torture on women
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তিন তালাক নিয়ে যখন দেশ উত্তাল তখন তালাক দিতে রাজি না হওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হয়ে স্ত্রীকে মারধর করে তাঁর হাতে জ্বলন্ত বিড়ির ছ্যাঁকা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে।
ওই গৃহবধূর আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা তাঁকে বাঁচাতে এলে অভিযুক্ত স্বামী এলাকা থেকে চম্পট দেয়। বুধবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বারুইপুর থানার উত্তর রানা এলাকায়। এই ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ওই গৃহবধূকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গৃহবধূ নুর নেহার বিবি তাঁর স্বামী সাবির সর্দারের বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক স্বামী সাবির সর্দার।
পারিবারিক ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, বারুইপুরের উত্তর রানার গৃহবধূ নুর নেহার বিবির সঙ্গে ছ’ বছর আগে কেয়াতলা সূর্যপুরের সাবির সর্দারের দেখাশোনা করে বিয়ে হয়। ওই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। সাবির পেশায় মাংসের দোকানের কর্মী।
signs of burnt part
হাতে ছ্যাঁকা দেখাচ্ছেন নুর নেহার বিবি।

নুর নেহার বিবির অভিযোগ, “আমি অসুস্থ, এ কথা শুনিয়ে বিয়ের পর থেকেই আমাকে মারধর করত স্বামী। স্বামী তাঁর মায়ের উসকানিতে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত। বিয়ের সময় ৩০ হাজার টাকা পণ দেওয়া হয়েছিল, তা সত্ত্বেও নিয়মিত চাপ দিত টাকার জন্য। পাঁচ-ছ’ মাস আগে স্বামী আর শাশুড়ি মিলে আমাকে মারধর করে দুই শিশুসন্তান-সহ শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি আমাকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি বারুইপুর থানায় এর আগেও স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম।”

একই সঙ্গে নুর নেহার বিবির অভিযোগ, বাপের বাড়িতে থাকাকালীন মঙ্গলবার সকালে তাঁর স্বামী সে বাড়িতে চড়াও হয়ে ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধর করে তালাকের জন্য চাপ দিতে থাকে। তাঁর স্বামী লুকিয়ে আর একটা বিয়ে করেছিল। তার জন্য নুরকে তালাকের জন্য চাপ দিতে থাকে। তিনি তালাক দিতে রাজি না হওয়ায় স্বামী জ্বলন্ত বিড়ি দিয়ে তাঁর ডান হাতে ছ্যাঁকা দেয়, তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নুর নেহার বিবি। পুলিশ সাবির সর্দারকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার তাকে আদালতে তোলার কথা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন