sarpuriya-sarbhaja
srila pramanik
শ্রীলা প্রামাণিক

কৃষ্ণনগরের নাম বলতেই ভোজনরসিকদের মনে প্রথমেই যে নাম আসে তা হল এখানকার সরপুরিয়া ও সরভাজা। ঘুর্নির মাটির পুতুলের মতো এই দুই মিষ্টিও কৃষ্ণনগরের অহংকারের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। সেই মুকুটেই যুক্ত হতে চলেছে নতুন পালক। জিআই রেজিস্ট্রেশনের প্রতীক্ষায় এখন দেশ-বিদেশের মানুষের রসনা তৃপ্ত করা সরপুরিয়া ও সরভাজা।

বছর দেড়েক আগে কৃষ্ণনগরের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তরফে কৃষ্ণনগরের এই দুই মিষ্টির জিআই রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন তারা প্রতীক্ষায়।

আবেদনে সোসাইটির তরফে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া ও সরভাজার ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। শ্রীচৈতন্যদেবের সময়েও এই দুই মিষ্টির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের লেখা ‘শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত’-এ সরপুরি ও সরভাজার উল্লেখ আছে। এই সরপুরিই পরবর্তীকালে সরপুরিয়া নামে খ্যাত হয় বলে জানান তাঁরা। কৃষ্ণনগরের ভুমিপুত্র দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা ‘হাসির গান’ বইয়েও এই দুই মিষ্টির উল্লেখ আছে। এর নাম পাওয়া যায় বিখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর লেখাতেও।

sarpuriya-sarbhaja is being prepared
তৈরি হচ্ছে সরভাজা-সরপুরিয়া।

কৃষ্ণনগরের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহ-সম্পাদক তাপস দাস বলেন, “সরপুরিয়া ও সরভাজার ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের। এই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি আমরা ইতিমধ্যে জমা দিয়েছি জিআই রেজিস্ট্রেশনের জন্য। তাঁরা পরিদর্শন করে গেছেন। অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমরা প্রতীক্ষায়।”

এই রকমই প্রতীক্ষায় আছে কৃষ্ণনগরও। কথিত আছে, শ্রীচৈতন্যদেবের সময়েও সরপুরিয়া ও সরভাজা তৈরি হত, আখের রস জ্বাল দিয়ে তার থেকে চিনি তৈরি করে। সরপুরিয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ছানা, দুধের সর, ক্ষীরের সাথে কাঠবাদাম, পেস্তা, ছোটো এলাচ। সরভাজা তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় দুধের সর, ক্ষীর, চিনি। স্বাদ ও গন্ধের কারণেই এই দুই মিষ্টির খ্যাতি। যার ভুবনভোলানো স্বাদে আকৃষ্ট হয়েছেন আট থেকে আশি। যার খ্যাতি এই রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যত্রও। বিদেশিরাও আকৃষ্ট হয়েছেন এতে।

কথিত আছে, শতাধিক বছর আগে কৃষ্ণনগরের অধর চন্দ্র দাস বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ করে সরপুরিয়া ও সরভাজা তৈরি করতেন। আর তার সুবাস ছেয়ে থাকত আশপাশে। এমনকি সেই সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছির চাক ঘিরে থাকত অধর দাসের বাড়ি। সম্প্রতি জিআই পেয়েছে বাংলার রসগোল্লা। তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নদিয়ার নামও। কয়েক বছর আগে জিআই পেয়েছে শান্তিপুরের শাড়ি। এ বার পালা সরপুরিয়া-সরভাজার। এখন সেই জিআই প্রাপ্তির প্রহর গোনা শুরু।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here