banyopran sathi prokolpo

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : গভীর জঙ্গলে রাত্রিবাস করতে চান? অর্জন করতে চান অরণ্যের দিনরাত্রির অভিজ্ঞতা? আপনার কাছে সেই সুযোগ এনে দিচ্ছে রাজ্য বন দফতর। তবে এই সুযোগ পেতে গেলে বন দফতরের কিছু নিয়মকানুনের পরীক্ষায় আপনাকে উত্তীর্ণ হতে হবে। ব্যাস, তা হলেই ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন এক বছর নয়, পর পর দু’ বছর পাঁচ দিন করে মোট দশটি দিন-রাত গভীর জঙ্গলে কাটানোর সুযোগ।

poster of bonyapran sathi prokolpoএত দিন শুধুমাত্র জিপ সাফারি বা হাতি সাফারির মাধ্যমেই জঙ্গল ভ্রমণের সুযোগ ছিল সাধারণ মানুষ বা পর্যটকদের জন্য। তা-ও আবার নির্দিষ্ট রুটে। কিন্তু এ বার পায়ে হেঁটে বা বন দফতরের পোষা হাতির পিঠে চেপে একেবারে গভীর জঙ্গলে প্রবেশ বা সেখানে থেকে জঙ্গলের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন আপনিও। সৌজন্যে রাজ্য বন দফতরের বন্যপ্রাণ সাথী প্রকল্প।

এই প্রকল্পের আওতায় আপনি পর পর দু’ বছর পাঁচ দিন করে মোট দশ দিন গভীর জঙ্গলে কাটানোর সুযোগ পাবেন। সঙ্গে পাবেন গভীর জঙ্গলে রাত্রিবাস করার সুযোগও। তবে এই সুযোগ পেতে গেলে আবেদনের পর আপনাকে বন দফতরের কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। হবে আপনার কাউন্সেলিং। মনের প্রকৃতিপ্রেম যদি উজাড় করে দিতে পারেন তবেই মিলবে ছাড়পত্র। পেয়ে যাবেন গভীর জঙ্গলে দিন-রাত কাটানোর ছাড়পত্র। শনিবার গোরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মূর্তি টেন্টে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বনমন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ। ছিলেন বন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং এই প্রকল্পে সুযোগ পাওয়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের তেরো জন। দেশের মধ্যে রাজ্য বন দফতরই প্রথম এই সুযোগ দিচ্ছে, জানিয়েছেন বনমন্ত্রী।

এই উদ্যোগের প্রথম ব্যাচে সুযোগ পেয়েছেন মোট তেরো জন জঙ্গলপ্রেমী, যাঁদের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে অনারারি ওয়াইল্ডলাইফ ভলান্টিয়ার তথা সাম্মানিক বন্যপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক। টানা পাঁচ দিন গোরুমারা জাতীয় উদ্যানের ভেতর কাটিয়ে দিনরাত জঙ্গলের অভিজ্ঞতা নেবেন। যে সব বনকর্মী ডিউটিতে যাবেন তাঁদের দলেই থাকবেন একজন বা দুজন অনারারি ওয়াইল্ডলাইফ ভলান্টিয়ার। বনকর্মীদের সঙ্গেই থাকা-খাওয়া, জঙ্গলে দিনরাত কাটানো। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বনকর্মীরা কী ভাবে বনরক্ষা করেন চাক্ষুষ করবেন তা-ও। যেতে পারবেন সংরক্ষিত এলাকায়, যেখানে সাধারণ পর্যটকরা যেতে পারেন না। রাতের গা ছমছমে অভিজ্ঞতার সাক্ষীও হতে পারেন ভাগ্য সহায় থাকলে। হাতি, গন্ডার বা চিতা কোনোটারই অভাব নেই এখানে। তবে কোনো ভাবেই ক্ষতি করা যাবে না প্রকৃতির। ব্যবহার করা যাবে না ক্যামেরা। মোবাইলে ছাড়পত্র মিললেও সেই ছবি কোনো ভাবেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যাবহার করা যাবে না।

planting treesএক একটি গ্রুপ তৈরি করে জঙ্গলে যাবেন তাঁরা। প্রতিটি গ্রুপের সঙ্গে থাকবে বনরক্ষীরা। জঙ্গলে কী ভাবে থাকতে হবে, কী ভাবে বন্যজন্তুদের থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে সে নিয়ে শনিবার গোরুমারা অভয়ারণ্যের মূর্তি এলাকায় এই ১৩ জনকে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বন দফতরের পক্ষ থেকে। বন সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিতে, প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপ ছিল  গাছ লাগানোর কর্মসূচি। আর এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করার ছাড়পত্র পেয়ে যথেষ্টই উচ্ছ্বসিত এই তেরো জন জঙ্গলপ্রেমী। চন্দননগরের ব্যবসায়ী অর্জুন নন্দী জানিয়েছেন, তিনি অনেক জঙ্গলেই ঘুরেছেন পর্যটক হিসেবে। গোরুমারাতেও একাধিকবার এসেছেন। তবে এ বারের অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্য রকম হবে আশা করছেন তিনি। পেশায় আইনজীবী মধুশ্রী ঘোষ জানিয়েছেন, এখন শুধু আগামী কালের অপেক্ষা করছেন, যখন এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবেন।

কী ভাবছেন?  আপনিও গভীর জঙ্গলের ভেতর পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে চান। বেশ কয়েকটা রাত কাটাতে চান গহন অরণ্যে। তা হলে সময় নষ্ট না করে বন দফতেরর কাছে আবেদন করে ফেলুন। আর খরচ? দু’ বছরের জন্য খরচ মাথাপিছু মাত্র ১৫ হাজার টাকা। তবে টাকা নয়, প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণীদের প্রতি ভালোবাসাই সুযোগ পাওয়ার প্রধান শর্ত। কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমেই বন নিয়ে সচেতনতা গড়ে উঠুক সাধারণ মানুষের মধ্যে, এটাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। বন দফতর চায় প্রকৃতির উজাড় করা অভিজ্ঞতা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরাই হয়ে উঠুক বন দফতরের ভবিষ্যৎ প্রচার মাধ্যম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here