ওয়াশিংটন: পর পর তিন বার। শ্রীনিবাস কুচিভোতলা ও হরনিশ পটেলের পর এ বার এক শিখ। তবে ভাগ্য ভালো, ওই ব্যক্তি প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সিয়াটলের কাছে, শুক্রবার রাতে। পুলিশ হন্যে হয়ে ওই বন্দুকবাজকে খুঁজছে। স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের এক নেতা জানিয়েছেন,জখম ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসার পর বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার পর শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন খুব আতঙ্কে রয়েছেন।  বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছেন আক্রান্ত দীপ রাই-এর পরিবারের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে।

পরে পুলিশকে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ৩৯ বছরের দীপ রাই বলেন, তাঁর বাড়ির ড্রাইভওয়েতে তিনি যখন তাঁর গাড়িতে কাজ করছিলেন, তখন ওই দুষ্কৃতী আসে। রীতিমতো বচসা শুরু হয়। তার পর হঠাৎ ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলে ওঠে, “তুমি তোমার দেশে ফিরে যাও।” বলেই শিখ ভদ্রলোকের হাতে গুলি করে।

দীপের বর্ণনা অনুযায়ী, আক্রমণকারী ৬ ফুট লম্বা, শ্বেতাঙ্গ, মোটাসোটা চেহারার। মুখোশ পরেছিল সে এবং তাতে তাঁর মুখমণ্ডলের নীচের দিকটা ঢাকা ছিল। 

সিয়াটলের শহরতলি কেন্টের পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির ব্যাপারে এফবিআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সবিস্তার জানিয়েছে। পুলিশ প্রধান কেন টমাস শনিবার বলেন, “সবে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাটি আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”  টমাস বলেন, সম্প্রতি জাতিবিদ্বেষমূলক যে সব অপরাধ ঘটছে, এই ঘটনাও তারই অঙ্গ বলে তাঁরা মনে করেন। “আমার বিশ্বাস এবং আমার দৃঢ় অভিমত, আক্রান্ত ব্যক্তি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য মানুষ। আমাদের তদন্তকারীদের যে অভিজ্ঞতা তার ভিত্তিতেই এ কথা বলছি। এটা বলাই যায়, তিনি যেমনটি বলেছেন, তেমনই ঘটেছে।”

কাছাকাছি এলাকা রেন্টনের শিখ সম্প্রদায়ের নেতা যশমিত সিং বলেছেন, তিনি জানতে পেরেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। “উনি এবং ওঁর পরিবার খুব আতঙ্কে আছেন। ইদানীং চারিদিকে যা ঘটছে, তাতে আমরা হতভম্ব। হিংসা, বিদ্বেষের এই পরিবেশে কেউ পার পাচ্ছেন না।” 

 

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন