himachal chief minister

শিমলা: যার হাত ধরে হিমাচলে বৈতরণী পেরিয়েছে বিজেপি, তার হেরে যাওয়ায় চরম দোলাচলে এখন দল। দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল করেও এখনও আনন্দ নেই বিজেপির অন্দরে। শেষে বিধায়কের বদলে সাংসদের ওপরেই আস্থা রাখতে হতে পারে দলকে।

হিমাচলে বিজেপির মুখ প্রেমকুমার ধুমল। দু’বার রাজ্যের ব্যাটন সামলেছেন তিনি। এ বারও তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে এগিয়েছিল বিজেপি। এমনিতে কংগ্রেসের মতোই হিমাচলের বিজেপিতেও গোষ্ঠীদ্বন্দ রয়েছে। তাই কংগ্রেসের যেমন বীরভদ্র সিংহ, বিজেপির তেমনই ধুমল। তাই প্রথম দিকে ধুমলকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী না করলেও ভোটের মাত্র ন’দিন আগে তাঁকেই পদপ্রার্থী করে দেয় বিজেপি।

কিন্তু সমস্যা হয় অন্য জায়গায়। নিজের নিশ্চিন্ত আসন হামিরপুরের বদলে এ বার সুজনপুর থেকে তাঁকে টিকিট দেয় দল। কিন্তু অপ্রত্যাশিত ভাবে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছেন ধুমল। শুধু ধুমলই নন, হেরে গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সতপাল সিংহ সাত্তি। এ বার তা হলে কাকে মুখ্যমন্ত্রী করা যায়?

বিজেপি অন্দরে ভেসে উঠছে তিনটে নাম। এই তিন জন হলেন জেপি নাড্ডা, জয় রাম ঠাকুর এবং অনুরাগ ঠাকুর।

বিজেপি’র প্রথম পছন্দ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে নাড্ডার জাত। নাড্ডা একজন ব্রাহ্মণ। কিন্তু হিমাচলে অন্তত ২৮ শতাংশ মানুষই ঠাকুর সম্প্রুদায়ভুক্ত। ঠাকুরদের সন্তুষ্ট করার জন্য ভেসে আসছে অনুরাগ ঠাকুরের নামও। বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি অনুরাগ হামিরপুর থেকে তৃতীয় বারের জন্য সাংসদ। কিন্তু অনুরাগকে মুখ্যমন্ত্রী করলে বিজেপি’র অন্য চাপ রয়েছে।

যে বিজেপি কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্র নিয়ে এত সরব, সেখানে অনুরাগকে মুখ্যমন্ত্রী করলে সেই পরিবারতন্ত্রের অভিযোগেই বিদ্ধ হতে পারে তারা। কারণ তিনি যে ধুমলের ছেলে। সে ক্ষেত্রে কী করা যায়? প্রবীণ নেতা জয় রাম ঠাকুরের নামও ভেসে বেড়াচ্ছে বিজেপিতে। একেই ঠাকুর সম্প্রদায়ভুক্ত জয় রাম ঠাকুর, সেই সঙ্গে পরিবারেতন্ত্রের অভিযোগেরও কোনো সম্ভাবনা নেই।

তবে নাড্ডা বা অনুরাগকে মুখ্যমন্ত্রী করলে এই বছর তৃতীয় বার এ রকম ঘটনা ঘটবে যখন একজন সাংসদকে মুখ্যমন্ত্রী করবে বিজেপি। এই বছরের মার্চে যোগী আদিত্যনাথ এবং মনোহর পররিকরকে যথাক্রমে উত্তরপ্রদেশ এবং গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী করেছে বিজেপি। দু’জনেই তখন সাংসদ ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here