prof satyendra nath bose
nimai dutta gupta
নিমাই দত্তগুপ্ত

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনীষীর এক জন সত্যেন্দ্র নাথ বসু, আমাদের বিজ্ঞান ও বাঙলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পথ সুদৃঢ় করেছেন। আলবার্ট আইনস্টাইন বসু-র কাজ সম্পর্কে বলেছিলেন, “বোস যে ভাবে প্লাঙ্কের সূত্র উপস্থাপিত করেছেন, তা আমার মতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি এখানে যে পন্থা প্রয়োগ করেছেন, তার সাহায্যে একটি আদর্শ গ্যাসের কণা তত্ত্ব পাওয়া যেতে পারে।”

বাঙলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পথপ্রদর্শক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, জগদীশচন্দ্র, জগদানন্দ, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী প্রমুখ মনীষীরা। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ব পরিচয় উৎসর্গ করেছেন সত্যেন্দ্র নাথ বসুকে। সত্যেন্দ্র নাথ চিন্তায়-আচারে-মননে ছিলেন নির্ভেজাল বাঙালি। ঢাকায় থাকার সময় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘বিজ্ঞান পরিচয়’ নামে পত্রিকা – সেই উদ্যমকে অভিনন্দিত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, প্রফুল্লচন্দ্র ও বিভিন্ন বিদগ্ধ গুণীজন। অধ্যাপক বসু স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বাঙলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক বিষয়ে বক্তৃতা দিতেন নির্দ্বিধায়। বলতেন, “যাঁরা বলেন বাঙলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা হয় না, তাঁরা হয় বাঙলা জানেন না, নয় বিজ্ঞান বোঝন না”।

১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি সত্যেন্দ্র নাথ বসুর জন্ম। অধুনা উত্তর ২৪ পরগণার বড়জাগুলিয়া গ্রামে তাঁর পরিবারের আদি নিবাস। সত্যেন্দ্র নাথ বসু জন্মগ্রহণ করেন কলিকাতার ২২ নম্বর ঈশ্বর মিল লেনে। তাঁর পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ বসু, মাতার নাম আমোদিনী দেবী। সত্যেন্দ্র নাথ ছিলেন তাঁদের এক মাত্র পুত্র। তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেন নর্মাল স্কুলে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ কিছু কাল এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। পরে সত্যেন্দ্র নাথ নিউ ইন্ডিয়ান স্কুলে ভর্তি হন। মেধাবী ছাত্র সত্যেন্দ্র নাথের প্রতিযোগী কোনো উপযুক্ত সহপাঠী না থাকায় সুরেন্দ্রনাথ তাঁকে হিন্দু স্কুলে ভর্তি করে দেন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে সত্যেন্দ্র নাথ এন্ট্রান্স পরীক্ষার দু’ দিন আগে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরের বছর ১৯০৯ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। তার পর তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে আইএসসি ক্লাসে ভর্তি হন। সাহিত্যেও আসাধারণ আগ্রহ ছিল বিজ্ঞানের ছাত্র সত্যেন্দ্র নাথের।

ইংরাজির অধ্যাপক পার্শিভাল তাঁকে আইএসসি-র টেস্ট পরীক্ষায় ইংরাজি রচনা বিষয়ে ৬০ নম্বরের ওপর ১০ অতিরিক্ত দিয়ে খুশি হয়ে বলেন, ছাত্রটি অসাধারণ। সত্যেন্দ্রনাথ সাহিত্যচর্চা, সংগীত, খেলাধুলা প্রভৃতি বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে হিন্দু স্কুলে এন্ট্রান্সের টেস্ট পরীক্ষায় সত্যেন্দ্র নাথ অঙ্কের সব প্রশ্নের উত্তর তো করেছিলেনই, উপরন্তু তিনি জ্যামিতির প্রশ্নগুলি একাধিক উপায়ে সমাধান করে দিয়েছিলেন। অঙ্কের শিক্ষক শ্রী উপেন্দ্রনাথ বকসী তাঁকে ১০০ এর মধ্যে ১১০ নম্বর দিয়েছিলেন।

সত্যেন্দ্র নাথ বসু ১৯১১ সালে আইএসসি, ১৯১৩ সালে বিএসসি (গণিতে অনার্স), ১৯১৫ সালে এমএসসি ( মিশ্র গণিত) – তিনটি পরীক্ষাতেই প্রথম স্থান অধিকার করেন। তাঁর এমএসসি পরীক্ষার ফল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ইতিহাসে স্মরণীয়। এই উজ্জ্বল ছাত্রের জীবন ও নানা বিষয়ে পাণ্ডিত্য যে অসাধারণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সত্যেন্দ্র নাথ বিএসসি ক্লাসে সতীর্থ রূপে পেয়েছিলেন মেঘনাদ সাহা, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, নিখিলরঞ্জন সেন, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, পুলিনবিহারী সরকার, শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষ প্রমুখকে। উত্তরকালে তাঁরা সকলেই বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং সত্যেন্দ্রনাথ শিক্ষক রূপে পেয়েছিলেন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, অধ্যাপক ডি এন মল্লিক, অধ্যাপক শ্যামদাস মুখোপাধ্যায় প্রমুখ যশস্বী, কৃতি, গুণী শিক্ষকদের। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এমন মণিকাঞ্চন যোগ প্রেসিডেন্সি বা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কখনও ঘটেনি।

১৯১৪ সালে এমএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই সত্যেন্দ্র নাথের সঙ্গে উষাবতী দেবীর শুভবিবাহ হয়। এই সময় স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁর নব প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান কলেজে সত্যেন্দ্রনাথ, মেঘনাদ প্রমুখ সদ্য পাশ করা যুবকদের মিশ্র গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনার জন্য নিয়োগ করেন। সত্যেন্দ্র নাথ ১৯২০ সাল পর্যন্ত এখানে ছিলেন। এই সময় অধ্যাপক বসুর নির্ভীকতার পরিচয় নানা ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। আশুতোষের মতো রাশভারী মানুষের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনের বিষয়ে মতবিরোধ যখনই হয়েছে তরুণ অধ্যাপক বসু নির্ভয়ে তা প্রকাশ করেছেন। এ সব ছিল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁদের অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ।

bose with einstein
আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে।

সত্যেন্দ্র নাথ তিন জন মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। ১) তাঁর পিতা সুরেন্দ্রনাথ বসু, ২) স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং ৩) আলবার্ট আইনস্টাইন। এই তিন জনকেই কর্তা বলে অভিহিত করতেন।

১৯২১ সালে অধ্যাপক বসু নাপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিডার হিসেবে যোগ দেন। এখানে অধ্যাপনার সময় তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ‘বোস সাংখ্যায়ন’ গবেষণাপত্রটি আইনস্টাইনের নিকট পাঠান ১৯২৪ সালে। আইনস্টাইন এই গবেষণাপত্রটি পড়ে তার বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য উপলব্ধি করে জার্মানির একটি বৈজ্ঞানিক পত্রিকায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন। এটি বিজ্ঞানজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিশিষ্ট অবদান হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে।

আইনস্টানের ফোটনকে বস্তুকণার তুল্যরূপে বিবেচনা করে প্লাঙ্কের ওই বিখ্যাত সূত্রটিকে নতুন ভাবে উপস্থাপিত করতে সচেষ্ট হলেন সত্যেন্দ্র নাথ। শক্তির তরঙ্গচিত্রকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কেবলমাত্র বস্তুকণার তুল্যরূপ হিসাবে ধরে প্লাঙ্কের সূত্র উপস্থিত করে ফেলেন। দেখালেন প্লাঙ্কের সূত্র পেতে ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গবাদ গ্রহণ করার দরকার নেই। শক্তিকে শুধুমাত্র বস্তুকণার তুল্যরূপ হিসাবে ধরেই প্লাঙ্কের সূত্রে আসা যায়। এর ফলে প্লাঙ্কের সূত্রে যে অসংগতি আছে তা দূর হয়। বসুর গণনাপ্রণালী খ্যাতি পেল ‘বোস আইনস্টাইন পরিসংখ্যান’ বলে। এখন তাকেই বলা হয় ‘বোস সাংখ্যায়ন’।

১৯২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি নিয়ে অধ্যাপক বসু দু’ বছরের জন্য ইউরোপ যান। এই সময় আইনস্টাইন, সিলভা লেভি, হাইজেনবার্গ প্রমুখ বিজ্ঞানীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। লুই দ্য ব্রগলির ভাই ও মাদাম কুরির গবেষণাগারেও তিনি কিছু দিন কাজ করেছেন। ১৯২৭ সালে অধ্যাপক বসু দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের ডিন হন । ১৯২৯ সালে তিনি ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের পদার্থবিদ্যা শাখার সভাপতিত্ব করেন এবং ১৯৪৪ সালে মূল সভাপতিপদ অলংকৃত করেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পর তিনি পুনরায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে খয়রা অধ্যাপক রূপে যোগ দেন এবং ডিন হন। ১৯৫৬ সালে তিনি অবসর গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে এমেরিটাস প্রফেসর হিসাবে নিয়োগ করে। এখানে অধ্যাপক বসু তিন বছর থাকার পর ভারত সরকার তাঁকে বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদে নিয়োগ করে এবং ১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদার্থবিদ্যার জাতীয় অধ্যাপক রূপে নিযুক্ত করে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আচার্য বসু এই পদে আসীন ছিলেন।

satyendranath with ronald fischer and p c mahalanabish
এক অনুষ্ঠানে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ (বাঁ দিকে) ও ব্রিটিশ সংখ্যাতত্ত্ববিদ রোনাল্ড ফিশারের সঙ্গে ভাষণরত সত্যেন্দ্র নাথ।

