srilanka

ভারত ১৭২ (পুজারা ৫২, ঋদ্ধিমান ২৯, লকমল ৪-২৯)

শ্রীলঙ্কা ১৬৫-৪ (ম্যাথিউজ ৫২, থিরিমান্নে ৫১, ভুবনেশ্বর ২-৪৯)

কলকাতা: শামির ব্যাটিং তাণ্ডবে মোটামুটি ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে ভারতীয় দল যখন ফিল্ডিং-এ নামছে তখন মনে হয়েছিল এবার তো শামি-উমেশ-ভুবনেশ্বরদের দাপট আগুন ছোটানোর পালা। কিন্তু আদতে ব্যাপারটা পুরো উল্টো হয়ে গেল। সারাদিন ভারতীয় বোলারদের সাবলীল ভাবে সামলে দিনের শেষে চালকের আসনে শ্রীলঙ্কাই।

ভারতের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কা শেষ কবে এরকম ভালো খেলেছে সেটা খুঁজে বার করার জন্য ইতিহাস বই ঘাঁটতে হবে। কয়েকমাস আগেও ঘরের মাঠেই একই প্রতিপ্রক্ষের কাছে গোহারান হেরেছিল লঙ্কাবাহিনী। কিন্তু এই শ্রীলঙ্কা কিছুটা পালটে যাওয়া শ্রীলঙ্কা। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হারিয়েছে দলটি। দলে যোগ দিয়েছেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আঞ্জেলো ম্যাথিউজ এবং লহিরু থিরিমান্নে।

শ্রীলঙ্কাকে টেনে তোলার দায়িত্ব নিলেন এই দুই ব্যাটসম্যানই। ভুবনেশ্বর কুমারের নিখুত সুইংয়ের শিকার হয়ে সেট হওয়ার আগেই প্যাভিলিয়নের দিকে পা বাড়ান লঙ্কার দুই ওপেনার। লিড হওয়ার ক্ষীণ আশা তখন ভারতীয় শিবিরে ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু ভারতের বোলারদের দেওয়াল খাড়া করে দেন ম্যাথিউজ এবং থিরিমান্নে। দুজনকে ফেরানোর শত চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন বোলাররা। তবে ভাগ্যও শ্রীলঙ্কার দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ছিল। অনেকবারই শামি-উমেশরা এই তাদের পরাস্থ করলেও, কাজের কাজটি হয়নি।

অর্ধশতরান করে দু’জনেই যখন হুংকার ছাড়ছেন, তখনই আসরে নামেন উমেশ। পর পর দু’ওভারে ফিরিয়ে দেন থিরিমান্নে এবং ম্যাথিউজকে। তবে উমেশের ওই গর্জে ওঠাও বিশেষ কাজে আসেনি। কারণ আর কোনো উইকেট না হারিয়েই শ্রীলঙ্কার দিনের বৈতরণী পার করিয়ে দিয়েছে ডিকওয়েলা এবং চণ্ডীমল।

এর আগে দিনের শুরুতেই নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করে ফেলেন পুজারা। কিন্তু তার পরেই তাঁর ডিফেন্স ভেদ করে চলে যায় লাহিরু গামাগের একটি বল। ছ’উইকেটে ৭৯, এই অবস্থায় ঋদ্ধিমানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন জাদেজা। দু’জনের যথেষ্ট সাবলীল ভাবেই ভারতের স্কোর এগিয়ে নিয়ে যান। দু’জনের ব্যাটিং দেখে কখনই মনে হয়নি পিচে কোনো সমস্যা রয়েছে।

এই জুটিকে ভাঙেন কোনো পেসার নয়, স্পিনার। দিলরুয়ান পেরেরার এক ওভারেই ফিরে যান দু’জনে। ভারত তখন বেশ চাপে। স্কোরবোর্ডে রান উঠেছে আট উইকেটে ১২৮। তবে ভারত যে শেষমেশ ১৭২-এর ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছেছে, তার জন্য শামির কৃতিত্ব প্রাপ্য। ইনিংসের শেষ দিকে তিনি ঝড় না তুললে ভারতের স্কোর দেড়শো হয় কি না সন্দেহ।

তৃতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা যে চালকের আসনে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহই নেই। তবে ভারতের আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। পিচ নিঃসন্দেহে কিছুটা সহজ হয়ে আসছে। এই আবহে বিপক্ষকে আড়াইশোর মধ্যে শেষ করে বড়ো রানের আশা করতেই পারে বিরাটবাহিনী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here