খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নানা সমস্যা রয়েছে। আরও একটা সমস্যা হল খুশকি। খুশকি শুধু চুল বা স্ক্যাল্পের ক্ষতি করে তাই নয়, এক বার হলে আর যেতেও চায় না। তা ছাড়া লোকসমাজে এই খুশকির জন্য কত সময়ে লজ্জায় পড়তে হয়! এর দিকে সঠিক গুরুত্ব না দিলে, এটি আরও বাড়তে পারে। খুশকি সাধারণত বর্ষাকালে এবং শীতকালে বেশি দেখা যায়। তবে আজকাল আবহাওয়ার পরিবর্তন, দূষণ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে প্রায় সারা বছরই খুশকির সমস্যা লক্ষ করা যায়। আপাতদৃষ্টিতে খুশকিকে বড়ো ধরনের সমস্যা মনে না হলেও, শরীরের সৌন্দর্যহানিতে খুশকির একটা বড়ো ভূমিকা আছে।

খুশকি অনেক প্রকারের হয় – কোনোটা চুলে আটকে থাকে, কোনোটা আবার শুষ্ক ধরনের হয় যেটা সহজেই কাঁধে কিংবা জামার কলারে লক্ষ করা যায়। সারা বিশ্বে মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ এই খুশকির সমস্যায় ভুগছে।

অনেকে ‘অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ’ শ্যাম্পু ব্যবহার করেন। অনেক টাকা খরচ করে পার্লারে ট্রিটমেন্ট করান। কিন্তু খুশকি তো যায়ই না, উলটে চুলের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়! আপনার ঘরে থাকা কয়েকটি জিনিস দিয়েই আপনি সহজেই এই খুশকি সমস্যার সমাধান করতে পারেন। চুল হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যকর।

কী কী কারণে খুশকি হয়

চুল পরিষ্কার না করা

চুলে যদি ময়লা জমে এবং তা ঠিক করে পরিষ্কার না করা হয়, তা হলে খুশকি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

Shyamsundar
পাতিলেবু ও পুরোনো তেঁতুল।

গরমজল দিয়ে স্নান

যাঁরা গরমজল দিয়ে স্নান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে খুশকির সমস্যা বেশি লক্ষ করা যায়। চুল ধোয়ার জন্য সব সময়, সাধারণ তাপমাত্রার জল ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা শুষ্ক ত্বক

ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত অথবা শুষ্ক হলে খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকে ধুলোবালি বেশি জমে। ত্বকের মৃত কোষগুলির অত্যাধিক বৃদ্ধি হলে খুশকি হয়। যাঁরা নিয়মিত সঠিক ভাবে চুল আঁচড়ান না, চুলে ঠিকমতো শ্যাম্পু করেন না তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা বেশি দেখা যায়।

অত্যাধিক চিন্তা

অত্যাধিক চিন্তা মাথার ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে খুশকির সমস্যা দেখা যায়। তাই খুশকি হওয়ার অন্যতম কারণ মানসিক দুশ্চিন্তাও হতে পারে। মাথার চুল যদি দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকে, সে ক্ষেত্রে চুলের গোড়ায় ছত্রাক তৈরি হয়, যা খুশকির সৃষ্টি করে।

খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায়

রিঠা ও পেঁয়াজের রস।

পাতিলেবু

পাতিলেবুর রস সরষের তেলে ভালো করে মেশান। মিশ্রণটি ভালো করে গোটা স্ক্যাল্পে মাসাজ করুন। মিনিট পাঁচেক চুলের গোড়ায় ভালো ভাবে মালিশ করার পর চুল ধুয়ে নিন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত ২ বার এই ভাবে পাতিলেবু ব্যবহার করে দেখুন। ফল পাবেন হাতেনাতে।

পুরোনো তেঁতুল

পুরোনো তেঁতুল জলে গুলে নিন। ওই মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগান। ১০-১২ মিনিট অপেক্ষা করে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু’ দিন তেঁতুল মাথায় দিন। এতে খুশকি যেমন দূর হয় তেমনি মাথার চুলকানিও কমে যায়।

টকদই

খুশকির সমস্যা দূর করতে টকদই অত্যন্ত কার্যকর একটি উপাদান। খুশকি দূর করতে মাথার ত্বকে টকদই দিয়ে ভালো ভাবে মালিশ করুন। এর পর মিনিট দশেক রেখে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত দু’ বার এই ভাবে চুলে টকদই ব্যবহার করে দেখুন। উপকার পাবেন।

রিঠা

খুশকির সমস্যা দূর করতেও রিঠা অত্যন্ত কার্যকর! রিঠা পাউডার বা রিঠাসিদ্ধ জল দিয়ে চুল ভিজিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে দিন। ঘণ্টাখানেক পর চুল ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে ২-৩ বার রিঠা ভেজানো জল মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে রিঠা অত্যন্ত কার্যকর একটি উপাদান।

মেথি ও নিমপাতা।

পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের রস দ্রুত খুশকি দূর করতে পারে। পেঁয়াজ মিহি করে বেটে নিয়ে রস ছেঁকে নিন। পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় ভালো করে ঘষেঘষে লাগান। ২০-২৫ মিনিট রেখে চুল ভালো ভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু’ বার পেঁয়াজের রস লাগান। এতে মাথা চুলকানোও কমে যাবে।

মেথি

২-৩ চামচ মেথি সারা রাত জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে ভালো করে বেটে নিন। ছেঁকে নেওয়া জল ফেলে দেবেন না। এ বার মেথিবাটা চুলের গোড়ায় মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে দিন। এর পর শুকিয়ে গেলে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে দু’ বার মেথি ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যা দ্রুত দূর হবে।

নিমপাতা

নিমপাতা খুশকির প্রকোপ কমাতে দারুণ কাজে দিতে পারে৷ একমুঠো নিমপাতার পেস্ট তৈরি করে নিন৷ স্নানের এক ঘণ্টা আগে সেটা মাথায় লাগিয়ে শাওয়ারক্যাপ পরে থাকুন ৷ তার পর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে নিন৷ নিমের নিয়মিত ব্যবহার আপনার মাথার তালুর চুলকানি কমাবে। যে ফাঙ্গাসের কারণে খুশকির বাড়বাড়ন্ত হয়, সেগুলিকে বাড়তে দেবে না নিমের নির্যাস।

গ্রিন টি

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এই অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ চা৷ এক কাপ গ্রিন টি বানিয়ে নিন৷ তার মধ্যে মেশান কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল তেল আর এক চা চামচ কোনো ভালো মানের সাদা ভিনিগার৷ ঠান্ডা করে নিন৷ স্নানের আগে চুলটা ভিজিয়ে নিন সাধারণ তাপমাত্রার জলে৷ তার পর এই মিশ্রণ চুলে ঢালুন৷ ঘষেঘষে মাথার ত্বকে মিশ্রণটা লাগিয়ে নিন পাঁচ মিনিট ধরে৷ তার পর শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলটা ধুয়ে নিতে হবে৷ কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন৷

নারকেল তেল

নারকেল তেলেরও কিন্তু ফাঙ্গাস তাড়ানো আর চুলকে খুশকিমুক্ত রাখার ক্ষমতা আছে! পাঁচ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে দশ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন৷ তার পর মাথার তালুতে ভালো করে মাসাজ করে নিন এই মিশ্রণ৷ পর দিন সকালে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে পারেন৷

আরও পড়ুন: এই বর্ষায় নিজের ত্বকের বিশেষ যত্ন নিন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন