ব্রণ-র হাত থেকে মুক্তি পেতে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি অবশ্যই প্রয়োগ করুন

0

ওয়েবডেস্ক : বিয়ে হোক বা বিয়ে বাড়ির নিমন্ত্রণ, মুখের কালো দাগের সমস্যা থাকলে কোনো জায়গাতেই গিয়ে শান্তি নেই। সাধারণত ব্রণ, ফুসকুড়ি সেরে যাওয়ার পর মুখের ত্বকে এই ধরনের কালো দাগ রেখে যায়। এই দাগ মনের মধ্যে অশান্তির সঙ্গে সঙ্গে তৈরি করে হীনমন্যতাও।

ঠিকঠাক চিকিৎসা ব্রণ এবং দাগের হাত থেকে মুক্তি দেয়। কিন্তু সেই চিকিৎসা খরচ সাপেক্ষ ও সেই সব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ও থেকে যায়। তাই এই সব ক্ষেত্রে  সবচেয়ে ভাল হয়, যদি কোনও প্রাকৃতিক উপায়ে এই কালো দাগ দূর করা যায়। একটি গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে এই সমস্যার জন্য রয়েছে একটি খুব ভালো ওষুধ। তা মোটামুটি প্রতি ঘরেই থাকেই। এমনকী এর প্রয়োগ পদ্ধতিও খুবই সহজ। আয়ুর্বেদিক জার্নাল ফর মেডিকেল সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত হয়েছিল গবেষণা পত্রটি। এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাত্র ৭ দিনে মুখ থেকে দূর করা যাবে এই কালো দাগ।

তবে সেই বিশেষ উপাদানটির কথা বলার আগে বলে নেওয়া ভালো বিশেষ কয়েকটি বিধি। যেগুলি অবশ্যই মেনে চলা উচিত। তাতে করে ব্রণ হওয়াও আটকানো যাবে। সঙ্গে তার থেকে মুক্তিও মিলবে খুব চটপট।

প্রথমেই যে কথাটি বলতে হবে তা হল, সব সময় মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতিদিন অন্তত তিন-চার বার মুখ ধোয়ার অভ্যাস করতে পারলে ভালো হয়।

বাইরে থেকে ঘরে ফিরে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। সঙ্গে অবশ্যই মনে রাখতে হবে মুখে কখনোই সাবান ব্যবহার করা যাবে না। অ্যাকনি ক্লিঞ্জার ব্যবহার করে তার পর ফেস ওয়াস ব্যবহার করতে হবে।

নখ দিয়ে কখনোই ব্রণ খোটা ঠিক না। ভালো ভাবে মুখ পরিষ্কার করার পর তুলা দিয়ে ব্রণর দু’পাশে চেপে ধরে এর ভিতরের আঁশ ও পুঁজ বের করতে হয়। তবে বেশি চাপাচাপি করা যাবে না।

এই হল প্রাথমিক ভাবে কিছু বিধি পালন। এর পর আসা যাক সেই অসামান্য ঘরোয়া উপাদানটির কথায়। এটি হল পাতিলেবুর রস। মুখের দাগ তোলার জন্য তিনটি কৌশলে পাতিলেবুর রস প্রয়োগ করা যেতে পারে।

১। পাতিলেবুর রস –

লেবুর রস সরাসরি মুখের দাগযুক্ত অংশে লাগিয়ে নিতে হবে। তার পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। তার পর সাদা জলে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। দিনে অন্তত দু’বার এটা করা যেতে পারে।

২। মধু ও পাতিলেবুর রস

এক চা চামচ বিশুদ্ধ মধুর সঙ্গে এক চা চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ মুখের কালো দাগের উপর আলতো ভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে মুখ সাদা জলে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

৩। টমেটোর রস ও পাতিলেবুর রস –

তা ছাড়াও আরও একটি পদ্ধতি রয়েছে। এক চা চামচ পাতিলেবুর রসের সঙ্গে এক চা চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে নিতে হবে। সেই মিশ্রণে এক চা চামচ ওটমিলও যোগ করতে হবে। এই বারও মিশ্রণ লাগিয়ে মিনিট ১৫-২০ অপেক্ষা করতে হবে। তার পর সাদা জলে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। দিনে দু’বার করতে পারলে ভালো। রাতে শোওয়ার আগে এই পদ্ধতি এক বার করতে পারলে ফল ভালো মিলবে।

এ ছাড়াও আরও কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে।

১। রসুন –

রসুনের রস ব্রণের উপরে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পরে সাদা জলে ধুয়ে ফেলতে হবে।

২। শশা –

সাধারণত ত্বক তৈলাক্ত থাকার ফলে ব্রণ হয়। এ দিকে শশার রস ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে ভালো কাজ করে। তাই বাইরে থেকে এসে বা বাড়িতে থাকলেও শশার রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা যেতে পারে।

৩। তুলসি পাতা –

ব্রণের জন্য আরও একটি উপকারী উপাদান হল তুলসি পাতার রস। কারণ তুলসি পাতায় আছে অনেক গুণ। তুলসি পাতার রস ব্রণ এ লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম কুসুম গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪। দারচিনি গোলাপ জল –

গোলাপ জলের নিয়মিত ব্যবহারেও ব্রণের দাগ কমে যায়। দারচিনি গুঁড়োর সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। মিশ্রণটি ব্রণের ওপর লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা। তার পর ধুতে হবে, এতে ব্রণের সংক্রমণ, চুলকানি এবং ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

৫। ডিম পাতিলেবু –

ব্রণ ও কালো দাগ সারাতে কার্যকরী ডিমও। শোবার আগে ডিমের সাদা অংশ ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় ম্যাসাজ করে নিয়ে সারারাত রাখতে হবে। এতে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়। এর সঙ্গে পাতি লেবুর রস যোগ করতে পারলে ফল আরও ভালো হবে। সে ক্ষেত্রে আধ ঘণ্টা পরে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

আসলে লেবুতে আছে সাইট্রিক অ্যাসিড। তা ত্বকের পক্ষে খুবই উপকারী। সেই সঙ্গে ব্রণ বা ফুসকুড়ির কারণ হিসেবে যেসব ব্যাকটেরিয়া কাজ করে সেগুলিকেও মারে।  সঙ্গে ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করে। ফলে এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে দূর হয় ভবিষ্যতে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা। কমে যায় মুখের কালো দাগও।

এই পদ্ধতিগুলি প্রয়োগ করলে মাত্র অল্প দিনের মধ্যেই মুখের কালো দাগ ও ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবেই। গবেষণাপত্রের দাবি, পাতিলেবুর রসের নিয়মিত প্রয়োগে মাত্র সাত দিনেই অনেকখানি ঝকঝকে দেখাবে মুখ। তা রাসায়নিক ক্রিম ছেড়ে  পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ঘরোয়া কৌশল ব্যবহার করেই হয়ে উঠুন ঝকঝকে মুখের অধিকারী।

দেখুন – কফির ভালো-মন্দ, পানের আগে অবশ্যই জেনে নিন

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.