ভারত ১৭২ এবং ৩৫২-৮ ডি (বিরাট ১০৪ অপরাজিত, ধাওয়ান ৯৪, শনকা ৩-৭৬)

শ্রীলঙ্কা ২৯৪ এবং ৭৫-৭ (ডিকওয়েলা ২৭, চণ্ডীমল ২০, ভুবনেশ্বর ৪-৮)

কলকাতা: টেস্ট ক্রিকেটও যে কতটা জমাটি হতে পারে সেটা বোঝার জন্য সোমবারের ইডেন গার্ডেন্সের দিকে চোখ দেওয়া উচিত আপামর ক্রিকেটপ্রেমীর। রবিবার পর্যন্ত যে টেস্টের ভাগ্যে ম্যাড়ম্যাড়ে ড্র ছাড়া আর কিছু লেখা ছিল না, সোমবার সেই টেস্ট হঠাৎ জমে গেল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভাগ্য ঘুরে গেল দুই দলের। দিনের প্রথম সেশনে যখন ভারতীয় শিবির ত্রস্ত, তখন দিন শেষ হল শ্রীলঙ্কার হার বাঁচানোর লড়াইয়ের মাধ্যমে।

অসাধারণ খেলে নিজের কেরিয়ারের আরও একটি শতরান পূর্ণ করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। বছরটি টেস্ট ব্যাটসম্যান বিরাটের কাছে মোটেও সুখকর যায়নি। এক দিকে যখন গত বছরে পরের পর দ্বিশতরান করে গিয়েছেন তিনি, তখন এই বছর ইডেন টেস্টের আগে শতরানের সংখ্যা ছিল মাত্র ১।

ফর্ম হারানো কোহলি প্রবল চাপের মধ্যে ব্যাট করে ফর্মে ফিরলেন। চাপ তো বটেই! একেই প্রথম ইনিংসে শূন্যে আউট হয়েছেন, তার ওপর পঞ্চম দিন সকালে হঠাৎ করে চাপ তৈরি করতে শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। সোমবার খেলার শুরুর প্রথম ঘণ্টাতেই রাহুল, পুজারা এবং রাহানেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন লকমল। ভারতের লিড তখন সবে একশো পেরিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে অঘটন ঘটে যেতে পারে।

এই চাপের মধ্যেই কোহলি ছিলেন অবিচল। রক্ষণাত্মক হওয়ার প্রশ্নই নেই, বরং আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁকে কিছুটা সংগত দিয়ে ফিরে যান জাদেজা। এর পর অশ্বিন এবং ঋদ্ধিমানও দ্রুত ফিরে যান। সাত উইকেট হারিয়ে ভারতের লিড তখন সবে ১৫৯। আবার ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দমানো যায়নি বিরাটকে।

এর পর থেকেই ম্যাচের ভাগ্য ঘুরতে শুরু করে। প্রথমে ভুবনেশ্বরকে নিয়ে চল্লিশ রানের জুটি এবং পরে শামির সঙ্গে ৩১ রানের জুটিতে প্রত্যাবর্তন করে ভারত। টেস্টে দুর্ধর্ষ প্রত্যাবর্তন হয় বিরাটের। কেরিয়ারের আঠারোতম শতরানে পৌঁছে ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ভারত অধিনায়ক।

২৩১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। যেটা প্রায় অসম্ভব। শ্রীলঙ্কা তখন থেকে হার বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমে পড়েছে। চা বিরতির আগেই দু’টো লঙ্কা উইকেট পেয়ে ম্যাচের রাশ ক্রমশ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ভারত। ৮-২ এই অবস্থায় চা বিরতিতে যায় ভারত।

২০০১-এর সেই ঐতিহাসিক টেস্টে শেষ সেশনে যদি অস্ট্রেলিয়ার সাতটা উইকেট ফেলে দেওয়া যায়, তা হলে শ্রীলঙ্কার আটটাও ফেলা যাবে! এই স্বপ্ন নিয়েই ম্যাচের শেষ সেশনে নামে ভারত, এবং আবার আঘাত। দ্রুত আরও দু’টো উইকেট যায় শ্রীলঙ্কার। চার উইকেটে ২২ রানে শ্রীলঙ্কা তখন রীতিমতো ধুঁকছে।

তবে ভারতের জয়ের আশায় বাধা হয়ে দাঁড়ান চন্ডীমল এবং ডিকওয়েলা। প্রায় দশ ওভার সামলে দেন দু’জন। দিনের আলো যখন কমতে শুরু করেছে তখন ফের আঘাত হানেন শামি এবং ভুবনেশ্বর। তবে শ্রীলঙ্কা শিবিরে থরহরিকম্প শুরু হয়ে গেলেও, খারাপ আলোই বাঁচিয়ে দেয় তাদের।

চতুর্থ ইনিংসে দুর্ধর্ষ বোলিং করে সকলের নজর কেড়ে নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। ১১ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৮ মেডেন দিয়ে ৪ উইকেট তোলেন। প্রথম ইনিংসেও চার উইকেট ছিল তাঁর। উল্লেখ্য, গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইডেনের সবুজ উইকেটেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। চরিত্র বদলে ফেলা ইডেনের পিচ যে তাঁর প্রিয় হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।

দু’দিন বৃষ্টিতে মাটি হওয়ার পর এই টেস্টের ভাগ্যে এমনিতেই ড্র লেখা ছিল। কিন্তু শেষ বেলায় শ্রীলঙ্কা যে ভাবে চাপে পড়ল তাতে বলতেই হয় যে এই সিরিজে আর বিশেষ আশা নেই লঙ্কাবাহিনীর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here