আচার্য বসু ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে পৃথিবীর বিভিন্ন বিজ্ঞান সংস্থার আমন্ত্রণে বহু বার বিদেশে গেছেন। ফ্রান্স, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, চেকোশ্লোভাকিয়া প্রভৃতি দেশের জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা কর্তৃক তিনি সংবর্ধিত হন। নীলস্‌ বোর, পাউলি, হাইজেনবার্গ, অটো হান প্রমুখ প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর সঙ্গে আচার্য বসু সাক্ষাৎ হয় ও তাঁদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৫৫ সালে ফ্রান্সের জাতীয় গবেষণা সংসদের আমন্ত্রণে তিনি প্যারিসে যান এবং সেখান থেকে বার্ন শহরে আপেক্ষিকতাবাদের পঞ্চম বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন। অধ্যাপক বসু ১৯৫৮ সালে রয়্যাল সোসাইটির সভায়ও আমন্ত্রিত হয়ে যান।

আচার্য সত্যেন্দ্র নাথ বসু বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ছাড়াও বিশেষ আমন্ত্রণে সুইডেন, হাঙ্গেরি, রাশিয়া প্রভৃতি নানা দেশে বিশ্বশান্তি সংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দেন এবং ১৯৬২ সালে তিনি হিরোশিমা নাগাসাকি দিবসে জাপানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও দর্শন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং জাপানের শিল্প, বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। ১৯৬৩ সালে অধ্যাপক বসু ভারতের বৈজ্ঞানিক প্রতিনিধিদের নিয়ে কায়রোয় যান। তিনি শুধু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই নয়, জাতীয় ক্ষেত্রে কলকাতা, রাঁচি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। এ ছাড়া জগদীশচন্দ্র, মেঘনাদ, মহেন্দ্রলাল সরকার প্রমুখের সম্পর্কে তাঁর স্মারক বক্তৃতা উল্লেখযোগ্য।

আইনস্টাইন আর রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তা সকলেই জানেন। পেয়েছেন রয়্যাল সোসাইটির সদস্যপদ ও যাদবপুর, ইলাহাবাদ, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধি। বিশ্বভারতীর দেশিকোত্তম জাতীয় অধ্যাপক এবং পদ্মবিভূষণ প্রদান করা হয়েছে অধ্যাপক বসুকে।

playing esraj in an wedding ceremony
মহলানবিশদের একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে এসরাজ বাজাচ্ছেন সত্যেন্দ্র নাথ।

সত্যেন্দ্র নাথ বসু ছিলেন আবেগ বৈচিত্র্যে ভরপুর এক প্রাণবন্ত মানুষ। তাঁর মজলিশি আড্ডা, আবৃত্তিতে তাঁর আত্মমগ্নতা, এসরাজের আলাপে তাঁর মজে থাকা আমাদের সঙ্গে এক অন্য সত্যেন্দ্রনাথের পরিচয় করিয়ে দেয়। ঢাকায় ছিল ১২ জনের আসরের মজলিশ আর কলকাতায় ছিল শনিবারের বৈঠক। শিশু-কিশোরদের নানা আসরে সর্বত্র ছিল তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

সত্যেন্দ্র নাথ বসুর আর এক পরিচয় তিনি  দেশব্রতী। অনুশীলন সমিতির সঙ্গে তাঁর ছিল প্রত্যক্ষ সম্পর্ক। বিপ্লবীদের সঙ্গে ছিল তাঁর গোপন যোগাযোগ এবং সমাজসেবার নানা ক্ষেত্রে ছিল সক্রিয় সংযোগ। তিনি দিনমজুরদের জন্য গড়ে ওঠা নৈশ্য স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।

১৯৪৮ সালে সত্যেন্দ্র নাথ বসু প্রতিষ্ঠা করেন, ‘বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ’, যার মূল লক্ষ্য মানুষকে বিজ্ঞান-সচেতন করা। জনকল্যাণে বিজ্ঞানের প্রসার এবং মাতৃভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষার প্রচলন তার মুখ্য উদ্দেশ্য। তার জন্য প্রকাশ করেছেন, ‘জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকা’। অনেক সমালোচনা, বিড়ম্বনা প্রভৃতি উপেক্ষা করে নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং ১৯৬৩ সালে ‘জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকা’-এ কেবলমাত্র মৌলিক গবেষণা নিবন্ধ দিয়ে রাজশেখর বসু সংখ্যা প্রকাশ করে প্রমাণ করেন, বাঙলা ভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানের মৌল গবেষণা নিবন্ধ রচনা করা সম্ভব।

with prime minister jawaharlal nehru at visvabharati
বিশ্বভারতীতে আচার্য প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে।

আচার্য বসু শুধু আমাদের নন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী। আধুনিক বিকাশমান বৈজ্ঞানিক যুগেও তিনি পথপ্রদর্শক। এমন আত্মভোলা, অমায়িক উন্নতমানের মানুষটি ছোটো বড়ো সকলকেই আকর্ষণ করতেন। মাধুর্যমণ্ডিত ব্যক্তিত্ব, স্নিগ্ধ হাসি, প্রগাঢ় ছাত্রদরদী শিক্ষকতা তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় অধ্যাপক বসু ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন, নেমে পড়েছেন ত্রাণকার্যে। রোগার্ত সতীর্থদের সেবা করেছেন। দুঃস্থদের সাহায্য করেছেন। তিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ, নির্লিপ্ত চরিত্রের বিরল কৃতী মানুষ। তাঁর জন্মের ১২৫তম বর্ষে তাঁকে আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রণাম।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন