নয়াদিল্লি: গোয়া থেকে কেরল, মহারাষ্ট্র থেকে দিল্লি, আশঙ্কায় ভুগছে আতিথেয়তা শিল্প (হসপিট্যালিটি ইন্ডাস্ট্রি)। তাদের আশঙ্কা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে তাদের ব্যবসা প্রচণ্ড ভাবে মার খাবে। শীর্ষ আদালত শুক্রবার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, শুধু বার আর পাবই নয়, সড়ক থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে যে সব হোটেল-রেস্তোরাঁ আছে, সেখানেও মদ বিক্রি করা চলবে না। দেশ জুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দর ও সড়কের আশেপাশে প্রচুর হোটেল আছে যেখানে শয্যাসংখ্যা অনেক। হোটেল ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের পর ওই সব হোটেলে প্রচুর শয্যা খালি পড়ে থাকবে।

দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এরোসিটিতে ১০টা হোটেল রয়েছে। এগুলো ৮ নম্বর জাতীয় সড়কের ৫০০ মিটারের মধ্যে। এদের আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ে ব্যবসা মার খাবেই। এরোসিটির একটা প্রিমিয়াম হোটেলের এক শীর্ষ স্থানীয় কর্মী বলেন, “এরোসিটিতে সরকার জমি দিয়েছিল বাণিজ্যিক ভাবে কাজে লাগানোর জন্য, বিশেষ করে হোটেল করার জন্য। এখন আদালতের রায়ের প্রভাব ব্যবসায় পড়বেই। আমার মনে হয়, এই সিদ্ধান্তে আসার আগে সরকার এবং বিচার বিভাগের মধ্যে একটা তালমিল থাকা উচিত ছিল। হাইওয়েগুলো তো শহরের মধ্যে দিয়ে গেছে। আমার মনে হয়, তেমন ভাবনাচিন্তা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সামগ্রিক ভাবে আতিথেয়তা শিল্পের ওপর খুব প্রভাব পড়বে।”

“সুপ্রিম কোর্টের এই দৃষ্টিভঙ্গিতে খুবই ব্যথিত হয়েছি। এই ভাবে সব জায়গায় নিষিদ্ধ করে দেওয়াটা শিল্পের পক্ষে খুব ক্ষতিকর। হাইওয়ের ধারে, হাইওয়ের কাছে, বিমানবন্দর, পর্যটককেন্দ্র, শিল্পতালুককে ঘিরে এবং বড়ো বড়ো শহর দিয়ে হাইওয়ে গেছে। আর সেখানে তো প্রচুর হোটেল রয়েছে” — বণিকসভা সিআইআই-এর হসপিট্যালিটি সংক্রান্ত কমিটির প্রধান এবং মাহিন্দ্র হোটেল অ্যান্ড রিসর্টস-এর প্রতিষ্ঠাতা অরুণ নন্দ এ কথা বলেন।

নন্দের প্রশ্ন, এক জন অতিথি যদি হোটেলে থেকে এক গ্লাস বিয়ার বা ওয়াইন খান, তাতে সড়কের নিরাপত্তা কী করে বিঘ্নিত হয়? নন্দ বলেন, “উচিত ছিল, মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা যাতে ট্রাকচালকরা মেনে চলেন সেটা সুনিশ্চিত করা। তা না করে হাইওয়ের কাছে হোটেল-রেস্তোরাঁয় মদ পরিবেশন আর বিক্রির ওপর পুরো নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হল। ব্যাপারটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।”

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে গোয়ায় ৭৮৯টি মদের দোকান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এগুলো খুচরো মদ বিক্রির দোকান এবং সব ক’টাই ৫০০ মিটারের মধ্যে।  এ ছাড়াও ২২৮৯ বার কাম রেস্তোরাঁয় মদের মেনু প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এর মধ্যে ‘ও ককুইরো’র মধ্যে বিশিষ্ট রেস্তোরাঁও  আছে। পরভোরিমে গোয়ার সব চেয়ে বড়ো ও জনপ্রিয় শপিং মলে শনিবার থেকে আর মদ বিক্রি হচ্ছে না।

গোয়া লিকার ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট দত্তপ্রসাদ নেল বলেন, “সব মিলিয়ে ৩২১০টি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পররিকরের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হস্তক্ষেপ চেয়েছি। আবগারি দফতর কাক-ওড়ার হিসাবে দূরত্ব মেপেছে। কিন্তু ড্রাইভার তো ওই ভাবে যাবে না। যে রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায়, সে ভাবেই যাবে। আমরা আবগারি দফতরকে আবার মাপতে বলেছি। তা হলে হয়তো হাজারখানেক ইউনিটকে বাঁচানো যাবে।”

ইন্ডিয়ান হোটেলস অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, কেরলে সাড়ে আটশো বিয়ার ও ওয়াইন পার্লারের মধ্যে ৭০০ বন্ধ হওয়ার মুখে। রাজ্যের ৩২টি পাঁচতারা হোটেলের মধ্যে মাত্র ৫টি মদ বিক্রি করতে পারবে। মহারাষ্ট্রে সাড়ে ১৫ হাজার প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার বার কাম রেস্তোরাঁ। ঠিক একই ভাবে রাজস্থানে সড়কের ধারে অবস্থিত ২৮০০ মদের দোকান বড়ো রকম ক্ষতির মুখে পড়বে।  

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here