মুম্বই: সমাজবিজ্ঞানের উচ্চশিক্ষায় এটি দেশের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম। টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স (টিস)। অপ্রত্যাশিত ভাবে ছাঁটাই করা হচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন অস্থায়ী শিক্ষককে। আগামী ৩১ মার্চ শেষ হচ্ছে তাঁদের মেয়াদ। ”ইউজিসি-র তরফ থেকে ওই ২৫ জন শিক্ষকের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি”, ছাঁটাই-এর কারণ হিসেবে এ রকমই যুক্তি দেখাচ্ছে ‘টিস’ কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়েছে, “আগামী ৩১ মার্চ শিক্ষাসূচির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং নতুন করে ইউজিসির তরফ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর কথা জানানো হয়নি এখনও পর্যন্ত।” ২৫ জন শিক্ষক এত দিন যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের নানা বিভাগের সঙ্গে। কেন্দ্রের অনুদানেই চলে বিভাগগুলির পঠনপাঠন। তবে এ রকম আগেও হয়েছে, ইউজিসি-র পক্ষ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর আগে পর্যন্ত টিস-এর ট্রাস্টি থেকেই বহন করা হয়েছে খরচ। তবে এ বার কেন ব্যতিক্রম?

ছাঁটাই হওয়া অধ্যাপকদের এক জন জানিয়েছেন, বিগত ৭৭ বছরে প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়নি কোনো শিক্ষক সংগঠন। এই প্রথম সেই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। শেষ ৬ মাস ধরেই ওই ২৫ জন শিক্ষক সংগঠন তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তার জেরেই কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত, মনে করছেন ওই অধ্যাপক। মেয়াদ শেষ হতে চলা শিক্ষাসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকা অন্য অনেক শিক্ষক নাকি এরকম কোনো চিঠি পাননি। তিনি আরও  বলেন, শুরু থেকে সরকারকে চটানোর মতো কাজ করা থেকে দূরেই থেকেছে এই প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি পড়ুয়াদের উদ্দেশে ‘টিস’-এর ডিরেক্টর একটি খোলা চিঠি লেখেন। পড়ুয়ারা যেন জেএনইউ এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ছাত্র রাজনীতিতে না জড়ায়, সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।  

স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগে রয়েছেন ২৫ জন শিক্ষকের প্রত্যেকেই। শিক্ষাসূচির মেয়াদ বাড়লে তাঁদের আবার নিযুক্ত করা হবে কি না, প্রশ্ন থাকছে তা নিয়েও।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন