কম বয়সে চুল পেকে যাচ্ছে? সুরাহা কী ভাবে, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: এমন অনেকেই আছেন যাঁদের কম বয়সে চুল পেকে যায়। কম বয়সে পাকা চুল বিব্রতকর ব্যাপার। গবেষকেরা বলছেন, এর কোনো সঠিক কারণ তাঁরা বের করতে পারেননি এখনও। তবে জিনগত কারণেই কম বয়সে চুল পাকে। এ ছাড়াও আমাদের মাথার চামড়ায় পর্যাপ্ত মিনারেল ও ভিটামিনের অভাবে চুল পেকে যায়। এর পাশাপাশি আধুনিক চাকরির অত্যাধিক স্ট্রেস, পরিবেশ দূষণ, ডায়েটে অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড-সহ নানা কারণে অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়। অনেক সময়েই দেখা যায়, কারও কারও তিরিশের কোঠাতেই মাথার চুল অর্ধেকের বেশি পেকে গিয়েছে। চুল পাকলে তা রঙ করার জন্য নিয়মিত রাসায়নিক ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি হয়। স্বাস্থ্যকর চুলের সৌন্দর্যের জন্য পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

কেন পাকে চুল

দূষিত পরিবেশ

Loading videos...

পরিবেশ দূষণকারী পদার্থ অথবা টক্সিন আপনার চুলকে অল্প বয়সেই সাদা করতে পারে। আমাদের চুলে কালো রঙ আসে মেলানিন নামের একটি রঞ্জক কণিকা থেকে। আমাদের শরীর যখন এই পদার্থটি উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তখন চুলে রঙহীন হয়ে যায় অর্থাৎ পেকে যায়।

বংশগত

কম বয়সে চুল পেকে যাওয়া বংশগত হতে পারে এবং তা বাবা বা মা যে কারও দিক থেকেই আসতে পারে। আপনার বাবা অথবা মায়ের চুল যদি কম বয়সে পেকে যায় তা হলে আপনারও তা হতে পারে।

হরমোনের সমস্যা

মানসিক অবসাদ, মানসিক চাপ, কষ্ট, দুশ্চিন্তা থেকে অকালে চুল পাকতে পারে। তারুণ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে সেরেটনিন হরমোন অনেক বড়ো ভূমিকা পালন করে। মানসিক অবসাদ রক্তে সেরেটনিন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। পরিণামে ত্বক ও চুলের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। হরমোনের সমস্যায় অকালে চুল পাকতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম, দুই সমস্যা থেকেই চুল অকালে পাকতে পারে। রক্তে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে। এ হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলে।

ভিটামিনের অভাব

ভিটামিনের অভাবে চুল পাকে। ভিটামিন বি ১২, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-র অভাবে অকালে চুল পেকে যায়। ভিটামিন সি জাতীয় খাবারের মধ্যে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা ত্বক, চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। অপুষ্টি, ভিটামিন, মিনারেলের অভাবে অনেকের চুল অকালে পেকে যায়।

ধূমপান

শুধু সরাসরি নয়, পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও চুল ধুসর বর্ণ ধারণ করতে পারে। যাঁরা ধূমপান করেন তাঁদের অকালে চুল পেকে যাওয়ার আশঙ্কা অধূমপায়ীদের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি।

প্রাথমিক ভাবে চুল পাকা বন্ধ করার উপায়

আমলকী ও পেঁয়াজ।

আমলকী

আমলকীতে আছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। খাবারে আমলকী রাখলে চুল পাকা বন্ধ হতে পারে। এ ছাড়া মাথায় আমলকীর পেস্ট ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে জলে দিয়ে ধুয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যায়।

পেঁয়াজ

অকালে চুল পাকা রোধে পেঁয়াজও খুব কার্যকর। পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় লাগিয়ে অপেক্ষা করুন আধ ঘণ্টা। তার পর ঈষদুষ্ণ জলে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কফি

গরম জলে কফি দিয়ে মিশ্রণ বানান। মিশ্রণ ঠান্ডা হলে ওটা চুলে ভালো করে মাখিয়ে নিন। অন্তত কুড়ি মিনিট ওই ভাবেই চুল রেখে দিন। এর পর ঠান্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করুন। সপ্তাহে নিয়মিত ভাবে দুই থেকে তিন দিন এটা করতে থাকুন। চুলে বাদামি আভাস চলে আসবে।

হেনা

প্রাকৃতিক ভাবে চুল রঙ করতে এবং চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে হেনার জুড়ি নেই। যে দিন হেনা করবেন, তার আগের দিন হেনার গুঁড়ো ভিজিয়ে রাখুন। চুলে লালচে ভাব আনতে হলে হেনা ভেজাবেন লোহার পাত্রে। আর শুধু কন্ডিশনিং করতে হলে যে কোনো পাত্রেই ভেজাতে পারেন। চায়ের লিকারে ভেজাতে পারেন হেনা। মাথায় খুসকির সমস্যা থাকলে এতে মেশান লেবুর রস। স্ক্যাল্পে যেন হেনা না লাগে, খেয়াল রাখবেন। অন্তত এক ঘণ্টা হেনা প্যাক লাগিয়ে রাখুন। তার পর ঈষদুষ্ণ জলে শ্যাম্পু করে নিন। শ্যাম্পু সালফেটমুক্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। প্রতি মাসে এক বার করে হেনা করতে থাকুন। কয়েক মাসে পরে নিজেই দেখবেন চুলের পরিবর্তন।

আরও পড়ুন: খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন