এখন কোনো বাধা নেই, আমেরিকা আপাতত স্বাগত জানাচ্ছে সকলকে

0

নিউ ইয়র্ক : মুসলিম-প্রধান সাত ‘নিষিদ্ধ’ দেশ থেকে ভ্রমণকারীরা আবার আসতে শুরু করেছেন মার্কিন দেশে। মিলিত হচ্ছেন আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে। বিনা বাধায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আবার সকলের জন্য দরজা খুলে গিয়েছে আমেরিকার।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিষেধাজ্ঞায় দেশ জুড়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সিয়াটলের ফেডেরাল কোর্ট। সেই স্থগিতাদেশ রদের আর্জি জানিয়েছিল প্রেসিডেন্টের প্রশাসন। সান ফ্রান্সিসকোর ফেডেরাল আপিল আদালতে রবিবার সেই আর্জিও নাকচ হয়ে গিয়েছে। মার্কিন বিচার দফতরকে সোমবার পর্যন্ত সময় দিয়ে আদালত  বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক নয়, যুক্তি দিয়ে সেটাই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যা-ই হোক, আমেরিকার দরজা আপাতত খোলা সকলের জন্য।

এই নির্দেশনামা পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বের সব বিমান পরিবহন সংস্থার কাছে। সুতরাং সব বিমানবন্দরেই যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না কাউকেই। নিউ ইয়র্কের কেনেডি এয়ারপোর্টে অপেক্ষারত এক আইনজীবী জানালেন, ইরান ও ইরাক থেকে ভিসা ও গ্রিন কার্ড নিয়ে যাঁরা আসছেন তাঁরা বিমানবন্দরে কোনো সমস্যায় পড়ছেন না। নিউ ইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের ক্যামিলি ম্যাকলার বললেন, “সব কিছু আবার আগের মতোই স্বাভাবিক।”

ইরান থেকে এলেন ৩২ বছরের চিত্রশিল্পী ফরিবা তাজরস্তামি। মুখে হাসি, চোখে জল নিয়ে বেরিয়ে এলেন কেনেডি এয়ারপোর্ট থেকে। বাইরে ভাইয়েরা অপেক্ষা করছিলেন। ৯ বছর পরে ভাইদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে তাঁর আনন্দ আর ধরে না। তাজরস্তামি সপ্তাহ খানেক আগে তুরস্ক হয়ে আমেরিকা আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।


quate_f-1খুব ভেঙে পড়েছিলাম। অনেক কিছু প্ল্যান ছিল। কী করব, না করব। কিন্তু সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, সব বোধহয় শেষ হয়ে গেল।
– বললেন তাজরস্তামি।

তাজরস্তামি আমেরিকায় আর্ট নিয়ে পড়তে চান। শীঘ্রই ডালাসে তাঁর স্বামীর কাছে চলে যাবেন। তাঁর স্বামী ছ’ মাস আগে দেশ ছেড়েছেন, এক কার ডিলারশিপ ফার্মে কাজ করেন, গ্রিন কার্ড আছে তাঁর।

নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৬০ হাজার ভিসা বাতিল করে দিয়েছিল। আর সিরিয়া থেকে শরণার্থী প্রবেশ অনির্দিষ্ট কালের জন্য এবং অন্যান্য দেশ থেকে ৯০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এখন আবার বাতিল ভিসা নিতে শুরু করেছে আমেরিকা।

সিয়াটলের কোর্ট যখন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ জারি করে ট্রাম্প তখন তাকে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করে। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট টুইট করেছেন, “এক জন বিচারক দেশকে এমন দুর্দশায় ফেলতে পারেন, বিশ্বাস করতে পারছি না। যদি কিছু ঘটে যায় তা হলে উনি দায়ী হবেন আর দায়ী হবে দেশের বিচারব্যবস্থা। দলে দলে লোক ঢুকছে। খুব খারাপ অবস্থা।”   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.