kali idol in jalpaiguri

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দীপাবলির রোশনাই চারি দিকে। শ্যামামায়ের আরাধনা বৃহস্পতিবার রাতে। কিন্তু তাতে কী? মণ্ডপ তৈরি। থিমের ভিন্নতা টেক্কা দিচ্ছে একে অন্যকে। মানুষও বেরিয়ে পড়েছে তার স্বাদ নিতে। চলুন আমারাও বেরিয়ে পড়ি জলপাইগুড়ির রাস্তায়। দেখে নিই কিছু উপভোগ্য পুজোমণ্ডপ।

যুব মঞ্চ

kali idol at yuva manchaশুরু করা যাক জলপাইগুড়ি শহরের বেগুনটারির যুব মঞ্চ দিয়ে। রজতজয়ন্তী বর্ষে যুব মঞ্চের থিম ‘অর্জুনের লক্ষ্যভেদ’। ৪০ ফুট উচু মণ্ডপের বাইরে এবং ভেতরে রয়েছে মহাভারতের বিভিন্ন মডেল। মণ্ডপের ভেতরে ঘুর্ণায়মান অজুর্নের তির। লক্ষ্যভেদের নানা দৃশ্যায়ন মণ্ডপের অন্দরসজ্জায়। বেহালার ২৫ জন শিল্পী এক মাস ধরে এই মণ্ডপকে রূপ দিয়েছেন। অ্যালুমিনিয়াম, টিন, উল, ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রতিমায় রাখা হয়েছে সাবেকিয়ানা। পুজোর চার দিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে।

সংঘশ্রী

sanghasri mandapএখান থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই মোহন্তপাড়ার সংঘশ্রী ক্লাবের শ্যামাপূজা। চৌষট্টি বছরের পুরোনো এই পুজোয় এ বারে যুগোপযোগী থিম ‘শান্তি’। ভগবান বুদ্ধ আর শান্তির বার্তা সমার্থক। সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এখানে। বৌদ্ধমন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ। মণ্ডপের সামনেই বিশাল বুদ্ধমূর্তি, চারি দিকে বুদ্ধের শান্তির বার্তা। মণ্ডপের পরিবেশও রাখা হয়েছে শান্ত স্নিগ্ধ। শিল্পী সনাতন রায় নিপুণ ভাবে গড়ে তুলেছেন প্যাগোডা ধাঁচের মণ্ডপটি। সুন্দর আলোকসজ্জায় আরও ফুটে উঠেছে মণ্ডপসজ্জা। ভুবন পালের তৈরি শ্যামামূর্তিটিও কিছুটা ব্যাতিক্রমী। থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে কিছুটা বৌদ্ধধর্মের দেবীর রূপ দেওয়া হয়েছে। সিংহের বদলে বাহন হয়েছে ড্রাগন। চারি দিকে বাজছে শান্তির মন্ত্র।

যুব কল্যাণ সমিতি

crowd at yuva kalyan samitiএ বার শহরের প্রায় শেষ প্রান্তে মাসকালাইবাড়ি যুব কল্যাণ সমিতির আটাশ বছরের শ্যামাপুজো। ‘কলিকালের রঙ্গালয়ে, মায়ের প্রাসাদ এমনই দোলে’, থিম এ বারের। মণ্ডপসজ্জায় পাঁচ ফুটের কুড়িটি গাছকৌটো ব্যবহার করা হয়েছে। শিল্পী বলাই মণ্ডল রড, কাঠ, প্লাইউড দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করেছেন। শ্যামামায়ের অপরূপ প্রতিমার সঙ্গে রয়েছে দুর্গাপ্রতিমাও। বাদ যায়নি শিব, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রতিমাও। চারি দিকে রয়েছে ফোয়ারা ও চন্দননগরের আলোকসজ্জা।

ত্রিনয়নী

kali idol at trinayaniএ বারে চলে যাওয়া যাক শহরের পূর্ব প্রান্তে। আদরপাড়ার ত্রিনয়নী ক্লাবের শ্যামামায়ের আরাধনার ৪৭তম বছর। থিম ‘পরীর দেশে’। লক্ষ্য, ছোটোদের স্বপ্নে ভাসিয়ে দেওয়া। সুদৃশ্য আলোকসজ্জা পার করেই চোখে পড়বে বিশালাকার সুদৃশ্য ময়ূর। মণ্ডপের ভেতরে নীলাভ আলোয় মায়াবী পরীর দেশ। মার্কিন কাপড় এবং সাদা তুলো দিয়ে এই পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে যা বহন করছে শান্তির বার্তাও। ভেতরে রয়েছে পরী এবং পক্ষীরাজ ঘোড়া। তৈরি হয়েছে প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে। মাতৃমূর্তি তৈরি হয়েছে সামঞ্জস্য রেখে। ভয়ংকরী শ্যামার জায়গায় শ্বেতশুভ্র প্রতিমা, যেন পরী। এমনকি মায়ের দুই সঙ্গিনী ডাকিনী যোগীনির মূর্তিও একই রকম। সঙ্গে রকমারি আলোর খেলা। ছোটোরা তো বটেই, আনন্দ পাবেন বড়োরাও।

নবীন সংঘ ও পাঠাগার

kali idol at nabin sanghaএ বারে  গন্তব্য শহরের অন্য প্রান্তে পাণ্ডাপাড়ার নবীনসংঘ ও পাঠাগার। ৪৯ তম বর্ষে পা দিয়ে তাদের থিম ‘ইজিপ্ট’। মিশরের মমির দেশ ইজিপ্ট। আর ইজিপ্ট মানেই পিরামিড। রাজা ইবং বুসার পিরামিডের আদলে তৈরি মণ্ডপ। কাপড়, রঙ এবং আলোর খেলায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পিরামিড-মণ্ডপ। মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় পিরামিডের ভেতরে থাকা বিভিন্ন মডেল বা মিশরীয় দেবদেবীর প্রতিকৃতি, বাদ যায়নি কিছুই। এমনকি রাখা হয়েছে রাজা ইবং বুসার মমির প্রতিকৃতি যা ছোটোদের কাছে হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয়। কালীপ্রতিমাও এখানে ভিন্ন রূপ পেয়েছে। ইজিপ্টের দেবীর ধাঁচে গড়ে তোলা হয়েছে দেবীমুর্তি।

তৃণসাথী

trinayani decorationএ বারের লক্ষ্য শহরের প্রাণকেন্দ্র কদমতলা-পাটগোলার তৃণসাথী। অপেক্ষাকৃত নবীন এই পূজার কমিটি গত চার বছর ধরে দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দিয়ে আসছে। এ বারে তাদের থিম ‘শিবাঙ্গি’। অর্থাৎ শিবের আলয়। পুরো মণ্ডপ জুড়ে দেবাদিদেবের মহিমা। রয়েছে মহাদেব সহ অন্য দেবদেবীর মডেল। এখানে পূজিতা মায়ের রক্ষাকালী রূপ। রকমারি আলোকসজ্জা এবং যন্ত্রসংগীতে মায়াময় পরিবেশ গোটা শিবাঙ্গী জুড়ে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here