snowfall in dalhousie
বরফে ঢাকা ডালহৌসি।

শীতে হিমাচল ভ্রমণের আরও দু’টি পরিকল্পনা দিলাম।

১) শিমলা-খাড়াপাথর-নারকান্ডা-রামপুর-সারাহান-চ্যেল

প্রথম থেকে তৃতীয় দিন – রাত্রিবাস শিমলা।

কী ভাবে যাবেন শিমলা ও কী দেখবেন – দেখে নিন শীতের ভ্রমণ ৫ / বরফ দেখতে হিমাচল

(আরও পড়ুন: শীতের ভ্রমণ ৫ / বরফ দেখতে হিমাচল)

চতুর্থ ও পঞ্চম দিন – রাত্রিবাস খাড়াপাথর।

সকালেই রওনা হয়ে যান শিমলা থেকে, মধ্যাহ্নভোজের আগে চলে আসুন ৭৭ কিমি দূরের খাড়াপাথর (২৫০০ মিটার)।

himalayan range from giriganga resort
গিরিগঙ্গা রিসর্ট থেকে তুষারমৌলি হিমালয়।

জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে খাড়াপাথরে বরফ দেখার সম্ভাবনা খুবই। প্রথম দিন দুপুরে চলুন সাত কিমি দূরে গিরিগঙ্গার উৎস দেখতে। খাড়াপাথর থেকে হেঁটে দু’ ঘণ্টা। গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়। গিরিগঙ্গার উৎসে রয়েছে দুর্গা মন্দির, শিব মন্দির এবং রাম-সীতা-লক্ষ্মণ মন্দির।

দ্বিতীয় দিন প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন, পথ ক্রমশ নেমে যাবে। প্রথমে চলুন জুব্বল প্রাসাদ (৯ কিমি)। জুব্বল দেখে খাড়াপাথর এসে ক্রমশ নেমে চলুন হাটকোটির পথে। পব্বর নদীর ধারে হাটকোটিতে (খাড়াপাথর থেকে ২৫ কিমি, ১৪৪২ মিটার)। দেখুন হাটকোটি দুর্গা মন্দির। হাটকোটি থেকে পব্বর নদীর ধার ধরে চলুন রোহরু (১৩ কিমি, ১৫৫৪ মিটার)। দুপুরে খাড়াপাথর ফিরে এসে বাকি দিনটা সেখানকার নিসর্গ উপভোগ করুন।

hatkoti temple
হাঁটকোটি মন্দির।

ষষ্ঠ দিন – রাত্রিবাস নারকান্ডা।

সকালেই রওনা হয়ে যান খাড়াপাথর থেকে, চলুন নারকান্ডা (৮০ কিমি, ২৭০৮ মিটার)। দুপুরের আগেই পৌঁছে যান সেখানে। মধ্যাহ্নভোজ সেরে চলুন স্কি পয়েন্টে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে স্কি-এর আসর বসে। স্কি পয়েন্টে ঘুরে এসে চলুন ৩৩০০ মিটার উঁচু হাটু পিকে। এ পথে বরফ পাবেনই। বরফের জন্য শেষাংশটুকু হাঁটতে হতে পারে। তুষারমৌলি হিমালয়ে সূর্যাস্ত দেখুন। দর্শন করুন দুর্গার (হাটু) মন্দির। পরের দিন সূর্যোদয়ের সময়েও আসতে পারেন হাটু পিকে। স্মরণীয় হয়ে থাকবে সেই অভিজ্ঞতা।

সপ্তম ও অষ্টম দিন – রাত্রিবাস সারাহান।

প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়ুন নারকান্ডা থেকে, চলুন সারাহান (১০০ কিমি, ১৮৫০ মিটার)।

অপূর্ব এই পথের শোভা। অতীতের হিন্দুস্তান-টিবেট রোড, বর্তমানে ৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ক্রমশ নীচে নেমে চলা। লুয়ানে এসে বাঁ দিকে পাওয়া যাবে শতদ্রুকে। এর পর দীর্ঘ পথ বাঁ দিকে শতদ্রুকে রেখে এগিয়ে যায়। পথ প্রায় সমতল, উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮০০-৯০০ মিটার। রামপুর ছাড়িয়ে আরও এগিয়ে যান। জিওরি পর্যন্ত গিয়ে ডান দিকে পথ আবার উঠেছে সারাহান পর্যন্ত।

sunset at sarahan
সারাহানে সূর্যাস্ত।

বরফাবৃত শ্রীখণ্ড পর্বতমালার পাদদেশে সারাহান, কিন্নরের গেটওয়ে। অতীতের বুশাহার রাজার গ্রীষ্মাবাস ছিল এই সারাহান। ভিমাকালী মব্দিরের জন্য বিখ্যাত। হিন্দু ও তিব্বতীয় শৈলীতে তৈরি এই মন্দিরটির স্থাপত্য দেখার মতো। দেখে নিন পাহাড়টঙে মোনাল পাখির প্রজনন কেন্দ্রহাওয়াঘর তথা ভিউ পয়েন্ট থেকে শ্রীখণ্ড শিখররাজি দেখুন। দু’টো থেকে ধীরেসুস্থে ঘুরুন সারাহান, উপভোগ করুন শীতের সারাহানের নৈসর্গিক শোভা।

নবম দিন – রাত্রিবাস চ্যেল।

(এক দিনে টানা ২৭০ কিমি (চণ্ডীগড়) বা ২৪৫ কিমি (কালকা) জার্নি করা শরীরের পক্ষে কষ্টসাধ্য হতে পারে। তাই আমাদের পরামর্শ একটা দিন মাঝপথে কাটান। সে ক্ষেত্রে ১৮০ কিমি দূরের চ্যেল আদর্শ জায়গা।)

snow covered road to chail
বরফে ঢাকা চ্যেলের রাস্তা।

২২৫০ মিটার উচ্চতায় চ্যেল পক্ষীপ্রেমিকদের স্বর্গ। বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্রিকেট খেলার মাঠ। ওক, রডোডেনড্রন আর হেমলকে ছাওয়া চ্যেলের মূল আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক শোভা। হিমালয়ের প্যানোরমিক ভিউয়ের সঙ্গে রাতের কসৌলির আলো সুন্দর দৃশ্যমান চ্যেল থেকে।

দশম দিন – ঘরে ফেরা।

১০২ কিমি দূরের চণ্ডীগড় বা ৮০ কিমি দূরের কালকা এসে ঘরে ফেরার ট্রেন ধরুন।

২) অমৃতসর হয়ে কাংড়া উপত্যকা

হাওড়া থেকে অমৃতসর মেল রোজ সন্ধে ৭.১০ মিনিটে ছেড়ে অমৃতসর পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৮.৫৫ মিনিটে। কলকাতা স্টেশন থেকে অকাল তখ্‌ত এক্সপ্রেস বুধ ও রবি সকাল ৭.৪০ মিনিটে ছেড়ে পৌঁছোয় দ্বিতীয় দিন বিকেল ৫.২০ মিনিটে, দুর্গিয়ানা এক্সপ্রেস মঙ্গল ও শনি দুপুর ১২.১০ মিনিটে ছেড়ে পৌঁছোয় একই সময়ে আর শিয়ালদা থেকে জালিয়ানওয়ালাবাগ এক্সপ্রেস শুক্রবার দুপুর ১.১০ মিনিটে ছেড়ে পৌঁছোয় দ্বিতীয় দিন সন্ধে ৭.৪৫ মিনিটে।golden temple, amritsarদিল্লি থেকে অমৃতসর আসার অনেক ট্রেন আছে। মোটামুটি সাত থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। সুতরাং দিনে দিনে অমৃতসর এসে পৌঁছোনো যায়। মুম্বই থেকে ৩১ থেকে ৪১ ঘণ্টা সময় লাগে অমৃতসর পৌঁছোতে।

প্রথম দিন – রাত্রিবাস অমৃতসর।

অমৃতসরে দেখে নিন স্বর্ণ মন্দির, জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দুর্গিয়ানা মন্দির। ৩১ কিমি দূরের ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ওয়াঘা

দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন – রাত্রিবাস ডালহৌসি (২০০০ মিটার)।

অমৃতসর থেকে ১১০ কিমি দূরের পাঠানকোট হয়ে চলুন ডালহৌসি। সকালের দিকে ট্রেন/বাস/ট্যাক্সি ধরে পাঠানকোট চলুন। ঘণ্টা তিনেকের জার্নি। পাঠানকোট থেকে ডালহৌসি আসার জন্য বাস/গাড়ি পাবেন। ৮০ কিমির কিছু বেশি, ঘণ্টা তিনেকের জার্নি। চেষ্টা করুন অমৃতসর থেকে ভোর ভোর বেরিয়ে দুপুর ১টা/দেড়টার মধ্যে ডালহৌসি পৌঁছোতে।

ডালহৌসিতে দেখে নিন সাতধারা, পঞ্চপুল্লা জলপ্রপাত, বাকরোটা পাহাড়, সেখান থেকে দেড় কিমি হেঁটে খুঁজে নিন রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত স্নো-ডন বাড়ি, সুভাষ বাওলি, নেহরু টিব্বা ইত্যাদি।

khajjiar
খাজিয়ার।

ডালহৌসি থেকেই ঘুরে আসুন খাজিয়ার, দূরত্ব ২২ কিমি। ১৯৬০ মিটার উঁচুতে ২ কিমি লম্বা ও ১ কিমি চওড়া সবুজ রূপসী উপত্যকা খাজিয়ার। 

উৎসাহ ও ক্ষমতা থাকলে খাজিয়ারের পথে ১০ কিমি দূরে লক্কর মন্ডি থেকে ৩ কিমি হাঁটা পথে চলুন কালাটপ (২৪৪০ মিটার)।

river ravi in chamba
চম্বায় ইরাবতী।

ষষ্ঠ দিন ও সপ্তম দিন – রাত্রিবাস চম্বা।

ডালহৌসি থেকে চম্বা ২৪ কিমি। ইরাবতীর তীরে চম্বায় (৯৯৬ মিটার) প্রথম দিন দেখে নিন প্রাসাদ, একাধিক মন্দির, মিউজিয়াম সহ স্থানীয় দ্রষ্টব্যগুলো। শীতের দুপুর কাটান চৌগানে। ভালো লাগবে।

temple in bharmour
ভারমোরের মন্দির।

পরের দিন চলুন ৬৬ কিমি দূরের ভারমোর (২১৯৫ মিটার, ৭ শতক থেকে ১১ শতকের মধ্যে নির্মিত ৮৪টি শিবমন্দিরের জন্য বিখ্যাত), সেখান থেকে মণিমহেশের প্রবেশদ্বার হাডসার (আরও ১৮ কিমি)। হাডসারের পথে বরফ পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

ঘুরে আসতে পারেন ৩৭ কিমি দূরে ইরাবতী নদীর ওপর ১৭০০ মিটার উঁচুতে চামেরা ড্যাম ও লেক। এটি ডালহৌসি থেকেও ঘুরে আসা যায়। দূরত্ব ৩৪ কিমি।

dal lake
ডাল লেক।

অষ্টম, নবম ও দশম দিন  – রাত্রিবাস ধরমশালা।

চম্বা থেকে চলুন ধরমশালা (১৪৫৭ মিটার), ১৩০ কিমি মতো। চেষ্টা করুন আপার ধরমশালা (ম্যাকলিয়ডগঞ্জ, ২০৮২ মিটার) বা নড্ডিতে (২০০০ মিটার) থাকতে। ধরমশালা (লোয়ার) থেকে আরও ১০-১২ কিমি। চম্বা থেকে সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন। চেষ্টা করুন মধ্যাহ্নভোজের আগে পৌঁছোতে।

stadium, dharamshala
ধরমশালা স্টেডিয়াম।

ধরমশালায় কী দেখবেন

প্রথম দু’টো দিন ধরমশালায় ঘোরাঘুরি। দেখুন ডাল লেক, ভাগসুনাগ ফলস্‌ভাগসুনাথ মন্দির, নড্ডিতে নামগিয়াল মন্যাস্ট্রি (দলাই লামার বাসভবন), কাংড়া আর্ট মিউজিয়াম (কোতোয়ালি বাজারে), গিউতো মন্যাস্ট্রি (ম্যাকলিয়ডগঞ্জে), অঘনজর মহাদেব মন্দির (ধরমশালা ৮.৫ কিমি দূরে খানিয়ারা গ্রামে), দলাই লামা টেম্পল কমপ্লেক্স (ম্যাকলিয়ডগঞ্জে), মণি লাখাং স্তূপ (ম্যাকলিয়ডগঞ্জে), নামগিয়ালমা স্তূপ (ম্যাকলিয়ডগঞ্জে), কুনাল পাথরি রক টেম্পল (কোতোয়ালি বাজার থেকে তিন কিমি) ইত্যাদি।

