desolate school
শুনশান বিদ্যালয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: থমথমে, শুনশান বিদ্যালয়-চত্বর। অথচ এখানেই ইংরেজি বিষয়ে টেস্ট পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির। পরীক্ষা ছিল নবম শ্রেনিরও। কিন্তু বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার হলদিবাড়ি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এই ছিল চিত্র। সোমবার উদ্ধার হওয়া গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণের জের চলছে মঙ্গলবারও।

১৫ নভেম্বর হলদিবাড়ির টাউন ক্লাবের মাঠ থেকে গ্রেনেডটি উদ্ধার হয়। সেটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য অসম থেকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত কর্মীরা আসেন সোমবার। থানার পাশেই একটি ফাঁকা জায়গায় সেটি নিষ্ক্রিয় করার সময় তার বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। সংলগ্ন হলদিবাড়ি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে তখন পরীক্ষা দিচ্ছিল ১১৭৪ জন ছাত্রী। তার মধ্যে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছিল বাংলা পরীক্ষা। ছিল নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাও।

সেই বিকট আওয়াজে পরীক্ষার হলেই অনেকে অজ্ঞান হয়ে যায়। কেউ আতঙ্কে পালাতে গিয়ে হুড়োহুড়ি, পদপিষ্ট হয়ে আহত হয়। কিছু ছাত্রী বাড়িতে গিয়েও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ এবং আহতের সংখ্যা ৬৪-তে গিয়ে দাঁড়ায়। এদের মধ্যে পাঁচ ছাত্রী এখনও জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি। বাকিরা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেলেও তাদের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। এ দিনের বাতিল হওয়া পরীক্ষা কবে হবে তা জানতে বিদ্যালয়ে এসেছিল দ্বাদশ শ্রেণির পারমিতা ও প্রিয়া। তাদের কথাতেই তা  পরিষ্কার। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গিয়েছিল। ছাত্রীরা অনেকেই তাতে অসুস্থ বোধ করে। ভণ্ডুল হয়ে যায় পরীক্ষা।

cycles in school compoundমঙ্গলবার স্কুলে গিয়ে দেখা গেল মাঠ জুড়ে ছাত্রীদের সাইকেলগুলি এখনও পড়ে আছে। হাসপাতাল থেকে ফিরে এলেও আতঙ্ক কাটিয়ে বিদ্যালয়ে এসে সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সাহস হয়নি।

থানা থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে হলদিবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ীরাও বিস্ফোরণের বিকট আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী তাপস দের অভিযোগ, গাফিলতি পুলিশের। তাদের আরও সতর্কতা নেওয়া উচিত ছিল। তাদের আগাম জানানো উচিত ছিল, বক্তব্য বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি গোপাল চন্দ্র রায়ের।

সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীর ব্যবহার করা এই ধরনের গ্রেনেড ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে ক্ষতি করতে পারে। আশেপাশের ২০০ মিটারের মধ্যেই থানা তো বটেই, দু’টি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও বহু দোকান বা বাড়ি রয়েছে। নেহাত অনেক পুরোনো গ্রেনেড তাই এই যাত্রা মারাত্মক বিপদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া গিয়েছে, জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ধীরেন দে। যদিও এই বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাননি হলদিবাড়ি থানার আইসি প্রবীন প্রধান।

তবে স্কুলের তরফে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া হচ্ছে না। তারা ইতিমধ্যেই জেলাশাসক এবং শিক্ষা দফতরকে সব জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তাদের আরও অভিযোগ, হলদিবাড়ি থানাতে এই বিষয়ে একটি জেনারেল ডায়েরি করা হলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে তার ‘রিসিভ কপি’ও দেওয়া হয়নি থানার তরফে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা দেব অধিকারী জানিয়েছেন, আপাতত স্কুলের পরিচালন সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বুধবার থেকে ফের শিডিউল অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া শুরু হবে। আর সোমবার এবং মঙ্গলবারের যে দু’টি পরীক্ষা ভণ্ডুল হয়েছে তা সব পরীক্ষার শেষে ফের নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here