মা আসছে আর কয়েকদিন পরেই। চারিদিকে সাজো সাজো রব। প্রায় প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই পুজোকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন রকমের পরিকল্পনা।

কিন্তু পুজোর দিনগুলিতে কীভাবে সাজবেন সেই ব্যাপারে কিছু ভেবেছেন? পুজোর পাঁচদিন? তখন তো আর রোজ-রোজ পার্লারে ছুটতে পারবেন না! তখন মেকআপের গুরুদায়িত্বটি সামলাবে কে?

পুরোবছর জুড়ে তো মেকআপের দিকে প্রায় কেউই সে ভাবে  নজর-টজর দেন না। কিন্তু পুজোর পাঁচদিন কীভাবে মেকআপ করবেন বরং জেনে নিন।

১। প্রাইমার বা বেস

প্রাইমার বা বেস হল মেকআপের প্রথম ধাপ। মেকআপকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে প্রাইমার বা বেসের দরকার। প্রাইমার মেকআপকে লং লাস্টিং করে এবং মুখে দাগ থাকলে তা ঝাপসা করে দিয়ে চকচকে ভাব আনে। এতে মেকআপ সহজে বসে যায়। তাই মেকআপের প্রথম পাঠ হল প্রাইমার বা বেস।

২। কন্সিলর

যাদের মুখে দাগ রয়েছে, দাগ ঢাকতে এটি সবচেয়ে উপযোগী। বেসের উপর মুখে যেখানে যেখানে কালো দাগ রয়েছে সেইসব দাগের উপর কন্সিলর দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। কন্সিলর মুখের কালো দাগ সহজেই ঢেকে ফেলে।

৩। ফাউন্ডেশন

ফাউন্ডেশন ফুল কভারেজ মেকআপের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ফাউন্ডেশন রয়েছে যা ফুল কভারেজ দেবে। সারাদিন মেকআপ ভালো থাকবে। দীর্ঘক্ষণের জন্য মেকআপ টিকিয়ে রাখার জন্য ফাউন্ডেশনের দুটি লেয়ার দিতে পারেন। শুষ্ক ও তৈলাক্ত ত্ব্কের জন্য দুই ধরনের ফাউন্ডেশন পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই ফাউন্ডেশন কেনার সময় নিজের স্কিন টোন দেখে কিনবেন।

৪। কন্টুরিং কিট

কন্টুরিং ব্যবহার করা হয় মুখের আকৃতিকে বোঝানোর জন্য। যাতে মুখের মেকআপ আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। এটির দুটি শেড একটি ন্যাচারাল এবং আরেকটি ডার্ক। দিনের বেলার জন্য অবশ্যই ন্যাচারাল ও রাতের জন্য ডার্ক কন্টুরিং ব্যবহার করুন।

৫। লুজ পাউডার

এটি ট্রান্সপারেন্ট। তাই ত্বকের কালার যাই হোক না কেন  লুজ পাউডার দিলে মুখ থেকে তেল বের হয় না। ত্বকে মেকআপ বসতে সাহায্য করবে।

৬। ফেস পাউডার

মেকআপের পর ফিনিশিং টাচের জন্য ফেস পাউডার গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রেও শুষ্ক ও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য দুই ধরনের ফেস পাউডার পাওয়া যায়। অতি অবশ্যই যেন স্কিনটোনের সঙ্গে মানানসই হয়। এটি ৬-৮ ঘন্টা মুখের দাগ এবং পোর কভার করবে।

৭। ব্লাশ

ব্লাশ ছাড়া মেকআপ একেবারেই সম্পূর্ণ হয় না। মোটামুটি একটি কিটে দু’টো থেকে শুরু করে অনেক রং থাকে যা ব্রাশার ও হাইলাইটার দু’টোরই কাজ করে। একটু লং লাস্টিং ব্লাশার কেনাই ভালো। ড্রেসের রঙের সঙ্গে মানাসই ব্লাশারেই মেকআপ হবে একেবারে পারফেক্ট।

৬। ভুরুর সাঁজসজ্জা

ঘন ভুরু এখন সব ফ্যাশনেই ইন। তাই আপনার ভুরু যদি সে রকম ঘন না হয়, তাহলে ‘নিক্স’ প্রফেশনাল মেকআপ মাইক্রো ব্রো পেনসিল-এর সাহায্যে এঁকে নিতে পারেন। প্রথমে ভুরুটি একটি শেপে এঁকে নিয়ে তারপর  কাজল পেন্সিল দিয়ে এঁকে নিন। এতে দেখতে ভালো লাগবে। এরপরে যে কোনও সেটিং পাওডারের সাহায্যে ভুরুটি সেট করে নিন। এতে ভুরু দু’টি দেখতে ন্যাচারাল লাগবে এবং বেশি সময় ধরে সেট হয়েও থাকবে।

৭। স্মাজি আই

পুজোতে চোখের মেকআপকে যদি নতুন রূপ দিতে চান। তাহলে স্মাজি আই ওয়াটারপ্রুফ মাস্কারা ব্যবহার করে এরপরে আই ল্যাশ লাগিয়ে নিন। এটি শুকিয়ে যাওয়ার পর আবার আর একটি কোট তার উপর দিয়ে নিন। এর ফলে আই ল্যাশগুলি ঘন লাগবে। এইবার কাজল স্পেড-এর সাহায্যে চোখের আপার ওয়াটারলাইনে ও অর্ধেক লোয়ার ওয়াটারলাইনে অ্যাপ্লাই করে নিন। দেখবেন, আপনার চোখে কি সুন্দর একটি স্মাজি লুক এসেছে।

৮। মানানসই লিপ কালার

মেকআপের শেষ ধাপে লিপ কালার মাস্ট। এর জন্যে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং যে কোনো শেডের লিপ কালারই ব্যবহার করতে পারেন। যে কোনো ডার্ক কিংবা হালকা ম্যাট রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন