিয় বাউল মনসুর ফকিরের হাত ধরে মহাজীবনের পথে চলা শুরু, গড়িয়ায় অনুষ্ঠানের আগে বলছিলেন গল্পের ছলে নুর।

সে দিন গড়িয়ায় বসেছিল বাউল ফকিরি কীর্তন গানের আসর। তারই ফাঁকে কথা হচ্ছিল শিল্পীদের সঙ্গে।

নদিয়া জেলার করিমপুরের গোরভাঙা গ্রামে জন্ম নুর ফকিরের। নদিয়া জেলা নিয়ে এই প্রতিশ্রুতিবান তরুণ বাউলের শ্লাঘার শেষ নেই। বড়ো দুই গুরু ফকির আজহার ও ফকির সামসুদ্দিন সম্প্রতি গত হয়েছেন। আজহার ফকির ছিলেন এক জন বড় পদকর্তাও, এটা হয়তো অনেকেই জানেন না।

নুর এ আলমের ফকিরি ধারায় আর এক জনের নাম বাংলা শুধু নয়, সম্প্রতি বিশ্বও জেনেছেন। তিনি হলেন কৃতবিদ্য বাউল মনসুর ফকির। মনসুর ফকিরকে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিল বাউলবন্ধু মৃণাল বিশ্বাস। এ দিনও নুর এ আলমের সঙ্গে আমার আলাপচারিতার মহাসূত্র সেই মৃণাল। মৃণাল বলল, নুর আলমের সম্প্রতি প্রকাশিত অ্যালবাম

বাংলা কাওয়ালি। নতুন পরীক্ষা, বলা যেতে পারে। কবি কাজী নজরুলের পর বাংলায় এই ধরনের কাজের ডেভেলপমেন্ট হয়নি।

তবে করিমপুরের মাঝবয়সি এই শিল্পী নুর অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল মহাত্মা লালন সাঁইজিতেই। ফকিরি মারফতি আত্মতত্ত্বের যে অপার মহিমা ও মহত্ব তিনি খুঁজে পেয়েছেন, তার প্রচার, তার সাধনাই তাঁর কাছে অনেক বড়ো। গুরু আজহার ফকির থেকে মনসুর ফকির, সামসুদ্দিন ফকির, গোলাম ফকির, খৈরব ফকির — এই ধারাবাহিকতায় নিজে থাকতে পারছেন বলে বেশ আত্মতৃপ্ত, বোঝা গেল ফকির নুর-এর কথায়।

নুর বললেন, বাংলায় মুসলমান ফকির বাউলদের ওপর মুসলমান মৌলবাদীরা আক্রমণ চালিয়েছে। কিন্তু শুভবোধের জয় হয়। আমরা গান নিয়েই টিকে আছি। বাংলা বা ভারত আমাদের চোখে নানা ভাষা নানা মতের দেশ। নানা ভাব নানা রঙের এক সঙ্গে থাকার দেশ।

নুরের পরে কথা হল সঞ্জয় কীর্তনিয়ার সঙ্গে।  

রামনবমীতে ঘটা করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রামনাম হয় কিনা জানা নেই এ দিনের সহশিল্পী সঞ্জয় কীর্তনিয়ারও।

সঞ্জয় এসেছেন বর্ধমানের কালনা থেকে। তিরিশোর্ধ্ব এই শিল্পীর বিশ্বাস, সুর থাকবে, সুরে সুরে বন্ধন থাকবে। রাজনৈতিক কূটক্যাচাল চিরস্থায়ী হবে না, এ বিশ্বাস তাঁর আছে।

বাউল ফকির সুফি দরবেশদের সাফ কথা, গেরুয়া কোনো রাজনীতির রঙ নয়। রামও তেমনি রাজনৈতিক আইকনও নন। আরও বিশ্বাস, কোনও অস্ত্র নয়, সুরই সুদূরতা, লক্ষ্যভেদী, বন্ধনজোড়ার একমাত্র পথ।

কবিগুরু হাত দিয়ে নয়, গান দিয়ে দ্বার খোলার কথা বলেছিলেন। নুর আলম কিংবা সঞ্জয়, এঁরাও একই ভাবে সুর দিয়েই মানব বন্ধনে ব্রতী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here