মুর্শিদাবাদকে জানতে পড়ুন জাহির রায়হানের ‘মুর্শিদাবাদ’, মিলছে বইমেলায় ৩৫২ স্টলে

0

শম্ভু সেন

সুবে বাংলা তথা বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ রাজধানী মুর্শিদাবাদ।ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ‘কমিটি অফ রেভেনিউ’-এর এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ বাংলার অন্যতম জেলা হয় ১৭৮৬ সালের ১৮ এপ্রিল। গভর্নর জেনারেল কমিটির ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করার পর ঠিক এক সপ্তাহ পর মুর্শিদাবাদ জেলা হিসাবে বাংলার মানচিত্রে স্থান পায়।

ভারত ভাগের ‘৩ জুন প্ল্যান’ বা ‘মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান’ অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ চলে যায় প্রস্তাবিত পাকিস্তানে। আর অধুনা বাংলাদেশের খুলনা থেকে যায় ভারতে। মুর্শিদাবাদের তদানীন্তন নবাব সৈয়দ ওয়াসেফ আলি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ ভারতের মধ্যে থাক। তিনি এবং জেলার বেশ কিছু বিশিষ্ট নাগরিক র‍্যাডক্লিফ কমিশনের কাছে তাঁদের দাবির সমর্থনে জোরালো বক্তব্য পেশ করলেন। যাঁরা চেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ পাকিস্তানে যাক, তাঁদের দাবির ভিত্তি ছিল জেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর গরিষ্ঠতা। আর অপর পক্ষের দাবির ভিত্তি ছিল জেলার ভৌগোলিক অবস্থান। কলকাতা বন্দরের অস্তিত্ব নির্ভরশীল মুর্শিদাবাদ কোন দেশে যাবে তার উপর। বন্দররক্ষায় ভাগীরথী ও তার উপনদীগুলির জলধারার একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

আরও পড়ুন: রূপালীর ৮টি বই, স্বপ্ন থেকে বাস্তব, সঙ্গে ইতিহাসও

দু’ পক্ষই নিজ নিজ দাবির স্বপক্ষে কমিশনে রিপোর্ট পেশ করল। চেয়ারম্যান র‍্যাডক্লিফ তাঁর চূড়ান্ত অ্যাওয়ার্ড দাখিল করলেন ১২ আগস্ট। বিতর্ক-মতবিরোধ-অশান্তির আশঙ্কায় সেই অ্যাওয়ার্ড ১৫ আগস্টের আগে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে সরকার। শেষ পর্যন্ত ১৮ আগস্ট বিকেলে রায় বেরোল কমিশনের। স্বাধীন ভারতের তেরঙা পতাকা উড়ল মুর্শিদাবাদে। খুলনা চলে গেল তদানীন্তন পাকিস্তানে।

হাতের কাছে রয়েছে জাহির রায়হানের ‘মুর্শিদাবাদ’ গ্রন্থটি। এ সব সবিস্তার ইতিহাস পাওয়া গেল সেই গ্রন্থে। জাহির অবশ্য এই গ্রন্থে শুধু যে মুর্শিদাবাদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেছেন তা নয়, নানা দিক থেকে মুর্শিদাবাদকে তুলে ধরেছেন পাঠকের কাছে। এঁকেছেন মুর্শিদাবাদের একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি।

গ্রন্থের শুরুতেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ নাম কী ভাবে এল, তার ইতিহাস। নবাবি আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের মুর্শিদাবাদকে যথাযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করেছেন জাহির। নদনদী, জলাভূমি, যোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ মুর্শিদাবাদের ভৌগোলিক বিবরণ সমৃদ্ধ করেছে এই গ্রন্থটিকে। নদীভাঙনের সমস্যাও জাহিরের গ্রন্থে এসেছে পৃথক অধ্যায় হিসাবে। জেলার অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জাহির বাদ দেননি আম-লিচু-মিষ্টি, জেলার হাট এবং বিভিন্ন শিল্পকর্মকে। জেলা সদর বহরমপুর ও অতীতের নদীবন্দর কাশিমবাজারকে আলাদা ভাবে পরিচিত করানো হয়েছে পাঠকদের সঙ্গে।

হাজারদুয়ারি।

সিরাজের মুর্শিদাবাদ নিয়ে আলোচনা করলে আমরা কি সেখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলি বাদ রাখতে পাড়ি? পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটনস্থল মুর্শিদাবাদ। নবাবি আমলের নানা স্থাপত্য দাঁড়িয়ে রয়েছে এই জেলার মাটিতে, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের ইতিহাস, তার কিছু রোমহর্ষক এবং রক্তাক্তও বটে। ‘মুর্শিদাবাদ’ গ্রন্থে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলি নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা করেছেন জাহির। গ্রন্থে রয়েছে জেলার মেলা-পার্বণের কথাও। একই সঙ্গে জাহির শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন জেলার কৃতী সন্তানদের।

এক কথায়, মুর্শিদাবাদকে জানতে হলে অবশ্য পাঠ্য জাহির রায়হানের ‘মুর্শিদাবাদ’। মুর্শিদাবাদের ভূমিপুত্র জাহির নিজের জেলাকে চেনেন হাতের তালুর মতো। তাঁর সেই পরিচয় রয়েছে বইয়ের প্রতিটি ছত্রে। শুধু তা-ই নয়, বাংলা লেখায় তাঁর দখল অনস্বীকার্য। এক অনুপম গদ্যশৈলীর ধারক তিনি। তাই ‘মুর্শিদাবাদ’ গ্রন্থের পাঠযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কোনো অবকাশই নেই।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লেখেন জাহির রায়হান। খবর অনলাইনেরও নিয়মিত লেখক তিনি। আমরা গর্বিত। জাহিরের ‘মুর্শিদাবাদ’ গ্রন্থ পাওয়া যাচ্ছে কলকাতা বইমেলায় ৩৫২ নম্বর স্টলে, ‘রংরুট হলিডেয়ার-এ।   

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন