কলকাতা: বেসরকারি স্কুল-কলেজে অনুদান ও ভর্তির ফি বৃদ্ধি রুখতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই বৃদ্ধি কোনো ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু এরই মধ্যে বেসরকারি স্কুল-কলেজে সরকারি হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফাদার জে ফেলিক্স রাজ বলে দিলেন, “নিয়ন্ত্রণ করলেও তার মধ্যে একটা যৌক্তিকতা থাকা দরকার।”

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাদানের নামে ভর্তি থেকে শুরু করে নানা খাতে লক্ষাধিক টাকা আদায় করে নিচ্ছে। এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। এ সব রুখতে গড়া হচ্ছে মনিটরিং সেল। রাজারহাটে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মীয়মাণ ক্যাম্পাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে ফাদার রাজ স্বীকার করেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রচুর টাকা নেয়। তাঁর মতে, রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে নজরদারি করতেই পারে। তবে তিনি মনে করেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্রছাত্রীদের অনেক বেশি সুযোগসুবিধা দিয়ে থাকে। সেই জন্য তারা বেশি অর্থ নেয়। কিন্তু সব কিছুতেই যৌক্তিকতা থাকা দরকার। তিনি বলেন, “বেসরকারি হলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে এই সব প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। তাই একটা সাধারণ নির্দেশিকা থাকা দরকার।”

ফাদার রাজ জানান, ৮ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের রাজারহাট ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করবেন। ৩১ জুলাই থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু হয়ে যাবে। প্রথম ধাপে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে ছ’টি কোর্স পড়ানো হবে। স্নাতক স্তরে থাকবে বি কম এবং বিবিএ/বিএমএস, আর স্নাতকোত্তর স্তরে ইংরিজি, গণমাধ্যম, এম কম (অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা) এবং এমএসডব্লিউ।

১৭ একর জমির ওপর ৩৬০ কোটি টাকা ব্যয় করে রাজারহাট ক্যাম্পাস তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১২৫ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। মূল শিক্ষাভবনটি হবে ১২ তলা। তৈরি হবে প্রশাসনিক ভবন। এ ছাড়া ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য দু’টি হস্টেল তৈরি করা হবে। ওই হস্টেল দু’টিতে ২০২০ সালের মধ্যে এক হাজার করে ছাত্রছাত্রী থাকার ব্যবস্থা হবে। গড়া হবে গবেষণাকেন্দ্র। এ ছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের জন্য ব্যাঙ্ক, ফুড কোর্ট তৈরি হবে। থাকবে সাঁতার ও খেলাধূলার ব্যবস্থাও। এগুলো তৈরি হওয়ার পর ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্স করানোর জন্য ভবন তৈরি করা হবে। তৈরি হবে কমিউনিটি সেন্টার।

এর পর ভিশন ২০২৫। সেই পর্যায়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে গড়া হবে আইন কলেজ। তৈরি হবে স্পোর্টস অ্যাকাডেমি, অডিটোরিয়াম।

ফাদার রাজ বলেন, যেখানে ক্যাম্পাস তৈরি হচ্ছে সেখানে আশেপাশে অনেক গ্রাম আছে। সেখানে অনেক গরিব ছেলেমেয়ে রয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছোতে পারে না। তাদের জন্য ছ’ মাসের সার্টিফেকেট কোর্স এবং এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্সের ব্যবস্থা থাকবে।     

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন