“শীতের হাওয়ায় লাগল নাচন, লাগল নাচন।

         আমলকীর ওই ডালে ডালে।”

ভোরের বাতাসে হিমেল পরশ ও রাতের আবহাওয়াতে জানান দিচ্ছে শীতকাল পড়ে গেছে। তবে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়তে এখনও হয়ত বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু শীতের উত্তুরে হাওয়া যে বইতে শুরু করে দিয়েছে। আর এই ঠান্ডা হাওয়াতে ত্বক প্রায় অনেকেরই শুষ্ক হতে শুরু করেছে।

তাই জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগেই ত্বকের সুরক্ষা কীভাবে নেবেন ঘরোয়া উপায়ে জেনে নেওয়া যাক। 

১। অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল সাধারণত সব ধরনের ত্বকের পক্ষেই খুব কার্যকর৷ এর মধ্যে উপস্থিত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডান্ট শুধু মুখ নয়, পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নেয়৷ স্নানের ৩০ মিনিট আগে মুখে ও পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মেখে নিন৷ তার পর হালকা গরমজলে স্নান সেরে লাগিয়ে নিন ময়েশ্চরাইজ়র৷

অলিভ অয়েল, ব্রাউন সুগার ও মধু তিনটি উপাদান পরিমাণ মতো মিশিয়ে নিন। তারপর হালকা হাতে সর্বাঙ্গে মেখে নিন এই মিশ্রণটি৷ আলতো করে ম্যাসাজ করুন, এতে আপনার শরীরের সমস্ত মৃত কোষ উঠে যাবে৷ তারপর স্নান করে হালকা ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নিন৷

২। দুধ অথবা দই

রুক্ষ, শুষ্ক, ফাটা ত্বকে অনেক সময়েই জ্বালা বা চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয়৷ ঠান্ডা দই বা দুধে নরম কাপড় বা তুলো ভিজিয়ে নিন সর্বাঙ্গে লাগান৷ অন্তত পাঁচ মিনিট এই প্রলেপটি ব্যবহার করুন৷ তাতে ত্বকের জ্বালাভাব দূর হবে৷ দই বা দুধে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিডের প্রভাবে ঝলমলিয়ে উঠবে আপনার ত্বক৷ কাঁচা দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন৷ তারপর আপনার পুরো শরীরে লাগিয়ে নিন স্নানের আগে৷ দই দিয়েও এই মিশ্রণ তৈরি করা যায়৷ প্রলেপটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন ও স্নান করে নিন৷

৩। ওটমিল

বহু হাজার বছর ধরে ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে ওটমিল৷ সবচেয়ে ভালো কাজে দেয় ওট, সেটাকে ব্লেন্ডারে দিয়ে প্রথমে পাউডারের মতো গুঁড়ো করে নিন।  তারপরে ওটসের গুঁড়োর সঙ্গে ২-৩ চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাকটি বানিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ওটমিল ত্বক পরিষ্কার করে, আর্দ্রতা জোগায়৷ এর মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডান্ট বজায় রাখে উজ্জ্বলতা৷

৪। মেয়োনিজ

শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও মেয়োনিজ কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকর৷ তবে মেয়োনিজ সাধারণত নুন, গোলমরিচ, মাস্টার্ড পাউডার ইত্যাদি যোগ করা হয় স্বাদ বাড়ানোর জন্য৷ এই জিনিসগুলি যোগ করার আগে খানিকটা তুলে রেখে দিন মাস্ক হিসেবে ব্যবহারের জন্য৷ তা না হলে ত্বকে প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে৷ ডিমের কুসুম আর তেল ব্লেন্ড করে যে মেয়োনিজ তৈরি হয়। তার সঙ্গে খানিকটা বেবি অয়েল মিশিয়ে নিন৷ তারপর মুখে, ঘাড়ে, কনুইয়ে, হাতে লাগিয়ে নিন স্নানের আগে৷ ডিমের গন্ধটা একটু কড়া, সেটা সহ্য করে নিতে পারলে এই প্যাকের কোনও জবাব নেই।

৫। অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেল ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং  নরম ও কোমল হয়ে ওঠে৷ সেই সঙ্গে যদি ২ চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করেন, তাহলে আরও ভালো ফল পাবেন৷

রূপচর্চা সংক্রান্ত খবর পড়তে এখানে ক্লিক করুন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন