ma-i-to kali temple, sonamukhi
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

শারদোৎসবের পরেই এসে গেল হেমন্তোৎসব। কার্তিকের হেমন্তোৎসবে মা কালী তথা শ্যামামায়ের আরাধনা। গোটা রাজ্যেই পুজোর প্রস্তুতি পৌঁছে গিয়েছে একেবারে শেষ লগ্নে। পিছিয়ে নেই বাঁকুড়া জেলাও।

বাঁকুড়ার প্রাচীন পুজোগুলির মধ্য অন্যতম হল সোনামুখীর ‘মা-ই-ত’ কালী। এখানে সারা বছর জুড়েই চলে মাতৃ-আরাধনা। তবে জেলার মানুষ অপেক্ষা করে থাকে এই বিশেষ চার দিনের জন্য। ‘মা-ই-ত’ কালীর পুজোয় মেতে উঠেছে সোনামুখী।

মা কালীর নাম ‘মা-ই-ত’। এই অদ্ভুত নামের পিছনে একটা কাহিনি আছে।

১৭৪২ খ্রিস্টাব্দ, বাংলা সন ১১৪৯। মরাঠা সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিত বর্গীদের দল সহ এসেছে বিষ্ণুপুর থেকে সোনামুখী। সেই বর্গীদল লুঠপাট করার জন্য উপস্থিত সোনামুখীর রানির বাজারে মায়ের মন্দিরে। সময়টা সন্ধ্যা। মন্দিরের পুরোহিত সন্ধ্যায় প্রদীপ দিতে মন্দিরে আসতেই খাঁড়া দিয়ে পুরোহিতের মাথা কাটতে উদ্যত হল ডাকাতদল। কিন্তু বলি পুরোহিতকে বলি দেওয়া হল না। হাতের খাঁড়া হাতেই রয়ে গেল। গলায় নেমে এল না। আর ডাকাতসর্দারের দৃষ্টিশক্তিও চলে গেল।

kali idol in sonamukhi templeএমন সময় পুরোহিত দেবীর ঘটের জল ছিটিয়ে দিলেন সর্দারের চোখে। ঘটনাক্রমে  তার পরই দৃষ্টি ফিরে পেলেন ডাকাতসর্দার। দুধর্ষ দস্যু চিৎকার করে বলে উঠল ‘মা-ই-তে!’। সেই থেকেই শ্যামা মা এখানে ‘মা-ই-ত’ কালী রূপেই পূজিত হন।

এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এখানে কালীপুজোর দিনই ঘট বিসর্জন করা হয়। আবার সেই দিনই ঘট নিয়ে আসা হয়। এই জন্যই সারা বছরই মা মন্দিরে পূজিত  হন, এমনটাই জানালেন সোনামুখীর স্থানীয়  বাসিন্দারা। মায়ের পাশেই রাখা আছে বর্গীসর্দারের খাঁড়া।

তাঁরা আরও জানান, মূর্তি তৈরিতে বিশেষ নিয়ম পালন করা হয়। মূর্তি তৈরি করেন  শিল্পী বিপত্তারণ সূত্রধর। বিজয়াদশমীর দিন মূর্তি মন্দিরে আনা হয়। বংশ পরম্পরাগত ভাবে পুজোর ভার বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের ওপর। পুজোয় থাকে প্রসাদ বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থা। প্রায় দশ হাজার মানুষ প্রসাদ গ্রহণ করেন। ঐতিহ্য মেনে ৪২ জন বেহারা আসেন কোচডিহি থেকে। পুজোর শেষের দিন থাকে আতসবাজির প্রদর্শনী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here