পুজোর আগে চুলের যত্ন নিন

ওয়েবডেস্ক: পুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ত্বকের পাশাপাশি দরকার চুলের পরিচর্যাও। মাসে একবার বা দু’বার হেয়ার প্যাক বা হেয়ার অয়েল অথবা একবার করে হেয়ার স্পা করলেই কিন্তু হবে না। সারা বছরে কী করেছেন সব ভুলে গিয়ে পুজোর আগের এই কয়েকটা দিন নিয়ম করে চুলের যত্ন নিতে হবে। তা হলেই আপনার চুল থাকবে ঘন, কালো, মজবুত এবং জেল্লাদার।

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে আমরা ঠিকমতো চুলের যত্ন নিতে ভুলে যাই অথচ চুল ঝরে গেলে বা রুক্ষ হয়ে গেলে তখন আমাদের বোধোদয় হয়। এ বার থেকে তাই সকাল থেকে রাত অবধি রুটিন মাফিক চুলের যত্ন নিন।

জেনে নেওয়া যাক কী ভাবে চুলের যত্ন নেবেন-

১। ঘুম থেকে উঠে চুল আঁচড়ে নিন

সকালে ঘুম থেকে উঠে চুল আঁচড়ানো খুব জরুরি।আমরা যতই চুল বেঁধে ঘুমোই না কেন, ঘুম থেকে ওঠার পর তাতে অল্প বিস্তর জট পরেই যায়। তাই সকালে উঠে চুল খুলে ভালো করে চুল আঁচড়ে নিন। এতে রাতে চুলের গোড়ায় যে শারীরবৃত্তীয় তেল নির্গত হয় তা চুলে ছড়িয়ে যায়, যা চুলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

২। চুল ধুয়ে নিন

চুল নিয়মিত ভালো করে না ধুলে কিন্তু খুব বিপদ। চুলের ধরন অনুযায়ী তা আলাদা হওয়া প্রয়োজন। যাদের নর্মাল চুল তারা এক দিন পর পর চুল ধুতে পারেন। যাঁদের তৈলাক্ত চুল তারা প্রতিদিন চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন। যাদের রুক্ষ চুল তাঁরা ২ দিন পরে এক বার করে চুল ধুলে ভালো। রুক্ষ চুল যাঁদের তাঁদের চুলকে নমনীয় করে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। আবার যাঁদের তেলতেলে চুল তাঁদের অয়েল ক্লিয়ার শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। আর নর্মাল চুল হলে যে কোনো ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। শ্যাম্পু ভালো করে মাথায় সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করা উচিত। এছাড়া কন্ডিশনার ব্যবহার করাও উচিত।

৩। ভেজা চুলের যত্ন

স্নান করার পর নরম তোয়ালে দিয়ে চুল মুছুন। চুল মোছার সময় এটা খেয়াল রাখবেন চুল যেন বেশি চেপে বা ঘষে মোছা না হয়। কারণ বেশি চুল ঘষা মানেই চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ৫-৭ মিনিটের মতো চুলে তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে হালকা করে চুল আঁচড়িয়ে নিন।

৪। চুল ভালো রাখতে তেল মাখুন

চুলের আসল পুষ্টি হল তেল। প্রতিদিন চুলে তেল না লাগাতে পারলেও সপ্তাহে ৩-৪ দিন চুলে তেল লাগানোটা খুবই জরুরি। আবার চুলে তেল দিয়ে বাইরে বেরোনো মানেই চুলের মধ্যে সব ধুলো-ময়লা জমে চুলকে আঠালো করে দেয়। তাই রাতে ঘুমানোর আগে চুলে তেল মাখুন। আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে চুলে শ্যাম্পু করে নিন।

আরও পড়ুন: চুলের যত্নে ব্যবহার করুন কালমেঘ পাতা

৫। শ্যাম্পু

সপ্তাহে মোটামুটি ২-৩ দিন শ্যাম্পু করা উচিত। যতটা পারবেন বাজার চলতি শ্যাম্পু ব্যবহার না করে আয়ুর্বেদিক শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের জন্য ভালো হবে।

৬। হেয়ার প্যাক

ঘরে বসেই বানিয়ে নিন হেয়ার প্যাক।

ক। ডিম ও নিম তেলের হেয়ার প্যাক

ডিম ও নিমের তেল ব্যবহার করে বানিয়ে ফেলুন হেয়ার প্যাক। একটি ডিমের সাথে বেশ অনেকটা পরিমাণ নিমের তেল মেশাতে হবে। এর পর হেয়ার প্যাকটি ভালো করে মাথার তালুতে  লাগাতে হবে। ৩০ মিনিট রাখার পর ধুয়ে ফেলুন। ১ সপ্তাহের মধ্যে বুঝতে পারবেন চুলের খুসকি চলে যাবে। এই হেয়ার প্যাকটি শুষ্ক চুলের জন্য খুবই ভালো। চুলের মধ্যে একটা নরম ও মসৃণ ভাব থাকবে এবং চুলের জেল্লা ও উজ্জ্বলতা বাড়ে।

খ। জবা ফুলের প্যাক

৮-১০টি জবা ফুল নিন। ফুলের নীচের সবুজ অংশটি ফেলে ভালো করে ধুয়ে নিন ফুলটি। এ বার জবা ফুলের সঙ্গে ৪ চামচ টক দই ও ১ চামচ মধু মিশিয়ে প্যাকটি বানিয়ে নিন। আধা ঘণ্টা রাখার পর জল দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। পুজোর আগে  দেখুন কেমন ঝলমল ও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে চুল!

গ। কলা ও ডিমের প্যাক

কলা কেবল চুলকে লম্বাই করবে না একই সাথে করে তুলবে নরম ও মোলায়েম। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন কলার হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। ২টি কলা প্রথমে চটকে নিন। এর পরে ওই চটকে রাখা কলার মধ্যে ১টি ডিমের কুসুম ও ১-২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে প্যাকটি বানান। ২০-২৫ মিনিট মাথায় লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে নিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন