খবর অনলাইন: মার্কিন বিমান হানায় আইএস সুপ্রিমো আবু বকর আল-বাগদাদি নিহত হয়েছেন। আইএস প্রভাবিত আরবি সংবাদসংস্থা আল-আমাককে উদ্ধৃত করে এই খবর দিয়েছে প্রখ্যাত তুর্কি সংবাদপত্র ‘ইয়েনিস সফক’ এবং ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। তবে মার্কিন জোটসেনা সূত্রে এখনও পর্যন্ত এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি বা ‘মিথ্যা’ও বলা হয়নি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা অফিসারদের উদ্ধৃত করে টিভি নেটওয়ার্ক সিএনএন জানিয়েছে, গত ছ’ মাস ধরে বাগদাদি মসুল ও তার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। এবিএনএ২৪ ওয়েবসাইট এবং এক ইরাকি টিভি চ্যানেলের দাবি, মসুল থেকে ৬৫ কিমি পশ্চিমে রাক্কায় মার্কিন জোটের বিমানহানায় বাগদাদি নিহত হয়েছেন।

ইব্রাহিম আল-বাদরি ওরফে আবু বকর আল-বাগদাদির জন্ম ১৯৭১-এ ইরাকের সামারায়। এই বংশের দাবি, এঁরা পয়গম্বর মহম্মদের উত্তর পুরুষ। ইরাকের সাদ্দাম ইউনিভার্সিটি থেকে কোরানিক স্টাডিজ-এ পিএইচডি বাগদাদি ২০০০ সালে ইসলামিক আন্দোলনের কয়েক জন হিংসাত্মক অতিরিক্ত রক্ষণশীল নেতাদের দিকে ঝুঁকে যান। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হানার সময় বাগদাদি ‘জয়েশ আহল আল-শুন্ন ওয়া আল-জম্মা’ নামক বিদ্রোহী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন। ২০০৪-এর ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী তাঁকে ফালুজায় গ্রেফতার করে। দশ মাস পরে মুক্তি পান তিনি। মুক্তি পেয়ে তিনি জর্ডনের আবু মুসব আল-জারকোয়াই পরিচালিত স্থানীয় আল কায়দা সংগঠন ‘আল কায়দা ইন ইরাক’-এর (একিউআই) এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর ধর্ম সংক্রান্ত প্রজ্ঞায় মুগ্ধ হয়ে ওই মুখপাত্র বাগদাদিকে দামাস্কাসে গিয়ে একিউআই-এর প্রচারের দায়িত্ব নিতে বলেন। ২০০৬-এর জুনে মার্কিন বিমান হানায় জারকোয়াইয়ের মৃত্যু হলে তাঁর জায়গায় আসেন মিশরের আবু আয়াব আল-মাসরি। মাসরি একিউআই ভেঙে দিয়ে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক (আইএসআই) প্রতিষ্ঠা করেন। এ দিকে বাগদাদি প্রথমে শরিয়া কমিটির সুপারভাইজর এবং ১১ সদস্যের শুরা কাউন্সিলের সদস্য হন। পরে আইএসআইয়ের সমন্বয় কমিটিতে আসেন।

২০১০-এর এপ্রিলে আইএসআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাসরি এবং আমীর আবু ওমর আল-বাগদাদির মৃত্যু হলে শুরা কাউন্সিল আবু বকর আল-বাগদাদিকে নতুন আমীর নিযুক্ত করেন। সিরিয়ার অশান্তিকে কাজে লাগানোর জন্য বাগদাদি সে দেশে  আইএসআইয়ের একটি গোপন শাখা তৈরি করার নির্দেশ দেন, পরে যার নাম হয় আল-নুসরা ফ্রন্ট।

কিছু দিনের মধ্যেই আল-নুসরা ফ্রন্টের নেতা আবু মহম্মদ আল-জুলানির সঙ্গে বাগদাদির মতবিরোধ বাধে। ২০১৩-য় বাগদাদি ঘোষণা করেন, আইএসআইয়ের অংশ ছিল আল-নুসরা ফ্রন্ট। পরে তিনি এর নাম দেন ‘ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড আল-শাম/দ্য লেভ্যান্ট’ (আইসিস/আইএসআইএল)। আল কায়দার নেতা আয়মান আল- জাওয়াহিরি আল-নুসরা ফ্রন্টকে স্বাধীন করে দেওয়ার নির্দেশ দিলে বাগদাদি তা অমান্য করেন। ফলে ২০১৪-এর ফেব্রুয়ারিতে জাওয়াহিরি আল কায়দা থেকে আইসিস-কে বহিষ্কার করেন। ওই বছরেরই জুনে আইসিস মসুল অধিকার করে এবং খলিফাশাহির প্রত্যাবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয় এবং আইসিস-এর নতুন নাম হয় ‘ইসলামিক স্টেট’। কিছু দিন পরে বাগদাদি মসুলে শুক্রবারের এক প্রার্থনাসভায় নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন।

এর আগেও সংবাদমাধ্যম বেশ কয়েক বার বাগদাদির মৃত্যুসংবাদ প্রচার করেছে। পরে জানা গিয়েছে, সেই সংবাদ ভুল। সত্যি যদি তিনি মারা গিয়ে থাকেন তা হলে আইএস এক জন দক্ষ মধ্যস্থ, নিষ্ঠুর রাজনীতিবিদ, এক ধার্মিক পণ্ডিত এবং অভিজাত বংশজাত এক নেতাকে হারাবে।

সূত্র: বিবিসি নিউজ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here