jwalamukhi temple
জ্বালামুখী মন্দির।

ধরমশালা অবস্থানে তৃতীয় দিনে চলুন জ্বালামুখী (৫২ থেকে ৬৫ কিমি, ধরমশালায় কোথায় থাকবেন তার ওপরে), সেখান থেকে চিন্তপূর্ণী (৩৫ কিমি)। ফিরুন ধরমশালা (৭৭ কিমি থেকে ৯০ কিমি, ধরমশালায় কোথায় থাকবেন তার ওপরে)।

একাদশ ও দ্বাদশ দিন– রাত্রিবাস পালামপুর (১৪৭২ মিটার)।

একাদশ দিনে ধরমশালা থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ুন। ১৮ কিমি দূরের কাংড়ায় দুর্গ, মন্দিররাজি দেখে কাংড়া মন্দির স্টেশন থেকে ন্যারো গেজ ট্রেনে চলুন পালামপুর। ট্রেন বিকেল ৩টেয়, পালামপুর পৌঁছে দেবে বিকেল সাড়ে ৪টেয়। তুষারমণ্ডিত ধৌলাধার দেখার জন্য এই ট্রেনে চড়া। ট্রেনের বাঁ দিকে বসবেন।

palampur
পালামপুর।

পরের দিন পালামপুর থেকে দেখে আসুন চামুণ্ডাদেবী মন্দির (১৯ কিমি), বৈজনাথ (১৬ কিমি, নবম শতকের শিব মন্দির, অনেকে বলেন দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম)। মনে রাখবেন পালামপুরের দু’ দিকে চামুণ্ডাদেবী ও বৈজনাথ। বাকি সময় ঘোরাঘুরি চা বাগানের শহর পালামপুরে

ত্রয়োদশ দিন – ঘরে ফেরা।

ঘরে ফেরার ট্রেন ধরতে চলুন ১১৪ কিমি দূরের পাঠানকোটে। কলকাতা আসার হিমগিরি ও জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস রাতে। দিল্লি আসার ট্রেন দিনে বা রাতে সব সময়েই আছে। সেই সময় আন্দাজ করে পালামপুর থেকে বেরিয়ে পড়ুন।

কোথায় থাকবেন

(১) অমৃতসর ছাড়া সব জায়গাতেই হিমাচল পর্যটন উন্নয়ন নিগমের বাংলো আছে। অনলাইন বুকিং hpdtc.nic.in। কলকাতায় hpdtc মার্কেটিং অফিস, যোগাযোগ ০৩৩-২২১২৬৩৬১। ই-মেল [email protected]

giriganga resort, hptdc.
গিরিগঙ্গা রিসর্ট, হিমাচল পর্যটন।

(২) বেসরকারি হোটেল সব জায়গাতেই আছে। make my trip, goibibo, yatra.com, triviago.in  ইত্যাদির মতো ওয়েবসাইটগুলিতে সন্ধান পাবেন।

(৩) শিমলা ও ডালহৌসিতে অনেক হলিডে হোম আছে। খোঁজ পাবেন www.holidayhomeindia.com থেকে।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) হিমাচলের মোটামুটি সব পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যেই বাস যোগাযোগ আছে। তবে পাহাড়ি পথে বাসের ওপর নির্ভর করা মুশকিল হয়। তাই গাড়ি ভাড়া করে ঘোরাই ভালো। প্রথম ভ্রমণছকের ক্ষেত্রে ভ্রমণের চতুর্থ দিনে শিমলা থেকে গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন খাড়াপাথরের উদ্দেশে। দশম দিনে চণ্ডীগড় বা কালকা গিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিন।

the road from roharu to kharapathor by the side of pabbar river.
রোহরু থেকে খাড়াপাথরের রাস্তা, পব্বর নদীর ধার দিয়ে।

(২) দ্বিতীয় ভ্রমণছকের ক্ষেত্রে টানা গাড়ি ভাড়া না করলেও চলবে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়ি করুন। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে সেখানে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরুন। অনেক জায়গায় বাসও পাবেন। কিছু জার্নি বাসে করতে পারেন, যেমন, পাঠানকোট-ডালহৌসি, ধরমশালা-কাংড়া, পালামপুর-চামুণ্ডা, পালামপুর-বৈজনাথ ইত্যাদি। তবে গাড়ি করলে সময় অনেক বাঁচে, ভ্রমণ আরামপ্রদ হয়।

(৩) শিমলায় ম্যালের আশেপাশের হেঁটে ঘুরুন। জাকু হিলস ঘোড়ায় চেপে যেতে পারেন। বাকি জায়গাগুলি গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নিন। শিমলায় যে হোটেলে থাকবেন সেখানে বলে দিলে গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এমনিই শিমলায় ঘোরাঘুরি করলে গাড়ির চালকরা আপনাকে ছেঁকে ধরবে। হিমাচল পর্যটন সারা দিনের কন্ডাক্টেড ট্যুরে নিয়ে যায়। পর্যটনের কলকাতার অফিসে বা শিমলার অফিসে খোঁজ নিয়ে নিন। ম্যালেই হিমাচল পর্যটনের অফিস। যোগাযোগ – ০১৭৭ ২৬৫ ২৫৬১

(৪) শিমলা ঘোরার জন্য একটা দিন রাখুন। এক একটা দিন গাড়ি ভাড়া করে চলুন মাসোব্রা-নলদেরা-তত্তাপানি, কুফরি-ফাগু।

sutlej, on way from narkanda to sarahan
নারকান্ডা থেকে সারাহান যাওয়ার পথে শতদ্রু।

মনে রাখবেন

(১) ট্রেনের সময় পালটাতে পারে। যাত্রার আগে ভালো করে চেক করে নেবেন। ট্রেনের সময় জানার জন্য দেখুন erail.in।

(২) শীতে উত্তর ভারতে খুব কুয়াশা হয়। ফলে ট্রেন বেশ দেরিতে চলে। তবে তারই মধ্যে রাজধানী ও শতাব্দী এক্সপ্রেসে লেট হয় অনেক কম। সুতরাং রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি এসে সেখান থেকে শতাব্দীতে কালকা আসতে পারেন। অথবা দিল্লি থেকে রাতে কাশ্মীরি গেট বাসস্ট্যান্ড থেকে শিমলার বাস ধরুন। ঘণ্টা দশেক লাগে। সে ক্ষেত্রে পরের দিন সকালেই শিমলা পৌঁছোনো সম্ভব। তবে এ ভাবে এলে কালকা-শিমলা পথের সৌন্দর্য অদেখা থেকে যায়।

toy train to shimla
শিমলাগামী টয় ট্রেন।

(৩) টয় ট্রেনে আগাম আসন সংরক্ষণ কিন্তু ৩০ দিন আগে, অন্যান্য ট্রেনের মতো ১২০ দিন আগে নয়।

(৪) দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেনে/বিমানে চণ্ডীগড় আসা যায়। সেখানকার আইএসবিটি থেকে শিমলার বাস ছাড়ে, শিমলা যাওয়ার ট্যাক্সিও মেলে।

(৫) হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন দিল্লির কাশ্মীরি গেটে আইএসবিটি থেকে সারা দিনই শিমলা যাওয়ার নানা ধরনের বাস চালায়। দিল্লি এলে ট্রেনের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে বাস নির্বাচন করবেন। অনলাইন বুকিং-এর জন্য লগ ইন করুন www.hrtchp.com ।  অন্য বাসের জন্য দেখুন www.redbus.in

(৬) পাহাড়ি অঞ্চলে পরের গন্তব্যে পৌঁছোনোর জন্য সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়বেন। রাস্তার অবস্থা কখন কেমন থাকে বলা যায় না।

(৭) যেখানেই যান পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র রাখবেন।

(৮) ধরমশালায় মন্যাস্ট্রি বা মিউজিয়াম খোলার নির্দিষ্ট সময় আছে। সেটা আগাম জেনে নিতে পারলে ঘোরার সুবিধা হয়।

(৯) তুষারপাতের জন্য রাস্তায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। চিন্তিত হবেন না। খুব তাড়াতাড়ি বরফ পরিষ্কার করে ফেলা হয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here