1945 film of Hungary
নন্দিতা আচার্য চক্রবর্তী

ব্রাজিলের ছবি ‘গুড মান্যারস’ , সময়সীমা ১৩৫ মিনিট। ডিরেক্টর-লেখক মার্কও দুত্রা এবং জুলিয়ানা রোজা । ছবির গল্প  ‘ওয়ের উল্ফ’  মাইথলজিকাল মিথ থেকে প্রভাবিত।

ব্ল্যাক কমিউনিটি থেকে আসা ক্লারা এক নিঃসঙ্গ নার্স। সে কাজ নেয় অ্যানা নামে এক সন্তানসম্ভবা মহিলার কাছে। অ্যানা উচ্ছল এবং সুন্দরী একটি মেয়ে। নিজের ঊনত্রিশ বছরের জন্মদিনের দিনটিতে ক্লারার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। অ্যানাকেও নিঃসঙ্গ একটি মেয়ে হিসেবে দেখানো হয়। ক্লারা এবং অ্যানার বন্ধুত্ব তীব্র যৌন সম্পর্কে পৌঁছয়। ‘ফুল-মুন ডে’ অর্থাৎ পূর্ণ চাঁদ ওঠে যেদিন, অ্যানার ভেতর অস্বাভাবিকতা আবিস্কার করে তার মেড কাম বন্ধু, ক্লারা। সে যৌনতার সময় তীব্র ভাবে ঘাড় কামড়ে দেয় ক্লারার। রাতে ঘুমের মধ্যে হেঁটে বেরিয়ে রাস্তার এক বিড়ালের ঘাড় মটকে তার রক্ত খায়।

ক্লারা বোঝে অ্যানার এই অ্যাবনরমাল ব্যবহার।  সে পালিয়ে না গিয়ে প্রায় মাতৃ স্নেহে দেখাশোনা করে অ্যানাকে। শেষ পর্যন্ত অ্যানার পেট ফেটে খুব অস্বাভাবিক ভাবে বেরিয়ে আসে তার শেয়ালমুখো বেবি বয়। ক্লারা এতই ভাল একটি মেয়ে যে কিছুতেই সে এই অ্যাবনরমাল  বেবিটিকে ত্যাগ করতে পারেনা। পরবর্তীতে সেই বেবি বয়, এখন যে  ফুটফুটে সাতবছরের জোয়েলে, তার  ভেতরেও  এই অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। যা ক্লারা এবং জোয়েল , দুজনের জীবন যাপনকেই  বাইরের সমাজের কাছে  জটিল ও রহস্যময় করে তোলে।

এই সিনেমার সম্পদ ক্লারার ভেতরের হিউম্যানিটি এবং তা ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা। গল্প বলার মধ্যে প্রচুর অসঙ্গতি। মিথ, আবার তা বাস্তবকে ছুঁতে চায়। ফলে দুটোর কোনটাই হয়নি।  সব থেকে অবাক লাগলো,  একজন পূর্ণ অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে  যে প্রসেসে লাভমেকিং দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তা করা কখনো সম্ভব  হয়না।  এটা তো ন্যাচারাল ইন্সটিংকট । পরিচালক এখানেও ভুল করলেন কী ভাবে…..?

‘১৯৪৫’ , ডিরেক্টর ফেরেন্স তরক। হাঙ্গেরির এই একানব্বই মিনিটের ছবিটি পুরোটাই সাদা-কালোয়। একটি গ্রামের পটভূমি। সেখানে সেদিন বিয়ের অনুষ্ঠান পার্টি।  এদিকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সবে শেষ। গ্রামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাশিয়ান সেনারা । যুদ্ধ চলাকালীন বহু ইহুদি গ্রেফতার হয়েছিল। তাদের কেউ কেউ এখন আবার ফিরে আসছে গ্রামে। গল্প শুরু সেখানেই। ইহুদিদের সম্পত্তি দখল করেছিল শুধু সেনারাই নয়, গ্রামের মানুষরাও ।

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের সব খবর পড়ুন 

সেই সব অবৈধ সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা বাঁধে। ফিরে আসার খবর সেনাদের কাছে যায় গ্রামের লোকের মারফতে। কিন্তু অনুশোচনা কুরে খায়। তার ফলশ্রুতি আত্মহত্যা।  আসলে এ সিনেমা চিরকালীন সেই ক্ষমতা ও ক্ষমতাচ্যুতর গল্প । একদিকে সুযোগ লোভী মানুষের আস্ফালন, অন্যদিকে ভিটে মাটি ছাড়া আশ্রয়হীন মানুষের দীর্ঘশ্বাস ।

ফিল্মটিতে দেখি সময় উপযোগী গৃহসজ্জা, ঘোড়ায়টানা গাড়ি, ধু ধু বিস্তৃত ফসল খেত এবং কয়লার ইঞ্জিনে চলা রেল গাড়ি। শেষ দৃশ্যে চলমান ট্রেন আর ইঞ্জিনের ধোঁয়া এক অন্য ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছে। যেন যুদ্ধ, লোভ এবং নিপীড়িত মানুষের চিরন্তন ইতিহাসের এক বিমূর্ত স্থির ছবি। দর্শক এক অন্য উপলব্ধিতে মূক হয়ে থাকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here