Connect with us

দুর্গা পার্বণ

সিঁদুর খেলতে যাবেন? ফিরে এসে ত্বকের যত্নে এই ৩টি টিপস অবশ্যই কাজে লাগবে

sindur-khela

ওয়েবডেস্ক : দশমীতে সিঁদুর খেলার আনন্দ অনেকটা দোল খেলাকে মনে করিয়ে দেয়। সকাল সকাল তৈরি হয়ে মণ্ডপে গিয়ে শুরু হবে একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে দেওয়ার খেলা। এতে ত্বকে প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক লেগে যায়।

পুজোকে ঘিরে কত আনন্দ উদ্দীপনা। নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য নানান প্রচেষ্টা। তার জন্য বেশ কিছু দিন আগে থেকেই নানান প্যাক, ফেসিয়াল ইত্যাদি ব্যবহার করে সুন্দর হয়ে ওঠার হিড়িক। তার পর যেটা হয়, পুজো শুরু হয়ে যায়। আর হইহই করে পুজোয় সাজগোজ, আনন্দ, ঘোরা, আড্ডা, ঠাকুর দেখা করতে গিয়ে আর নিজেদের প্রিয় ত্বকের যত্ন নেওয়াই ঠিক মতো হয়ে ওঠে না।

অথচ পুজোর এই দিনগুলিতে চলে প্রচণ্ড চড়া মেকআপ। সেটি তোলার পর্যন্ত সময় থাকে না। ফলে ধীরে ধীরে তা ক্ষতি করে আমাদের ত্বকের। কিন্তু আমাদেরই তো খেয়াল রাখা উচিত প্রিয় ত্বকের। তাই ত্বকের ক্ষতি হয়ে আনন্দে যেন কোনো ভাঁটা না পরে। সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তাই প্রথমেই যে বিষয়টিতে মনোযোগ দিতে হবে তা হল মেকআপ বা সিঁদুর খেলার পর সেই সিঁদুর ভালো করে তুলতে হবে। রইল মেকআপ তোলা আর তারপর ত্বকের যত্নের জন্য কয়েকটি বিশেষ টিপস।

শুষ্ক ত্বকে নারকেল তেল

যদি ত্বক শুষ্ক বা ড্রাই হয়, তা হলে মেকআপ বা সিঁদুর তোলার জন্য ব্যবহার করতে হবে নারকেল তেল। সাধারণ নারকেল তেল সব ঘরেই থাকে। তা হাতের তালুতে নিয়ে সারা মুখে ভালো করে মেখে নিতে হবে। তারপর মিনিট পাঁচেক সময় ধরে হালকা হাতে ভালো করে ম্যাসাজ করতে হবে। এর পর ঈষৎ উষ্ণ গরম জলে তোয়ালে ভিজিয়ে মুখটা মুছে ফেলতে হবে।

এর পরের ধাপে পছন্দের ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

তেল তেলে ত্বকের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার তা না করে ম্যাসাজ ক্রিম বা কোনো ময়শ্চারাইজার দিয়ে একই পদ্ধতিতে মুখের মেকআপ তুলতে হবে।

আবার অনেকে ভেসলিনও ব্যবহার করে থাকে মেকআপ তোলার ক্ষেত্রে।

এর পরের ধাপে অবশ্যই পছন্দের ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

মিশ্রত্বকের জন্য বেবি অয়েল

মিশ্র ধরনের ত্বক বা সেনসিটিভ ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যায় বেবি অয়েল। তাতে ত্বকের জেল্লা বাড়ে।

তবে এর পরও ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

এই তিন ক্ষেত্রেই তেমন মনে হলে গরম জলের বদলে সাধারণ জলে তোয়ালে ভিজিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে মেকআপ করা কোনো অংশে মেকআপ, কাজল, লাইনার, বেস, কনসিলার, পাউডার বা মেকআপ তুলতে ব্যবহার করা কোনো তেল বা ক্রিম যেন রয়ে না যায়। তার জন্য সাদা কাপড়ে মুখ মুছে নিলে তা বুঝতে সুবিধা হবে।

এর পরই তো ঘুমাতে যাওয়ার পালা। ঘুমানোর আগে অবশ্যই ময়শ্চারাইজার, বা নাইট ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক স্বাস্থ্য ফিরে পাবে।

পড়ুন –চুল ঝলমলে করতে চান? তা হলে অবশ্যই এই পরামর্শ মেনে চলুন

দুর্গা পার্বণ

আজও ভিয়েন বসিয়ে হরেক রকম মিষ্টি তৈরি হয় চুঁচড়ার আঢ্যবাড়ির দুর্গাপুজোয়

এই বাড়িতে দেবী শিবদুর্গা রূপে পূজিতা অর্থাৎ তিনি শিবক্রোড়ে অধিষ্ঠিতা এবং তাঁর দুই হাত।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

শারদীয়া দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ এলেই আপামর মানুষের বেশি করে মনে পড়ে কলকাতার বনেদিবাড়ির পুজোর কথা। বনেদিবাড়ির পুজোয় নানা বৈচিত্র্য, নানা বৈশিষ্ট্য। কোথাও দেবী দশভুজা, কোথাও বা দ্বিভুজা। কোথাও তিনি মহিষাসুরদলনী আবার কোথাও শিবনন্দনী। এ ক্ষেত্রে বলা বাহুল্য যে শুধুমাত্র কলকাতাই নয়, কলকাতার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় দেবীর যে আরাধনা হয় বহু বছর ধরে, সেখানেও এমন নানা বৈচিত্র্য লক্ষণীয়।

অতীতে কৃত্তিবাসের রামায়ণে শ্রীরামচন্দ্র আয়োজিত অকালবোধনের যে বর্ণনা রয়েছে তাতে রয়েছে তিনি ১০৮ নীলপদ্ম নিবেদন করেছিলেন দেবীর পাদপদ্মে। আবার রাজা সুরথ মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি করে পুজো করেছিলেন মহামায়ার। সুতরাং বলাই যায়, এই দুর্গাপুজোর সূচনা বা উৎপত্তি বহু বছর আগেই। সে যা-ই হোক, হুগলি জেলার চুঁচড়ায় আঢ্য পরিবারের সদস্যরা প্রায় ২৮০ বছর ধরে দেবীর পুজো করে আসছেন। চুঁচড়ার কামারপাড়ায় দেশবন্ধু স্কুল স্টপেজের কাছেই এই আঢ্যবাড়ি।

আঢ্যবাড়ির দুর্গাদালান।

আঢ্যবাড়ির কথা

কথা হচ্ছিল এই বাড়ির সপ্তমপুরুষ শংকর আঢ্য মহাশয়ের সঙ্গে। তাঁর কাছ থেকে এই বনেদি পরিবার সম্পর্কে অনেক কিছু জানা গেল। শংকরবাবু  জানালেন, আঢ্যবাড়ির পূর্বপুরুষরা আদিসপ্তগ্রাম থেকে এসেছিলেন চুঁচড়ায় এবং এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন। এই আঢ্য পরিবার মূলত ব্যবসায়ী পরিবার হলেও এই পরিবারের যোগীন্দ্রলাল আঢ্য ওরফে জগু মাস্টার ছিলেন হুগলির স্টেশনমাস্টার। পরবর্তী কালে উচ্চারণ বিভ্রাটে জগু মাস্টার হয়ে যান যদু মাস্টার এবং লোকমুখে প্রচলিত ছড়াও সৃষ্টি হয় – ‘আইকম বাইকম তাড়াতাড়ি, যদু মাস্টার শ্বশুরবাড়ি…।’

এই আঢ্য পরিবারের প্রাণপুরুষ ছিলেন বদনচন্দ্র আঢ্য মহাশয়, যিনি হুগলির আঢ্যবাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন। বর্তমানে পরিবারের উত্তরসূরিরা নিষ্ঠা সহকারে পুজো করে আসছেন।

আঢ্যবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয় রথযাত্রার দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে। চুঁচড়ার আঢ্যবাড়ির মৃন্ময়ীকে যাঁরা রূপদান করেন তাঁরা বংশপরম্পরায় সেই কাজ করে চলেছেন। তাঁরা আঢ্যবাড়িতে এসে প্রতিমা গড়েন। শুধুমাত্র প্রতিমাশিল্পীই নন, এই বাড়ির পুজোর সঙ্গে যুক্ত পুরোহিত, ভিয়েনের ঠাকুররাও বংশপরম্পরায় কাজ করে আসছেন। তাঁরাও পুজোর সময় এই বাড়িতে চলে আসেন।

আঢ্যবাড়ির দুর্গাপুজো

আঢ্যবাড়িতে দেবী শিবদুর্গা রূপে পূজিতা অর্থাৎ তিনি শিবক্রোড়ে অধিষ্ঠিতা এবং তাঁর দুই হাত। এক হাতে তিনি বরদাত্রী এবং অপর হাতে তিনি অভয়দায়িনী রূপে বিরাজিতা। সঙ্গে রয়েছেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ অর্থাৎ সপরিবার তিনি বিরাজ করেন আঢ্যবাড়ির পুজোর দালানে। এই বাড়ির বিগ্রহের সাজসজ্জা হয় শোলা ও রাংতা দিয়ে নির্মিত ডাকের সাজে এবং পারিবারিক প্রাচীন স্বর্ণালংকারে দেবীকে সাজিয়ে তোলা হয়।

পুজোর ভোগ।

এই বাড়িতে একটি রীতি এখনও পালন করা হয়। তা হল দুর্গাপুজোর সাত দিন আগে থেকে ভিয়েন বসে। সেখানে তৈরি হয় নানান রকমের মিষ্টান্ন, যেমন প্যারাকী, মিষ্টিগজা, নারকেল নাড়ু, মুগের নাড়ু, সুজির নাড়, বোঁদের নাড়ু ইত্যাদি।

আঢ্যবাড়িতে দেবীর বোধন শুরু হয় মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ তিথিতে। সেই দিন থেকেই বাড়িতে চণ্ডীপাঠ শুরু হয়, যে রীতি আজও অব্যহত রয়েছে। সপ্তমীর দিন সকালে কলাবউ স্নান হয় ষাণ্ডেশ্বর তলার ঘাটে, তার পর দেবীর পুজো শুরু হয়। সম্পূর্ণ বৈষ্ণবমতে পুজো হয় এই আঢ্যবাড়িতে। এখানে মন্ত্রে বলিদান হলেও কোনো দিন এই পরিবারে বলিদানপ্রথা ছিল না বলেই উল্লেখ করেন শঙ্করবাবু।

দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর দিন এই বাড়িতে এক মণ আতপচালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। তার সঙ্গে থাকে বিভিন্ন রকমের ফল, মিষ্টি ইত্যাদি। এই বাড়িতে অন্নভোগের রীতি না থাকলেও দেবীকে লুচি, রাধাবল্লভী দেওয়া হয়। সাথে থাকে নানান রকমের ভাজা, হালুয়া, ক্ষীর, জিবেগজা, পদ্ম নিমকি ইত্যাদি নানান রকমের পদ।

আঢ্যবাড়িতে কুমারীপুজো।

অতীতে দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর সন্ধিপূজার সময় বন্দুক দাগানো হত, বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ রয়েছে। আঢ্যবাড়িতে নবমীর দিন হয় কুমারীপুজো এবং হোম-যজ্ঞ।

দুর্গাপুজোর দশমীর দিন দর্পণে প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার পর পরিবারের বিবাহিত মহিলারা মাছ-ভাত খান – এই প্রথাই চলে আসছে পরিবারে। তার পর হয় দেবীবরণ এবং কনকাঞ্জলিপ্রথা, অর্থাৎ বাড়ির মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছে বলে তার জন্য কনকাঞ্জলি দেওয়া হয়। তার পর কাঁধে চেপে বিসর্জনের পথে রওনা হন আঢ্যবাড়ির শিবদুর্গা। বিসর্জনের শেষে পরিবারের সদস্যরা ঠাকুরদালানে এসে শান্তিজল গ্রহণ করেন এবং সকলকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

আঢ্যবাড়ির কুলদেবতা

এই বাড়ির কুলদেবতা হলেন শ্রীশ্রীশ্যামরায় জিউ। সকলেই হয়তো বুঝবেন রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ, কিন্তু এই আঢ্যবাড়িতে শুধু কষ্টিপাথরের শ্যামরায়ই অবস্থান করছেন। এই শ্যামরায় জিউ প্রতিষ্ঠিত হন ১৭৩০ সালে আঢ্যবাড়ির একতলার মন্দিরে। এখনও দোল, রাসযাত্রা নিয়মমাফিক পালন করা হলেও জন্মাষ্টমী মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: চোরবাগান চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপূজায় ভোগ রান্না করেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা

এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে পরিবারের সদস্যরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মায়ের মূর্তি তৈরি হবে না, দেবীঘটেই পূজা হবে আর পালিত হবে সকল নিয়ম। জানালেন শঙ্কর আঢ্য মহাশয়।

Continue Reading

কলকাতার পুজো

চোরবাগান চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপূজায় ভোগ রান্না করেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা

শুভদীপ রায় চৌধুরী

উত্তর কলকাতা মানেই বনেদি বাড়ির দুর্গাদালানে বহু বছরের ঐতিহ্যকে ফিরে পাওয়া। তিলোত্তমার এই মহোৎসব বহু প্রাচীন, তার মধ্যে অন্যতম হল মধ্য কলকাতার চোরবাগানের চট্টোপাধ্যায় পরিবার।

চোরবাগানের রামচন্দ্র ভবনের নির্মাতা রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বাড়ির ঠাকুরদালানে ১৮৬১ সালে শুরু করেন দেবী দুর্গার আরাধনা স্ত্রী দুর্গাদাসীর পরামর্শে। রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বহু টাকা উপার্জন করে ১২০ নং মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে বাড়ি তৈরি করলেন। সেই বাড়িতেই পুজো শুরু করেন রাঢ়ী শ্রেণির ব্রাহ্মণ।

অন্যান্য বহু বাড়িতে রথের সময় কাঠামোপুজো হলেও, চট্টোপাধ্যায় পরিবারে কাঠামোপুজো অনুষ্ঠিত হয় জন্মাষ্টমী তিথিতে। কাঠামোপুজোর দিন একটি লাঠিকে (পরিবার সূত্রে জানা যায় এই লাঠির বয়স পুজোরই সমসাময়িক) পুজো করা হয়। তার পর সেই লাঠিটি দিয়ে আসা হয় কুমোরটুলিতে। সেখানেই নিমাই পালের স্টুডিওতে  সপরিবার মৃন্ময়ী তৈরি হন।

অতীতে বাড়িতেই ঠাকুর তৈরি হত, রূপ দিতেন নিমাই পালের পূর্বসূরিরা। তবে বর্তমানে কুমোরটুলি থেকেই মা আসেন চট্টোপাধ্যায়দের বাড়িতে দেবীপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে। দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন দেবীকে বেনারসি শাড়ি ও বিভিন্ন প্রাচীন স্বর্ণালংকার পরানো হয়।

পরিবারের সদস্য অরিত্র চট্টোপাধ্যায় একটি বিশেষ রীতির কথা জানালেন। তিনি বলেন, “এই বাড়িতে ষষ্ঠীর দিন রাত্রিবেলা হয় বেলবরণ উৎসব। কথিত আছে, কৈলাস থেকে মা এসে বেলগাছের তলায় বিশ্রাম নেন। তাই ষষ্ঠীর দিন বাড়ির মহিলারা গভীর রাত্রে মায়ের চার দিকে প্রদক্ষিণ করে বরণ করেন ও দেবীকে স্বাগত জানান সে বছরের জন্য।”

সপ্তমীর দিন বাড়িতেই কলাবউ স্নান করানো হয়। আগে এই বাড়িতে ডাকের সাজের প্রতিমা হলেও পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে চট্টোপাধ্যায় পরিবারে পুজো করে থাকেন শিশিরকুমার চট্টোপাধ্যায়।

অতীতে এই বাড়িতে বলিদান হত। সপ্তমী ও সন্ধিপূজায় একটি করে ও নবমীর দিন তিনটি পাঁঠাবলি দেওয়া হত। সেই প্রথা আজ বন্ধ, বর্তমানে প্রতীকী বলিদান হয় পুজোর সময়।

২০১৯-এ দুর্গাসপ্তমীর দিন চোরবাগানের চট্টোপাধ্যায় বাড়ির ইতিহাস সংবলিত পুস্তিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক ও জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ মতিলাল (মাঝে) ও সাংবাদিক-লেখক শংকরলাল ভট্টাচার্য (ডান দিকে)।

চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এই বাড়িতে ভোগ রান্না করেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা। খিচুড়ি, নানান রকমের ভাজা, শুক্তনি, চিংড়িমাছের মালাইকারি, ভেটকিমাছের ঘণ্ট, লাউচিংড়ি, চাটনি, পায়েস, পানতুয়া ইত্যাদি নানান রকমের ভোগ রান্না করে দেবীকে নিবেদন করা হয়।

এই বাড়িতে দুর্গাপুজোর দশমীর দিন হয় রান্নাপুজো, যাকে বলা হয় দুর্গা-অরন্ধন দিবস, অর্থাৎ আগের দিন সমস্ত রান্না করা হয়। দশমীর দিন ভোগ থাকে পান্তাভাত, ইলিশমাছের অম্বল, চাতলার চাটনি, কচুশাক ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর সূচনা: মতিলাল শীল বাড়ির কাঠামোপুজো হল উল্টোরথের দিন

দুর্গাপুজোর দশমীর দিন পরিবারের সদস্যরা মিলে মায়ের সামনে এক প্রার্থনাসংগীত পরিবেশন করেন। সকলে মিলে দেবীর কাছে অশ্রুজলে প্রার্থনা জানান ১৬ পঙক্তির স্তব গেয়ে। অতীতে এই চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে এক কীর্তনের দল ছিল, ‘রাধারমণ কীর্তন সমাজ’ নামে। দলটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন চট্টোপাধ্যায় পরিবারের চিন্তামণি চট্টোপাধ্যায় ও মণীন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়। এঁরাই মূলত গান করতেন। তাই সেই প্রাচীন কাল থেকেই ঠাকুরের বিসর্জনের আগে সবাই মিলে প্রচলিত সুরে গানটি করেন – ‘ভজিতে তোমারে শিখি নাই কভু / ডাকি শুধু তোমায় মা বলে।/ সাধনার রীতি জানি নাকো নীতি / পূজি শুধু তোমায় আঁখিজলে…”।  

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

পুজোর কার্নিভাল: রাজীব বসুর ক্যামেরায়

kashi bose lane

ওয়েবডেস্ক: বৃষ্টি নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও বৃষ্টি কোনো বাধ সাধেনি। বৃষ্টির মোকাবিলায় সব রকম ব্যবস্থা থাকলেও, সে সব ব্যবহার করতে হয়নি। শুক্রবার রেড রোডে পুজোর কার্নিভাল নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হন। অতিথি অভ্যাগতরাও যথাসময়ে হাজির হয়ে যান।

কার্নিভালে আমন্ত্রিত বিদেশি বাণিজ্য দূতাবাসের আধিকারিকরা।

কলকাতার নামজাদা সর্বজনীন পূজাকমিটিগুলি তাঁদের প্রতিমা নিয়ে মিছিল করে যান। সঙ্গে ছিল নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পুলিশের কসরতও।

আলিপুর ৭৮ পল্লি।

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব।

চোরবাগান সর্বজনীন।

ভবানীপুর স্বাধীন সংঘ।

তেলেঙ্গাবাগান।

বাঘা যতীন তরুণ সংঘ।

দমদম পার্ক ভারত সংঘ।

ফরোয়ার্ড ক্লাব।  

Continue Reading
Advertisement
দেশ30 mins ago

বুলডোজারে নষ্ট করা হচ্ছে ফসল, অপমানে বিষ খেলেন দলিত দম্পতি

বিজ্ঞান7 hours ago

সূর্যাস্তের পর অন্তত ২০ মিনিট দেখুন উত্তর-পশ্চিম আকাশে ধূমকেতু ‘নিওওয়াইজ’, চলবে মাসভর

বাংলাদেশ10 hours ago

বাবা-মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় প্লে-ব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর

রাজ্য11 hours ago

প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিকের ফলাফল, ভরতি কবে এবং কী ভাবে?

প্রযুক্তি13 hours ago

রিলায়েন্সের নতুন ‘জিও গ্লাস’, চশমাটি কী কাজে লাগবে?

রাজ্য14 hours ago

কলকাতার পাশাপাশি চিন্তা বাড়াচ্ছে উত্তরবঙ্গের দুই জেলার করোনা-পরিস্থিতি

Amit Shah
দেশ14 hours ago

মোদী সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা: অমিত শাহ

গান-বাজনা14 hours ago

১২ বছরের পথচলায় ‘মুক্তধারা’র মুকুটে আরও একটি পালক, চালু হল ইউটিউব চ্যানেল

কেনাকাটা

laptop laptop
কেনাকাটা14 hours ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

কেনাকাটা4 days ago

হ্যান্ডওয়াশ কিনবেন? নামী ব্র্যান্ডগুলিতে ৩৮% ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর সঙ্গে লড়াই এখনও জারি আছে। তাই অবশ্যই চাই মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ।...

কেনাকাটা6 days ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা1 week ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

নজরে