মৌসুমি বিলকিস

ক্ষমতার হাত ধরে ইতিহাস লেখা হয় বার বার।

ক্ষমতাধারীরা নিজের সুবিধা মতো ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহ ঠিক করে নেয়। কখনো ক্ষমতার ‘ইমেজ’ বাঁচাতে, কখনো আরো ক্ষমতাধারী হতে। পৃথিবী জুড়ে এই প্রবণতা ভয়ঙ্কর সংকট তৈরি করে চলে।

রোমানিয়ার পরিচালক রাডু জুড এই সত্যটিই উন্মোচন করেছেন একটা নাটকের প্রোডাকশনকে  কেন্দ্র করে। আই ডু নট কেয়ার ইফ উই গো ডাউন ইন হিস্ট্রি অ্যাজ বারবারিয়ানস ফিল্মটিতে দেখা যাচ্ছে কীভাবে একটা ক্ষমাহীন ইতিহাস স্রেফ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

নাজি বাহিনীতে যোগ দেওয়া রোমানিয়ার সৈন্যরা ইহুদি নিধন যজ্ঞ চালায়। ১৯৪১ সালে ওডেসা নামের অধুনা ইউক্রেনের এক শহরে বর্বরতার চূড়ান্ত শিকার হয় ইহুদি জনগোষ্ঠী, যে শহর ওই সময় রোমানিয়ার অংশ ছিল।জানা যায়, এই গণহত্যায় পঁচিশ থেকে চৌত্রিশ হাজার ইহুদি মারা যায়।

ব্রেখট, গোদার্ড, বাদল সরকারের মতোই ফিল্মটিও ফোর্থ ওয়াল ভেঙে দর্শকদের আহ্বান করে। ফিল্মের মধ্যে যে থিয়েটার হয় তার পরিচালক মারিয়ানা সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নিজের পরিচয় দেয় এবং ফিল্ম দেখতে অনুরোধ করে দর্শকদের।

বুখারেস্ট-এর ন্যাশন্যাল মিলিটারি মিউজিয়ামে ফিল্ম শুরু হয়। মিউজিয়ামের দেয়াল জুড়ে সাজানো সেই সময়ের অস্ত্র, পোশাক, অন্যান্য যুদ্ধ সামগ্রী।

মারিয়ানাকে দেখা যায় খুব ব্যস্ত। সে তার দলবল সঙ্গে নিয়ে অভিনেতাদের পোশাক, অস্ত্র ঠিক করে। যেহেতু সে ঠিক করেছে সাধারণ মানুষকে দিয়েই অভিনয় করাবে তাই আগ্রহী বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের অডিশন নেয়। মিউজিয়ামের বাইরে একদল অ-অভিনেতাদের নিয়ে মহড়া দেয়।

সারাটি দিনরাত মারিয়ানা নাটকের জন্য ঠিক করে সাউন্ড। মনোমতো সাউন্ড সে খুঁজে পায় না। নাটকের জন্য তার রিসার্চ আমরাও দেখতে পাই। আর্কাইভাল ফুটেজ, সাউন্ড, ছবি, বই ঘাঁটতে থাকে সে ও তার সহকারিরা। এরকমই এক সাদাকালো ফুটেজে দেখা যায় তৎকালীন রোমানিয়ার মিলিটারি ডিরেক্টর মার্শাল আয়ন আন্তনেস্কু-র যুদ্ধ অপরাধী হিসেবে বিচার চলছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে মিথ্যে বলছেন তিনি।

ফিল্মটি ডকু-ফিকশন ফর্মে শুট করা। অনেক দৃশ্যেই দেখা যায় হ্যান্ড হেল্ড ক্যামেরা অভিনেতাদের অনুসরণ করছে। ব্যস্ততার দৃশ্যগুলোয় ক্যামেরাও যেন ব্যস্ত। স্ট্যাটিক দৃশ্যও অনেক। বিশেষ করে মারিয়ানার স্নানের দৃশ্যে ক্যামেরা একই কম্পোজিশনে স্থির হয়ে থাকে অনেকক্ষণ।

নিজের ছোট্ট ফ্ল্যাটে বাথরুমের বাথটাবে নগ্ন মারিয়ানাকে চিন্তামগ্ন, একাকী। জানলার ওপারে কংক্রিটের মায়াহীন শহর জেগে থাকে। ইতিহাসের এক বিকল অধ্যায় পুনর্নির্মাণে বিদ্ধস্ত মারিয়ানা তখন করুণ, ভঙ্গুর।

