pune univeristy

পুনে: খেতে হবে নিরামিষ খাবার, চলবে না মদ্যপানও, একমাত্র তা হলেই কোনো পড়ুয়া স্বর্ণ পদকের জন্য বিবেচিত হবেন। আজব এই নির্দেশ জারি করেছিল সাবিত্রীবাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এই নির্দেশিকার পরেই দেশ জুড়ে শুরু হওয়া বিতর্কের ফলে পিছু হঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রত্যাহার করা হয়েছে নির্দেশিকা।

মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুদানকারীরাই এই স্বর্ণ পদক দেন। তাদের দেওয়া শর্তই যে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাধান্য দিতে হয় সে কথা বলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অরবিন্দ শালিগ্রাম। তবে শনিবার তিনি বলেন, “বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি আসার ফলে আমরা এই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। এ বার আমরা এই স্বর্ণ পদক প্রদানকারী শেলর পরিবারকে চিঠি দিয়ে জানাব তারা যেন এই শর্ত প্রত্যাহার করে নেয়।”

শালিগ্রাম আরও জানিয়েছেন, যদি শর্ত প্রত্যাহার করার আবেদন শেলর পরিবার না মানে তা হলে এই স্বর্ণ পদক বাতিল করে দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বলেন, “আমাদের আরও অনেক অনুদানকারীও স্বর্ণ পদক দেন। কারও ক্ষেত্রেই এ রকম শর্ত নেই।”

স্বর্ণ পদকের এই নির্দেশ ২০০৬-এর। সেই বছর থেকে বিজ্ঞান বিভাগের দুই সেরা পড়ুয়াকে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা-সহ ‘মহর্ষি কীর্তনকর শেলর মম স্বর্ণ পদক’ দেওয়া হয় শেলর পরিবারের তরফ থেকে।

উল্লেখ্য, ওই নির্দেশিকায় পড়ুয়াদের নিরামিষাশী হওয়া এবং মদ্যপান না করা ছাড়াও বলা হয় পড়ুয়াদের ভারতের ঐতিহ্য মেনে চলতে হবে, রক্তদান শিবির এবং পরিবেশ রক্ষার মতো সমাজসেবামূলক কাজকর্মে অংশগ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে বলা হয় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে খেলাধুলোয় অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি এবং নিয়মিত যোগাসন করতে হবে।

এই নির্দেশের পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। এক পড়ুয়া বলেন, “যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তা হাস্যকর তো বটেই, বৈষম্যমূলকও। এখানে পড়ুয়াদের শ্রেষ্ঠত্ব কোনো ভাবেই বিচার হবে না।”

এই আজব নির্দেশের পরেই টুইটারে ব্যঙ্গের বিষয়বস্তু হয়ে যায় পুনে বিশ্ববিদ্যালয়। দেখে নিন এমন কয়েকটি টুইট।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here