seminar organised by cjc
smita das
স্মিতা দাস

কমিটি ফর প্রোটেকশন ফর জার্নালিস্টস-এর তথ্য বলছে বিশ্বে গত ২৫ বছরে ১২৬২ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যুর কারণ জানা নেই, বাকিদের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট। নিখোঁজ সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় পাঁচশো। এই হিসেব ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ভারতে ১৪২ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। নিরুদ্দেশ হয়েছেন ২৫ জন। এঁদের মধ্যে ৪৬% রাজনৈতিক খবর করতেন আর ২০% দুর্নীতির খবরাখবর করতেন।

১৭ নভেম্বর আমাদের দেশে পালিত হয় জাতীয় সাংবাদিকতা দিবস। শুক্রবার এই উপলক্ষে ‘আক্রান্ত সংবাদজগৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করেছিল ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাব। সঞ্চালনার দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের উপরোক্ত পরিসংখ্যান দিয়ে সেমিনারের সূত্রপাত করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক জীবানন্দ বসু। জীবানন্দবাবু এই প্রসঙ্গে গৌরী লঙ্কেশ, শান্তনু ভৌমিক ও কেজে সিং-এর খুনের উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট সাংবাদিক স্নেহাশিস সুর বলেন, সাংবাদিকদের নানা রকম চাপের মুখে কাজ করতে হয়। সত্য উদঘাটন করতে গেলে অনেক সময় নিগৃহীত হতে হয়। খুন হতে হয়। অনেক সময় মাফিয়াদের রোষে পড়তে হয়। কখনও রাষ্ট্রের রোষেও পড়তে হয়। এটা যেমন কাম্য নয় তেমনই সাংবাদিকদেরও কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্ব থেকে যায় এবং তা হল তথ্যের সত্যতা যাচাই। সাংবাদিকদের সেই দায়িত্বজ্ঞানহীনতাটাও কাম্য নয়। সে ক্ষেত্রেও প্রতিহিংসার কারণে বলি হতে হয় অনেক সাংবাদিককে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য হুইসেল ব্লোয়ার বিল পাস করার চেষ্টা চলছে অনেক দিন ধরেই। কিন্তু তা এখনও হয়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, তলোয়ারের থেকে কলমের জোর বেশি। তাই সব রকম প্রতিবাদে, সমালোচনায় কলমগুলোকে এক জোট হয়ে থাকতে হবে। জনমত তৈরি করতে হবে। তবেই পরিস্থিতির বদল আনা সম্ভব হবে।

বাংলা সংবাদপত্রের প্রায় উন্মেষকাল থেকেই যে সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ হয়ে আসছে সেই প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র। তিনি বলেন, এ জিনিস মোটেই কাম্য নয়। কিন্তু এ থেকে কী ভাবে বেরিয়ে এসে ভয়মুক্ত মনে কাজ করা যাবে তা তাঁর জানা নেই। তবে এ প্রসঙ্গে তিনিও মনে করিয়ে দেন, সাংবাদিকদের সংবাদ করার ক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্ববোধ ভুললে চলবে না।

বিশিষ্ট সাংবাদিক অভীক দত্ত মনে করেন, এক জন সাংবাদিক খুন হওয়ার থেকেও তাঁর বড়ো মৃত্যু হল নিজের স্বাধীনতা হারিয়ে কাজ করতে বাধ্য হওয়া।  কোনো সত্য জেনেও পারিপার্শ্বিকের চাপে তা লিখতে না পারাও সাংবাদিকের জন্য এক প্রকার মৃত্যুই। তাঁদের ওপর চাপ চার জায়গা থেকে আসে। চার জায়গা থেকে আক্রমণ আসছে। তার মধ্যে রয়েছে শারীরিক অত্যাচারের চাপ, আইনি চাপ, প্রশাসনিক চাপ, ব্যবসায়িক চাপ। সত্তর দশকে জরুরি অবস্থার সময় জারি হয়েছিল সংবাদপত্রের সেন্সরশিপ। সেটা ছিল ঘোষিত সেন্সরশিপ। কিন্তু এখন যা চলছে তা হল সেলফ সেন্সরশিপ। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা একটা স্বআরোপিত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কাজ করে চলেছেন। বাধ্য হয়েই সাংবাদিকরা বা সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে, একটা সমঝোতা করে চলতে হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here