দর্শকদের সহানুভুতি জয় করে নেয় এই দৃশ্য।

তার ব্যক্তিগত জীবনেও চলে টানাপড়েন। সেখানেও সে একা।

গণহত্যার একটি মর্মান্তিক আর্কাইভাল ছবি অনেকক্ষণ ধরে পর্দায় ভেসে থাকে। যেখানে দেখা যায় ছেঁড়া জামাকাপড় পরা কয়েকজন মৃত ইহুদি নারী পুরুষের ঘাড় মটকানো দেহ বীভৎস ভাবে ফাঁসির দড়িতে ঝুলে আছে। এই ছবিটিকে মারিয়ানা পুনর্নির্মাণ করে তার নাটকে। নাটকটি অভিনীত হওয়ার সময় নারী পুরুষের শরীরের ডামি হুবহু ছবিটির মতো ঝুলে থাকে। তবে পোশাকগুলো ছেঁড়া নয়। প্রায় নতুন।

মারিয়ানাকে অতিক্রম করতে হয় অনেক বাধা বিপত্তি। প্রথমেই মহড়ার সময় কে কী চরিত্রে অভিনয় করবে তা নিয়েই চলে টানাপড়েন। কেউই নাজি সৈনিক হতে চায় না। উচ্চারণ করতে চায় না ‘হেইল হিটলার’। অথবা মারিয়ানার নির্দেশ অমান্য করতে চায়। যুবক থেকে বয়স্ক পুরুষ সবার মধ্যেই এই প্রবণতা দেখা যায়। নারী নেত্রীকে মানতে না পারাও এক ট্রাডিশন। ইতিহাসেরই অঙ্গ। মারিয়ানা ধৈর্য হারায় কখনো, কখনো সমাধান করার চেষ্টা করে।

এই একই গণহত্যায় রোমা জিপসি ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদেরও খতম করা হয়। সেই ইতিহাস মনে রেখেই মারিয়ানা অভিনেতা হিসেবে তার নাটকে নিয়ে আসতে চায় রোমা জিপসিদেরও। কিন্তু দুজন বয়স্ক পুরুষ আপত্তি জানায়। রোমা জিপসিরা নাটকে থাকলে তারা অংশ নেবে না। জানায়, কিছুক্ষণের জন্য মারিয়ানা রাখতে পারে তাদের। কিন্তু ওরা এত নোংরা ওদের সঙ্গে মোটেও স্পর্শ সংযোগ রাখতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়ে দেয় বৃদ্ধরা। দলে আরো অনেকের আপত্তি আছে জানায় তারা।

মারিয়ানা মুখোমুখি হয় আরেক সংকটের।

ফিল্মটিতে বর্তমানের মধ্যে অভিনীত হয় অতীত। জিপসিরা অতীতের মতো বর্তমানেও ব্রাত্য ও অস্পৃশ্য।

পথ নাটকের ফর্মে অভিনীত হয় নাটক। কিন্তু গ্রাঞ্জার, সেট, লাইট, সাউন্ড সবকিছুই খুবই প্রাঞ্জল। আমাদের পথনাটকের মতো গরিব গরিব ব্যাপার নেই। থাকবেই বা কেন, এটা যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। দর্শকরা দল বেঁধে দাঁড়িয়েই নাটক দেখেন যদিও।

ইতিহাস নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে অটল থাকতে মারিয়ানাকে একের পর এক যুদ্ধ করে যেতে হয়।

থিয়েটারের প্রোডিউসার-প্রতিনিধি মারিয়ানার মত পাল্টানোর চেষ্টা করে। বলে, বীভৎস গণহত্যার দৃশ্য দেখে শিশুরা ভয় পাবে। বলে, এরকম ‘ঐতিহাসিক ডারউইনিজম’ কতই হয়। পরে ইতিহাস তা ভুলে যায়। বলে, মারিয়ানা জনগণের সরকারি অর্থ নষ্ট করছে, যেহেতু সরকারি গ্রান্ট পেয়েই নাটকটি হতে পারছে।

প্রত্যেকটি পয়েন্ট মারিয়ানা ভেদ ক’রে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে অটল থাকে।

অন্য কিছু না পেয়ে তখন প্রোডিউসারবলে,সিন্ডলার’স লিস্ট-এ দেখানো হয়েছে জার্মানরা ইহুদিদের বাঁচিয়েছে, যে ফিল্ম পেয়েছে অস্কার। মারিয়ানা কেন দেখাতে পারবে না যে রোমানিয়ানরাও ইহুদিদের বাঁচাচ্ছে।

মারিয়ানা স্রেফ জানিয়ে দেয়, তার অস্কার প্রয়োজন নেই। স্পিলবার্গ বরং পঞ্চম জুরাসিক পার্ক তৈরি করুন।

প্রোডিউসার হিরোসিমা মনামুর ফিল্মের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলে ‘নাগাসাকি মনামুর’।

শহরের মেয়র নাটক শুরুর আগে রোমানিয়ার মহত্ব নিয়ে যে ভাষণ দেন অভিনীত ঘটনায় তা না থাকায় তার অভিব্যক্তি পাল্টে যায়।

অত্যন্ত সিরিয়াস বিষয়ের মধ্যেও ফিল্মের পরিচালক কৌতুক মিশিয়ে দেন।

অভিনেতারা কে কী ভূমিকায় অভিনয় করবে ঠিক করতে গিয়ে এক দাড়িওয়ালা লোককে মার্ক্সের ভূমিকায় নির্বাচন করে মারিয়ানা। হল শুদ্ধ দর্শক হেসে ওঠে।

নাটক অভিনয়ের সময় ইহুদিদের একটা কাঠের ঘরে ঢুকিয়ে ঘর সুদ্ধ জ্বালিয়ে দিচ্ছে নাজি সৈন্যরা। দর্শক হাততালি দিচ্ছে, উল্লাস করছে।

মারিয়ানা বুঝতে পারে না, এরকম একটা দৃশ্যে কি করে দর্শক উল্লাস করতে পারে। তাহলে কি সে-ই ব্যর্থ? কমিউনিকেট করতে পারেনি? হতাশ মনে হয় তাকে।

চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাস যেন পাথরের মতো চেপে থাকে জনগণের ভেতর। ‘হেইল হিটলার’-ই যেন সত্য।

এখানেও একটা অন্য মাত্রা তৈরি হয়।

যে কোনো আর্ট ফর্মের কন্টেন্টের আসল সুরটা ধরতে পারছে তো দর্শক? নাকি একেবারে ভিন্ন ও বিপরীত একটা অর্থ তৈরি করে নিচ্ছে?

আমাদের প্রকৃত ইতিহাসও কি এভাবে খুঁড়ে দেখার সময় এল?

এদুয়ার্দো নুনেস-এর ইউনিকর্ন কিশোরী মারিয়ার গল্প বলে। তার বাবা, মা ও এক আগন্তুককে ঘিরে কাহিনি এগিয়ে চলে।

বাবা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি। মা ও মেয়ে থাকে পাহাড় ঘেরা জনহীন এক কাঠের কুটিরে। সেখানে একদিন তাবু খাটায় এক যুবক। তাকে কাউবয় বলবো, নাকি ছাগবয়? কেননা মারিয়াদের জনহীন উপত্যকায় ছাগল চরাতেই আসে সে।

বাবার সঙ্গে মারিয়ার দৃশ্যগুলি ছাড়া অন্যান্য দৃশ্য প্রায় সংলাপহীন।

মায়ের সঙ্গে মারিয়ার দুস্তর দূরত্ব। তারা প্রায় কথাই বলে না। মা তার কাছে অমঙ্গলজনক। মায়ের হৃদয় থেকে সে অদ্ভুত শব্দ শুনবে মনে করে। সেই ভয়ে মায়ের কোলে মাথা রাখতে চায় না কখনো।

কিন্তু বাবার সঙ্গে অনর্গল কথা বলে চলে মারিয়া। রূপকথা শুনতে চায়। গল্প শুনতে চায়। বাবা তাকে এক ইঁদুরের কথা বলে যে চার দেয়ালে বন্দি। আর যে প্রতিদিন পাঁচিল টপকে পাঁচিলের ওপারটা দেখতে চায়। কিন্তু মসৃণ দেয়াল বেয়ে উঠতে গিয়ে সে পিছলে যায় বার বার। ইঁদুরটা যেন বাবা নিজেই যে মানসিক হাসপাতালে বন্দি।

প্রকৃতির অসাধারণ এক দৃশ্যপটে মারিয়াদের ঘর। তার ঠিক বিপরীত বিবর্ণ বাবার কক্ষ। সিনেমাটোগ্রাফি চোখ জুড়ানো এই লোকেশন চরম দক্ষতায় এক্সপ্লোর করে। শব্দ ও মিউজিক লোকেশনটিকে সঙ্গত দেয় যথাযথ। কোনো কোনো শব্দহীন দৃশ্য মায়াময় হয়ে চোখে লেগে থাকে।

মারিয়ার বয়ঃসন্ধি তার চারপাশের প্রকৃতির মতোই বর্ণময় অথচ নিঃসঙ্গ। একাকী সে কুয়ো থেকে জল তোলে। বৃক্ষের বিষফল আহরণ করে। যে ফল সে খেতে দেয় মা ও আগন্তুক পুরুষটিকে। মা ও পুরুষটির ঘনিষ্ঠতা তার কাছে অসহনীয় ঠেকে।

ফিল্মের প্রথমেই তাকে দেখা যায় মোটা মোটা কালো পিঁপড়ে ধরে আগুনে পুড়িয়ে মারছে। বাবার সঙ্গে সে শিশুদের নিষ্ঠুরতা নিয়ে আলোচনা করে।

অপুর সংসার-এও অপুর ছেলে কাজল পাখি মারে।

মারিয়ার আচরণে কাজলকে মনে পড়ে যায়। যদিও মারিয়া কাজলের থেকে অনেক বেশি বুঝতে শিখেছে। সে বোঝে নিষ্ঠুর আচরণ কী।

সব মিলিয়ে ফিল্মটি চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভঙ্গিতে এগিয়ে চলে, কাব্যিক সুষমায় জারিত হতে হতে।

স্টেফান এলিয়ট-এর দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব প্রিসিল্লা, কুইন অফ দ্য ডেজার্ট দু’জন ড্র্যাগ কুইন বা ট্রান্স কুইন ও এক রূপান্তরকামী মেয়ের কাহিনি যারা একটা পুরোনো ক্যারাভান নিয়ে অভিযানে বেরিয়েছে।

তাদের ক্যারাভানের নামই প্রিসিল্লা এবং সেও একটি চরিত্র। কেননা সে-ই তার পেটের মধ্যে মায়ের মতো আগলে রাখছে তিন ব্রাত্য আত্মাকে।

এলজিবিটিকিউ ব্যক্তিদের প্রধান চরিত্রে রেখে মেন স্ট্রিম ফিল্ম করা আজও সহজ নয়।যদিও তখন ‘কিউ’ ধারণাটি ছিল না। ফিল্মটি ১৯৯৪-এ রিলিজ করে।

হলিউডের মূল ধারার ফিল্মে এলজিবিটিকিউ চরিত্রের অনুপাত ১২.৮%। অথচ আমেরিকার ২০% (১৮-৩৪ বছর) এবং ১২% (৩৫-৫১ বছর) মানুষ এলজিবিটিকিউ। (GLAAD রিপোর্ট, ২০১৮)।

 

কিন্তু আলোচ্য ফিল্মটি অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়ে কাল্ট ফিল্মের মর্যাদা পেয়েছে।

 

রোড মুভিতে যেমন হয় এখানেও আউটলাইন একই। রাস্তায় চলা। নানান নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ। নতুন অভিজ্ঞতা। নতুন ভয় ভাবনা ও নতুন প্রাপ্তি।

দেখা যায় শহরের মানুষরা তাদের গ্রহণ করতে পারছে না। কিন্তু মরুভূমির আদি বাসিন্দারা দিব্যি তাদের আতিথ্য দিচ্ছে। শুধু আতিথ্যই নয়, পারফর্ম করারও সুযোগ দিচ্ছে। নিজেরাও যোগ দিচ্ছে তাদের সঙ্গে। উন্মুক্ত ও সরল আনন্দে মেতে উঠছে।

কিন্তু তথাকথিত সভ্য মানুষেরা বারবার আঘাত করছে তাদের। ঘৃণা করছে তাদের জীবিকা।এক কঠিন সভ্যতার আবরণের মধ্যে এই তিন মানুষ যেন বিসদৃশ্য। নাচে গানে যতই দক্ষ হোক না কেন, মেয়েদের সাজপোশাকে এই তিনজন আরবান বিশ্বাসে শিল্পী নয়।

ফলত এই তিন মানুষের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। চড়া মেকআপ, ঝলমলে সাজপোশাকের আড়ালে দগ্ধ হতে থাকে তিন আত্মা।

দর্শক বিমুঢ় হয়ে শোনে তাদের অতীত, দেখে তাদের বর্তমান।

আর এই অ-তথাকথিত তিন মেয়ে তবু চলতেই থাকে। তিন জোড়া চোখ এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে থাকে। যে ভবিষ্যতে তারা অপরাধী নয়; অন্য গ্রহের জীব নয়; প্রেম-রাগ- দুঃখ-হাসি-কান্নায় ভরা এই পৃথিবীরই এক প্রাণ।

তাদের স্বপ্ন সফল হয়। আমরাও পেরিয়ে আসি ৩৭৭ ধারা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here