dhartimohan roy in his office

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: অপসারণের ঘোষণা হয়েছিল পূজোর আগে। প্রায় দু’ মাস পর সেই নির্দেশিকা এসে পৌছোল জেলা প্রশাসনের কাছে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান ধর্তিমোহন রায়ের অপসারণ-নির্দেশিকা নিয়ে ফের তৈরি হল বিতর্ক।

আরও পড়ুন: ‘অপসারণের’ পরেও দফতরে বসে কাজ করছেন জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষা দফতর থেকে এই নির্দেশিকা এসে পৌছোয় জেলা প্রশাসনের হাতে। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক রচনা ভগত জানিয়েছেন, জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক মৃন্ময় ঘোষকে অস্থায়ী ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত, সেপ্টেম্বর মাসে। ১৫ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশিকা জারি করেন জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান ধর্তিমোহন রায়। তাতে বলা হয়, ২৫-৩০ সেপ্টেম্বর প্রি-ম্যাট্রিক মাইনরিটি স্কলারশিপের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসতে হবে। এতেই ক্ষুদ্ধ হন প্রাথমিক শিক্ষকদের একটা বড়ো অংশ। কারণ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পুজোর ছুটি ছিল বিদ্যালয়গুলিতে। পুজোর মধ্যে কাজের নির্দেশ অগণতান্ত্রিক বলে ক্ষোভ জানায় নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। নালিশ যায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছেও। চাপে পড়ে নির্দেশিকা পরিবর্তন করে শুধুমাত্র বিশ্বকর্মা পূজার দিন বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। শনিবার খবর আসে, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে শিক্ষা দফতর। এই ঘোষণায় এ বার ক্ষুদ্ধ হয় পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল শিক্ষক সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটি। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্দেশিকা পরিবর্তনের পরও অপসারণের সিদ্ধান্ত লঘু পাপে গুরুদণ্ড।

বিষয়টি জানতে নিজেই কলকাতায় যান ধর্তিমোহন রায়। দেখা করেন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও। কিন্তু কোনো সদুত্তর না পেয়ে ফিরে আসেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ফের নিয়মিত বিদ্যালয় সংসদের দফতরে এসে কাজ শুরু করেন তিনি। কারণ হিসেবে ধর্তিমোহন রায় জানিয়েছিলেন, তাঁকে পদ থেকে অপসারণের কোনো সরকারি নির্দেশিকা তিনি পাননি। যতক্ষণ না তা হাতে পাচ্ছেন, কাজ চালিয়ে যাবেন। এর পর ব্যাপারটা থিতিয়ে যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠমহল থেকে এমনও বলা হয়েছিল, বিষয়টি ‘মিটমাট’ হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অপসারণের নির্দেশিকা এসে পৌঁছোনোয় হতবাক অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের একাধিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সরকারি সিদ্ধান্ত আগেই হয়ে থাকে তবে তা সরকারি ভাবে জানাতে প্রায় দু’ মাস সময় লাগল কেন? তাঁদের প্রশ্ন, তা হলে এটা কি কোনো চক্রান্ত? বিষয়টি মিটে যাওয়ার পরও কোনো অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে এই ঘটনা? নাকি শুধুমাত্রই সেই লাল ফিতের ফাঁস যা খুলতে আঠারো মাসে বছর হয়! তবে এ বার বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ধর্তিমোহন রায় নিজেও। শুধু জানিয়েছেন, বিস্তারিত জেনে যথা সময়ে মুখ খুলবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here