Connect with us

Khaboronline

শুধু কি বই, হোক না স্বাদ বদল

স্মিতা দাস বহুর বহু আশা। বইমেলায় কেউ যায় বই কিনতে। কেউ কেবলই বই দেখতে। কেউ বই ঘাঁটতে। কেউ বা শুধুই ঘুরতে। আবার কেউ যায় মিষ্টি আলাপে একটা বেলা কাটিয়ে দিতে। কিন্তু বইমেলায় শুধু তো বই-ই নয়, আছে অন্য অনেক কিছু। কিন্তু কেন, কী কারণে এমন বিচিত্র সব পণ্যের আয়োজন কলকাতা বইমেলায় ? কারও উদ্দেশ্য নিছকই […]

Published

on

smita das

স্মিতা দাস
বহুর বহু আশা। বইমেলায় কেউ যায় বই কিনতে। কেউ কেবলই বই দেখতে। কেউ বই ঘাঁটতে। কেউ বা শুধুই ঘুরতে। আবার কেউ যায় মিষ্টি আলাপে একটা বেলা কাটিয়ে দিতে। কিন্তু বইমেলায় শুধু তো বই-ই নয়, আছে অন্য অনেক কিছু। কিন্তু কেন, কী কারণে এমন বিচিত্র সব পণ্যের আয়োজন কলকাতা বইমেলায় ? কারও উদ্দেশ্য নিছকই পেটের রুজি জোগাড় করা, কারও বা উদ্দেশ্য আরও বড় বাজার ধরা, কেউ বা বাজিয়ে দেখছেন কিছু করে পকেটমানি জোগাড় করা যায় কিনা, অনেকে আবার নিজের ক্রিয়েটিভিটি ঝালিয়ে নিচ্ছেন।
মেলায় ঘুরতে ঘুরতে এমন এক সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে আলাপ হয়ে গেল যারা গরিব, অত্যাচারিত, ধর্মীয় অহিষ্ণুতার দরুন নিপীড়িত, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের দরুন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য মেলায় এসেছেন। তাঁরা বসেছেন তাঁদের হস্তশিল্পের সম্ভার নিয়ে। কাঠের তৈরি নানা আর্টফর্ম। কথা হচ্ছিল ‘আমরা’ নামের ওই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিবাদী সংগঠনের অন্যতম সদস্যা উল্টোডাঙার টুম্পা মণ্ডলের সঙ্গে। টুম্পা জানান, “ন’ বছর ধরে আমরা এর সঙ্গে যুক্ত। যেখানে মানুষের ওপর অত্যাচার হয়, হাঙ্গামা হয়, আমরা সেখানে গিয়ে ফিল্ড সার্ভে করি, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করি। সেই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং-এর জন্য আমাদের যে আর্থিক সাপোর্টটা দরকার সেই সাপোর্টের জন্য আমরা ক্রাফটটাকে ইউজ করি। এর পাশাপাশি আমরা নিপীড়িতদেরও আর্থিক সাহায্য করি। এই সব সামগ্রী বিক্রি করে যে ফান্ডটা আমরা পাব তা আমরা ‘আমরা’র কাজে লাগাব।”

Loading videos...

boim
মেলায় এসেছেন সালকিয়ার রাজকুমার মণ্ডল। নানা ধরনের কাগজ জলে ভিজিয়ে রেখে কী ভাবে একটা শক্ত অথচ হাল্কা পদার্থ তৈরি করা যায় এবং সেই পদার্থ দিয়ে কী ভাবে নানা মুর্তি বানানো যায়, তার উপায় বের করেছেন রাজকুমার। আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে নিজের মস্তিষ্কজাত সেই সব সন্তানকে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতে বইমেলার ভূমিকেই বেছে নিয়েছেন। জানালেন, “বইমেলায় অনেক বন্ধু হয়ে গেছে। গত পাঁচ-ছ’ বছর ধরে আসি। তাঁদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হয় আর এখান থেকে যা ইনকাম হয় তা আবার এই কাজেই ব্যয় করি। আমি অন্য প্রফেশনে আছি। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পর যেটুকু অবসর থাকে, সেই সময়টায় আমি এই কাজটা করি। বইমেলার জন্য প্রস্তুতি নিই।”
খড়দা থেকে আসা কন্টেণ্ট ‘ম্যানেজার অ্যান্ড এডিটর’ অদিতির গোষ্ঠী আবার নিজেদের একটা আলাদা গন্ধ দিতে মেলার বুকে ছোটদের প্রিয় মিকি-মিনি, টম-জেরি, বড়দের প্রিয় চার্লি চ্যাপলিন থেকে শুরু করে আধুনিকা বার্বি মডেল বা যুবক-যুবতীদের পচ্ছন্দের নানা থিমে রাঙানো কুর্তি আর টি-শার্টের সম্ভার সাজিয়ে বসেছেন। অদিতি জানালেন, “আমরা কেউ অদিতি, কেউ অভিষেক, কেউ বা অরিত্র কিংবা পিউ। আমাদের ক্রিয়েটিভিটি দিয়েই আমাদের একটা আইডেন্টিটি তৈরি হবে। এখানে এসে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। এর থেকে বুটিক খোলার পরিকল্পনা মাথায় পরিপূর্ণ ভাবে আছে।” যখন জামাকাপড়ের কথায় এসেই গেল তা হলে আর অলংকার সামগ্রীই বা বাদ পড়ে কেন? তা-ও আছে। মনভোলানো ডিজাইনের কান-গলা–হাতের গয়না। মেটিরিয়াল খুব সাধারণ। মাটি, কাঠ, ধান, রঙ, সুতো, রঙিন পুঁতি ইত্যাদি। সাধারণ হলেও এ সবের গয়না অন্য যে কোনও মেটিরিয়ালের তৈরি গয়নার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটতে পারে। ওই দোকানের ভিড় বইমেলার বইয়ের স্টলগুলোর জনপ্রিয়তাকেও ম্লান করে দিয়েছে এক কথায়।

boim2 (2)
বইমেলা শুধু তো বইয়ের মেলা নয়। দেশ-দেশান্তর, রাজ্য-রাজ্যান্তর থেকে কেবল লেখক-প্রকাশকরাই আসেন না, আসেন চিত্রশিল্পীরাও। যেমন এসেছেন প্রতিবেশী বিহারের জিতওয়ারপুর থেকে রাজ্য পুরস্কার প্রাপ্ত মধুবনী মিথিলা ঘরানার মহিয়সী মায়ের সুপুত্র মহোদয় ঝাঁ, তাঁদের রকমারি স্টাইলের চিত্রকলা নিয়ে। উদ্দেশ্য, পুরনো যোগাযোগগুলো ঝালিয়ে নিয়ে আরও প্রচার পাওয়া, আরও নতুন নতুন সৃষ্টি-সম্ভার গুণগ্রাহীদের উপহার দেওয়া। কলকাতার বিভিন্ন পুজো-প্যাণ্ডেলে তাঁদের ঘরানার চিত্রকলা দেখা পাওয়া যায় বলেও তাঁরা জানান। মহোদয়বাবু জানালেন তাঁরা কলকাতায় কবে কোথায় ‘পান্ডালের’ কাজ করেছেন। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড থেকে বাগুইহাটি, সোদপুর থেকে কাঁকুড়গাছি –- কোথায় কাজ করেননি মহোদয় ঝাঁ! বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁরা কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পুজোয় কাজ করছেন। প্যান্ডেল সাজানোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম যে কেবল প্রতিবেশী রাজ্যের চিত্র-ঘরানা তা তো নয়, নিজের রাজ্যের শিল্পীরাই বা বাদ পড়বেন কেন? তাঁরাও আছেন এই বইমেলায়। এসেছেন পটচিত্র শিল্পীদের প্রায় ষাট জনের একটা দল, যাঁরা সারা বইমেলা জুড়ে ছড়িয়ে আছেন রঙিন পটচিত্রে আঁকা হাতি-ঘোড়া-শিব-পার্বতীর নানা কাহিনি নিয়ে, জানালেন নয়াগ্রাম-পিংলা থেকে আসা মধু চিত্রকর। তাঁর কাছ থেকেই জানা যায়, প্রথমে তাঁরা কেবল পৌরাণিক গল্পকাহিনিই পটচিত্রে ফোটাতেন। কিন্তু এখন যুগের সঙ্গে পাল্লা দিতে ফরমায়েশি বিষয় নিয়েও কাজ করছেন। এমনকী এখন মনকাড়া ড্রেস মেটিরিয়াল, ঘর সাজানোর জিনিসেও পটচিত্রের ব্যবহার চলছে এবং তা বাজারে হৈ হৈ করে বিকোচ্ছে। মধু চিত্রকর বললেন, “একটু একটু করে পালটে দিয়েছি বিষয়গুলো। যেমন এখন পরিবেশ দূষণ, নারী নির্যাতন, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী ইত্যাদি নিয়ে পট বানাচ্ছি। আবার পটের পুরনো বিষয়গুলো বিভিন্ন জিনিসের ওপর আঁকছি। যেমন জামা, শাড়ি, কুর্তি, টি শার্ট, ব্যাগ, ঘর সাজানোর জিনিস, পাখা, কুলদানি এ সব।” শুধু পণ্য বেচাই নয়, এঁদের বইমেলায় আসার অন্য উদ্দেশ্যও আছে। সেটা হল ‘বড়’ বাজার ধরা। পুজো-প্যাণ্ডেলের অঙ্গসজ্জার বায়না পাওয়া, বিদেশি কাস্টমারদের অর্ডার পাওয়ার মাধ্যম হল এই বহু প্রতীক্ষিত বইমেলা। বছরের বাকি সময়টা জীবনযাপনের তাগিদে কেউ নিজের কেউ বা পরের মাঠে চাষের কাজ করলেও এই সময়টায় বইমেলায় আসা থেকে কেউ তাঁদের আটকাতে পারে না।
মেলায় ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়ে যায় বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দিকে যাঁরা নিজেদের আরও স্বনির্ভর করতে বইমেলাকে অবলম্বন করেছেন। আছে বেশ কিছু পাটজাতদ্রব্য, ব্যাগ, ঘর সাজানোর জিনিস, নানা দরকারি-অদরকারি জিনিসের ছোট-বড় হরেক কালেকশন। বারুইপুরের মালঞ্চ থেকে এসেছেন পুরস্কারপ্রাপ্ত টেরাকোটা শিল্পীর স্ত্রী মালবিকা অধিকারী। বিয়ের পর স্বামীর সখ ও পেশাকে নিজের করে নিয়েছেন মালবিকা। তিনি জানান, “গত বছর আমার স্বামী দু’টো পুরস্কার পেয়েছেন, রাজ্য ও জেলা স্তরে। একটায় প্রথম আর একটায় দ্বিতীয়। মেলায় ভালোই সাড়া পাচ্ছি।” বেলঘরিয়ার দেবাশিস চন্দ্রও বাদ যাননি। ঘর সাজানোর স্বহস্ত-নির্মিত কাঠের সামগ্রী সাজিয়ে বসেছেন মিলনমেলা প্রাঙ্গণে। দিঘার বাসিন্দা উষারঞ্জন মণ্ডল উপস্থিত তাঁর নিজের শৈলীর ডট পেণ্টস নিয়ে। তিনি জানান “আমার যে হেতু ড্রয়িং ভালো লাগে তাই ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং করার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তাতে মনে হল, আমার লাইনটা আটকে যাচ্ছে। দু’ সপ্তাহ আগে একটা শো ছিল। সেখানে তিনটে ছবি বিক্রি হয়েছে। একটা গেল সিডনি, একটা মুম্বই, আর একটা বিক্রি হয়েছে দিল্লিতে। আগামী ৯ তারিখে আমার দু’টো পেন্টিং-র অকশন আছে টাটা স্টিলের আর্টক্যাম্পে।”

boim3
কেউ বা আঁকছেন কেবলই স্কেচ। ছবি আঁকিয়েদের ভিড়ে দেখা গেল কোনও দিনও আঁকার স্কুলের মুখ-না-দেখা অবাঙালি যুবক সনু চৌরাসিয়াকে। বইমেলায় ঘুরতে এসে বাকি শিল্পীদের দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে কেবলমাত্র দু’টি চেয়ার, কিছু আর্টপেপার নিয়ে বসে পড়েছেন। উডপেন্সিলের টানে নিজের পারদর্শিতার পরিচয় দিয়ে পাকা হাতের সঙ্গে রীতিমতো পাল্লা দিচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশের সনু জানান “ম্যাঁয় তো অভি বি টেক পড় রহা হুঁ। ইধর পে ম্যাঁয় ঘুমনে আয়া থা। তো ম্যাঁয় নে সোচা কি ম্যাঁয় ভি বৈঠ যাতা হুঁ। মেরা ভি পকেটমানি নিকাল জায়েগা। লোন লিয়া পড়নে কে লিয়ে। দো দিন মে মেরা টু থাউজেন্ড হো গিয়া হ্যায়। ইয়ে মেরা ফার্স্ট টাইম হ্যায়, অওর উহ ভি কলকাতা মে।”
আলাপ হয়ে গেল পিকনিক গার্ডেনের প্রবীর দত্তের সঙ্গে। রঙবেরঙের নানা কাগজের টুকরো দিয়ে অবিরাম বানিয়ে চলেছেন নানান কোলাজ। যেমন রঙিন তেমন অভিনব। তিনি জানান, তিনি আর্টের অনেক কাজ করেন, তবে কাগজ দিয়ে কাজটা তাঁর বেশি ভালো লাগে। কাগজের কোলাজ ওঁর খুব প্রিয়।এ ছাড়া প্রিন্টিং-এরও কাজ করি। ডাল, মশলাদানা দিয়ে যে কাজগুলো হয় সে কাজও করেন। তিনি জানালেন, “বইমেলা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তিনি খুশি। আলোর সমস্যা ছিল। ওঁরা আলোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।” ওঁর সামনের ভিড় প্রমাণ করল যে ওই কাগজ-কাটা কোলাজে অদ্ভুত রঙের মিশেল যেন অনন্য।
আর একটা বিষয় গান। মেলাপ্রাঙ্গণ মানেই গান। থাকবেই থাকবে। সে যে ভাবেই হোক। তেমনই এক জনের দেখা মিলল। যাঁর কণ্ঠ বেশ খানিকটা দূর থেকেও শ্রোতাদের কানে ঢুকছে আর মুখরিত হছে মেলাপ্রাঙ্গণের খানিকটা।
বই তো কেবল বই না। বই একটা শিল্প। শিল্প ডেকে আনে অন্য শিল্পকে। তাই মিলনমেলা প্রাঙ্গণে ঘুরতে ঘুরতে একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই দেখা মেলে এমন বহু শিল্পী আর শিল্পের। যা মেলাকে যেমন বৈচিত্র দেয় তেমনই শিল্পীকে দেয় পরিসর, দেয় পরিচিতি। বহু শিল্পীর রুজির জোগাড় করে বইমেলা। বইমেলায় বই তো চাই-ই চাই। সঙ্গে হোক না, স্বাদ বদল।

ছবিঃ লেখিকা

Khaboronline

কফি হাউসের আড্ডা থেকে বিশ্বের দরবারে

শ্রয়ণ সেন: কফি হাউসের আড্ডা শুধু মান্না দের কালজয়ী গানেরই সাক্ষী নয়, সাক্ষী আরও অনেক কিছুরই। শহরের বুদ্ধিজীবীদের মিলনক্ষেত্র রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক চর্চার জায়গা এই কফি হাউসই সাক্ষী শহরের গর্বের বইমেলার। ১৯৭৪-এ কলেজ স্ট্রিট বই পাড়ার এক দল তরুণ প্রকাশকের আড্ডায় উঠে আসে বইমেলার প্রস্তাব। তাঁদের চর্চার বিষয় ছিল, কী ভাবে প্রকাশনা ব্যবসাকে আরও জোরদার করা যায়, […]

Published

on

wrivu

শ্রয়ণ সেন:
কফি হাউসের আড্ডা শুধু মান্না দের কালজয়ী গানেরই সাক্ষী নয়, সাক্ষী আরও অনেক কিছুরই। শহরের বুদ্ধিজীবীদের মিলনক্ষেত্র রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক চর্চার জায়গা এই কফি হাউসই সাক্ষী শহরের গর্বের বইমেলার।
১৯৭৪-এ কলেজ স্ট্রিট বই পাড়ার এক দল তরুণ প্রকাশকের আড্ডায় উঠে আসে বইমেলার প্রস্তাব। তাঁদের চর্চার বিষয় ছিল, কী ভাবে প্রকাশনা ব্যবসাকে আরও জোরদার করা যায়, বইপ্রেমীদের বাংলা বইয়ের আরও কাছে টানা যায়। শুধু বই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়োজিত বিশ্বের সব চেয়ে বড় মেলার প্রসঙ্গ উঠে এল। এই প্রস্তাবে সমর্থন যেমন ছিল, বিরোধিতাও ছিল। তরুণরা যতই বইমেলার প্রস্তাবে রাজি ছিলেন, প্রবীণরা তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বই কখনওই মেলায় বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। কিন্তু কোনও কিছুতেই তরুণদের টলানো গেল না। শুরু হয়ে গেল বইমেলার প্রস্তুতি। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৭৫-এ প্রকাশকদের নিয়ে গঠিত হল ‘পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড’। প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হলেন সুশীল মুখার্জি, জয়ন্ত মনকতলা হলেন প্রথম সাধারণ সম্পাদক।
এল সেই দিন। ৫ মার্চ, ১৯৭৬। ৫৬টি স্টল আর ৩৪ জন প্রকাশককে নিয়ে কলকাতা বইমেলার পথ চলা শুরু। ৫০ পয়সা প্রবেশমূল্য নিয়ে বিড়লা তারামণ্ডলের উল্টো দিকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল–এর লাগোয়া মাঠে আয়োজিত প্রথম বইমেলা উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাজ্যপাল এ এল ডায়াস ও শিক্ষামন্ত্রী মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় বইমেলা আয়োজন করার পাশাপাশি গিল্ড এ বছরই বিশ্ব বইমেলা আর ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাতেও অংশগ্রহণ করে। ধীরে ধীরে আরও বড় হতে শুরু করে বইমেলা। সাহিত্যসভা, সেমিনার-সহ আরও নানা অনুষ্ঠান জায়গা করে নিল বইমেলার সূচিতে। বিদেশের কোনও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের আদলে তৈরি হওয়া শুরু হল বইমেলার প্রবেশদ্বার আর গিল্ড অফিস তৈরি হত দেশের কোনও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের আদলে। ১৯৮৩ সালে মেলা সরে এল আরও বড় জায়গায়, রবীন্দ্র সদনের বিপরীতে এখন যেখানে ‘মোহরকুঞ্জ’, সেখানে। সে বছরই শহরের প্রাণের মেলা পেল এক গর্বের স্বীকৃতি। মেলার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থার (আইপিএ) সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি কথা বললেন গিল্ড সদস্য অশোক ঘোষের সঙ্গে। কলকাতা বইমেলার মাথায় উঠল ‘আন্তর্জাতিক’ তকমা। বইমেলা জায়গা করে নিল আইপিএ-র ক্যালেন্ডারে। আনন্দের মুহূর্তেও আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর প্রধান সম্পাদক অশোক সরকারের মৃত্যুতে নেমে আসে শোকের ছায়া। বক্তৃতার মধ্যে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি।
আরও নতুন নতুন প্রকাশনাসংস্থা আসতে শুরু করায় পুরনো জায়গায় আর কোনও ভাবেই বইমেলা করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই ১৯৮৮-তে বইমেলা পেল নতুন এক জায়গা। পার্ক স্ট্রিট আর আউটরাম রোড সন্নিহিত এলাকায় ময়দানের একটি পরিত্যক্ত জমিতেই শুরু হল বইমেলা। ভবিষ্যতে গিল্ড এই জায়গাটিকে নিজের খরচেই ভালো করে গড়ে তোলে।
১৯৯১-তে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার আদলে কলকাতা বইমেলাতেও চালু হল ফোকাল থিম। প্রথম বার ফোকাল থিম ছিল অসম। পরবর্তী বছরগুলিতে ফোকাল থিম হিসেবে যথাক্রমে ওডিশা, ত্রিপুরা, বিহার আর পশ্চিমবঙ্গকেও তুলে ধরা হয়েছিল মেলায়। ফোকাল থিমের উদ্দেশ্য ছিল, যে বছর যে রাজ্য ফোকাল থিম সে বছর সেই রাজ্যের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা।

Loading videos...

১৯৯৭-তে বিদেশি রাষ্ট্রকে প্রথম বার ফোকাল থিম করা হয় কলকাতা বইমেলায়। কলকাতা বইমেলা যেন প্রথম বার প্রকৃত ‘আন্তর্জাতিক’ চেহারা নিল। সে বার উদ্বোধনমঞ্চকে আলোকিত করেছিলেন বিখ্যাত ফরাসি সাহিত্যিক জাঁক দেরিদা। সব চেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষীও এই বছরের মেলা। ষষ্ঠ দিনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে যায় মেলায়। আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই এক লক্ষের ওপর বই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এক জনের। তবে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে, হতাশা কাটিয়ে উঠে মাত্র তিন দিনেই ফের নতুন করে শুরু হয় মেলা। পরবর্তী বছরগুলিতে মেলার ফোকাল থিম হয় গ্রেট ব্রিটেন, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, হল্যান্ড, কিউবা, চিলি, স্পেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, মেক্সিকো, ইতালি, পেরু, বোলিভিয়া আর এ বছর এল কোস্তা রিকা। ১৯৯৯-এ বইমেলার অতিথি হয়ে এলেন ‘সিটি অফ জয়’ খ্যাত ডোমিনিক ল্যাপিয়ের আর ২০০৫-এ বইমেলাকে আলোকিত করলেন জার্মান সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাস। এ বারই ময়দানে বইমেলা করার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। সুভাষবাবু দাবি করেন, যথেচ্ছ খোঁড়াখুঁড়ি, মাঠের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়া, খাবারের স্টলে রান্নাবান্না আর মানুষের পায়ের ধুলোর জন্য দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
মামলা জিতলেন সুভাষবাবু। ময়দানে সব ধরনের মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের এক বছরের রেহাইয়ের আর্জি মেনে হাইকোর্ট ২০০৬-এ ময়দানে বইমেলা করার অনুমতি দেয়। উল্লেখ্য ২৫ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি আর ২২ কোটি টাকার ওপর বই বিক্রিতে আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যায় এ বারের মেলা। বইমেলা ময়দানেই থাকুক এই দাবিতে সই সংগ্রহ অভিযান হয়। কিন্তু ২০০৬-এই শেষ বারের জন্য মেলা দেখল শহরের গড়ের মাঠ। ২০০৭-এ বইমেলার প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে তখনই পরিবেশবিদদের করা জনস্বার্থ মামলায় (পিল) মেলা শুরু হওয়ার আগের দিন কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিল কোনও ভাবেই বইমেলা ময়দানে আর করা যাবে না। বিকল্প জায়গা হিসেবে পার্ক সার্কাস ময়দানকে ভেবে রাখা হলেও কোর্টের রায় তার বিরুদ্ধেও গেল। স্থায়ী জায়গার অভাবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ আর ২০০৮-এর বইমেলা। কিন্তু জায়গা কম থাকায় অন্য বারের তুলনায় বই বিক্রি অনেক কম হয়েছিল।
দীর্ঘ টালবাহানার পর বইমেলা পেল তার স্থায়ী জায়গা। ২০০৯-এ সায়েন্স সিটির কাছে মিলনমেলার মাঠে উদ্বোধন হল তেত্রিশতম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার। প্রথম বার প্রকাশিত হল বইমেলার থিম সং, ‘ওই ডাকছে বই’। বইয়ের ডাকে নতুন জায়গাকে আপন করে নিলেন মানুষজন। ২০০৯-এর মিলনমেলার মাঠ আর এখনকার মাঠের মধ্যে বিস্তর ফারাক। সে বারের অপ্রস্তুত মাঠ এখন একেবারে সর্বাঙ্গসুন্দর রূপে হাজির। তৈরি হয়েছে চারটি স্থায়ী ইনডোর হল, স্থায়ী গিল্ড অফিস। স্থায়ী টয়লেট আর স্থায়ী ফুড কোর্টও হয়েছে মেলায়। বইমেলার পালকে নতুন সংযোজন কলকাতা সাহিত্যসভা বা ‘কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভাল’। জয়পুর লিটেরারি মিট আর এডিনবরা লিটারেচার ফেস্টিভাল-এর আদলে তিন দিনের এই ‘মিট’ শুরু হয় ২০১৪-এর বইমেলায়।
অনলাইন শপিং-এর যুগেও মানুষের মধ্যে কলকাতা বইমেলার প্রতি আবেগ আর ভালোবাসা এখনও আগের মতোই অটুট। ১৯৭৪-এ মাত্র কয়েক জন তরুণের মস্তিষ্কপ্রসূত এই মেলা আগামী দিনে বিশ্বের দরবারে আরও প্রতিপত্তি ছড়াবে এই আশা করাই যায়।

Continue Reading

Khaboronline

ইতিহাস গড়া মঙ্গলযানের নেপথ্যে রয়েছেন তিন ভারতীয় মহিলা

বেঙ্গালুরু: ভারতের প্রথম এবং একমাত্র সফল মঙ্গল কক্ষপথ অভিযান ছিল ২০১৩ সালের ‘মার্স অরবাইটাল মিশন’ (মম)। মঙ্গলযান নামেই অবশ্য সারা দেশে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল অভিযান। তবে গৌরব গাঁথার আড়ালেই রয়ে গেছে অন্য এক ইতিহাস। সে ইতিহাস মঙ্গল অভিযানের দায়িত্বে থাকা তিন ভারতীয় মহিলার।  সাফল্যগুলো স্বীকৃতি পায়, নথিভুক্ত হয়। কিন্তু প্রায়শই সবার অলক্ষ্যে থেকে যায় সাফল্যের […]

Published

on

বেঙ্গালুরু: ভারতের প্রথম এবং একমাত্র সফল মঙ্গল কক্ষপথ অভিযান ছিল ২০১৩ সালের ‘মার্স অরবাইটাল মিশন’ (মম)। মঙ্গলযান নামেই অবশ্য সারা দেশে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল অভিযান। তবে গৌরব গাঁথার আড়ালেই রয়ে গেছে অন্য এক ইতিহাস। সে ইতিহাস মঙ্গল অভিযানের দায়িত্বে থাকা তিন ভারতীয় মহিলার। 

সাফল্যগুলো স্বীকৃতি পায়, নথিভুক্ত হয়। কিন্তু প্রায়শই সবার অলক্ষ্যে থেকে যায় সাফল্যের পেছনে থাকা মানুষগুলোর কথা। তেমনই তিন মহিলার কথা সামনে এল কিছুটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘মম’ অভিযানের প্রোজেক্ট ম্যানেজার নন্দিনী হরিনাথ জানিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা।মঙ্গলযান তার পথ চলা শুরু করেছিল ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর।  মহাকাশযানটির যাত্রার প্রস্তুতিপর্ব থেকেই বিশেষ আবেগ জড়িয়ে ছিল নন্দিনীর। ইসরোর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সীতা সোমাসুন্দরমও ছিলেন ওই সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেছেন  আরেক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অনুভূতি। ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, যে দিন প্রথম মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছয় মঙ্গলযান। সোমার ভাষায়, “সে দিনের অনুভূতির কথা সারা জীবন মনে থাকবে। খবরটা শোনার সময়টাই ছিল গোটা দিনটার সুন্দরতম মুহূর্ত”। পেশায় ইসরোর ইঞ্জিনিয়ার মিনাল রোহিতের কাছেও এই মিশনের সাফল্য স্বপ্ন ছোঁয়ার চেয়ে কিছু কম নয়। 

Loading videos...

 

Continue Reading

Khaboronline

হঠাৎ রাজ্যপালের কাছে অখিলেশ, যাদবকুলের লড়াই এবার পোস্টারেও

‘নেতাজি’ মুলায়ম সিং মুখে যতই বলুন, দলে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, সেটা যে সাংবাদিকদের সামনে নিছকই একটি বিবৃতি, তা প্রমাণ হয়ে গেল বুধবারই। দলের সভাপতি শিবলাল যাদব দল থেকে বহিষ্কার করলেন  অখিলেশ-ঘনিষ্ঠ তেজেন্দ্রনারায়ণ তথা পবন পাণ্ডেকে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করতে। মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অবশ্য এ সংক্রান্ত কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দেখা […]

Published

on

‘নেতাজি’ মুলায়ম সিং মুখে যতই বলুন, দলে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, সেটা যে সাংবাদিকদের সামনে নিছকই একটি বিবৃতি, তা প্রমাণ হয়ে গেল বুধবারই। দলের সভাপতি শিবলাল যাদব দল থেকে বহিষ্কার করলেন  অখিলেশ-ঘনিষ্ঠ তেজেন্দ্রনারায়ণ তথা পবন পাণ্ডেকে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করতে। মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অবশ্য এ সংক্রান্ত কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দেখা করেন রাজ্যপাল রাম নায়েকের সঙ্গে।   

রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর এই হঠাৎ সাক্ষাৎ দলের অন্তর্কলহ নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা  আরও বাড়িয়ে দেয়। আগামী ৩ নভেম্বর ‘বিকাশ রথযাত্রা’ বের করা নিয়ে দলের বিধায়ক এবং প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালানোর ফাঁকেই অখিলেশ বেরিয়ে যান এবং রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে আসেন। রাজভবন সূত্রে জানা যায়, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্যপালের কাছে ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী।    

Loading videos...

যাদবকুলের লড়াই ইতিমধ্যে আছড়ে পড়েছে লক্ষ্ণৌর রাস্তাতেও। মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং শিবপাল যাদব সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে পোস্টার-যুদ্ধ। সেই পোস্টার-যুদ্ধে অখিলেশ গোষ্ঠীর অন্যতম টার্গেট অমর সিং। পোস্টারে মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থকরা একদা বড়বাজারের যুব কংগ্রেস নেতা অমর সিং-কেই যাদব পরিবারের মধ্যে বিরোধ বাধানোর জন্য দায়ী করেছে। রাজ্যের রাজধানীর সুলতানপুর রোডে পড়েছে এই পোস্টার। দলীয় সভাতেও অমর সিং-এর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন অখিলেশ। তলে তলে বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁত রেখে ঘর ভাঙানোর কাজে নেমেছেন অমর সিং, এই অভিযোগ অখিলেশ শিবিরের।

শুধু পোস্টার যুদ্ধ নয় অখিলেশ এবং শিবপাল সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতিরও খবর পাওয়া গিয়েছে লক্ষ্ণৌর বিভিন্ন জায়গায়।  

ছবি: টুইটার

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
কলকাতা1 hour ago

আগুনে বিপর্যস্ত অনলাইন টিকিট বুকিং পরিষেবা

দেশ2 hours ago

কয়লাঘাট বিল্ডিংয়ের আগুনে শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন

দেশ2 hours ago

শ্বশুরবাড়িতে যেই গায়ে হাত তুলুক, স্ত্রীর উপর প্রতিটি আঘাতের জন্য স্বামীই দায়ী: সুপ্রিম কোর্ট

ক্রিকেট3 hours ago

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল লর্ডসে হবে না: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

শিক্ষা ও কেরিয়ার4 hours ago

দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন, জানুন নতুন দিনক্ষণ

দেশ4 hours ago

কিছুটা স্বস্তি দিয়ে দৈনিক সংক্রমণকে ছাড়াল সুস্থতার সংখ্যা, মহারাষ্ট্রে এক দিনে সুস্থ ন’হাজার

কলকাতা4 hours ago

এক বছর পর কলকাতা মেট্রোয় ফিরছে টোকেন

রাজ্য5 hours ago

রাজ্যে পাল্লা ভারী তৃণমূলেরই, জানাল আরও একটি সমীক্ষা

রাজ্য3 days ago

কেন তড়িঘড়ি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ তৃণমূলের, সরব পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য

রাজ্য3 days ago

লড়াই মুখোমুখি! নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্য3 days ago

অস্বস্তি বাড়াচ্ছে রাজ্যের করোনা সংক্রমণ, কলকাতাতেও বাড়ল আক্রান্তের সংখ্যা

দেশ3 days ago

স্বামী থাকতেও প্রেমিক খুঁজছেন ভারতের বিবাহিত মহিলারা! এটা কি খারাপ খবর?

রাজ্য2 days ago

বিজেপির ব্রিগেড: বাংলা চায় প্রগতিশীল বাংলা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ক্রিকেট3 days ago

ইংল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতল ভারত

রাজ্য2 days ago

আজ ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদী, সকাল হতেই ভিড় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের

দেশ3 days ago

ফের বাড়ছে উদ্বেগ! ৮টি রাজ্যেকে বিশেষ করোনা-পরামর্শ কেন্দ্রের

কেনাকাটা

কেনাকাটা4 weeks ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা1 month ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা1 month ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা2 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা2 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা2 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা2 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা2 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

কেনাকাটা2 months ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

নজরে