শিশুসন্তানের সঙ্গে বাবা-মা এই ভুল আচরণ প্রায়ই করে থাকেন

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সন্তানকে বড়ো করে তুলতে গিয়ে সব সময় যে অভিভাবকরা ঠিক সিদ্ধান্ত নেন বা ঠিক আচরণ করেন তা কিন্তু হয় না। খুবই প্রচলিত কয়েকটি ভুল সাধারণ ভাবে সব কালেই বাবা-মা করে থাকেন। সেই ভুলগুলির খেসারত দিতে হয় ছোট্টো শিশুটিকে। যদি সেগুলি শুধরে নেওয়া যায় তা হলে ছোট্টো মন ও মাথা অনেক সুস্থ ভাবে বড়ো হয়ে উঠতে পারে। তাই এই আচরণগুলি করার আগে একটু সচেতন হন –  

১) অপরের সঙ্গে তুলনা –

প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা। ফলে শিশুদের ক্ষেত্রে তার অন্যথা হয় না। দোষগুণ সব কিছুই থাকে। তাই অন্যের সন্তান ভালো আর নিজেরটা বোকা হলেও তা বার বার তুলে ধরে সন্তানের মনকে আঘাত করা অনুচিত। এতে আত্মবিশ্বাস, মনোবল ভেঙে যায়।

Loading videos...

২) পাশফেল

এক আধবার ভালো ফল না করা বা ফেল করার মানেই জীবনে সব শেষ নয়। তাই প্রতিভাকে খুঁজে বার করুন। পড়াশোনার পাশাপাশি সেই বিষয়েও উৎসাহ দিন। সামাজিক কাজ, লেখা, ক্যালিগ্রাফি, রান্না যে কোনো কিছুই হতে পারে। তার জীবন সেই বিষয়ের হাত ধরেও উজ্জ্বল হতে পারে। অযথা পড়াশোনার চাপ দেওয়া ভুল। যে প্রাণী যেখানে বাঁচে তাকে যেমন সেখানেই বাঁচতে দেওয়া উচিত, শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রেও তাই।  

৩) না জেনে জ্ঞান দেওয়া

কিছু বিষয়ে শেখানোর আগে নিজে ভালো করে শিখে নেওয়া উচিত। কারণ অভিভাবকের ভুল শিক্ষা ভুল শেখাবে এবং অন্যদের সামনে বোকা অথবা অহংকারী বলে পরিচিত হবে। তাই এ বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত।

৪) নিজের অসম্পূর্ণ ইচ্ছে

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হয় নিজের রেপলিকা, না হয় নিজের অপূর্ণ ইচ্ছাপূরণের যন্ত্র হিসেবে শিশুদের ভাবা হয়। সেই ভাবেই চাপ দিয়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। সেটা ঠিক নয়। গুরুজনের পরামর্শের দাম অবশ্যই আছে। তবে তা শেষ কথা নয়। শিশুর ইচ্ছা ও দক্ষতার বিষয়ইটিই আসল, সেটি ভুললে চলবে না।

৫) সময় না দেওয়া

আজকাল বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায়, অভিভাবকরা সন্তানদের সময় দিতে পারেন না। তাই সন্তানের সব বায়না মেটাতে যা চায় তাই হাতের মুঠোয় এনে দেন। যাবতীয় আবদার পূরণ করেন। সেটাই গোড়ায় গলদ হয়ে দাঁড়ায়। এটিই তাদের জেদি করে তোলে। বাবা-মায়ের শূন্যতা কখনওই অর্থের, দ্রব্যের বিনিময়ে মেটানো যায় না। তা বুঝতে হবে বড়োদের। সময়ের দাম এবং জিনিসের মূল্য এক হতে পারে না কখনও। তাই অভাব পূরণের এই পন্থা কুপ্রভাব ফেলে শিশুমনে।

এমনই আরও কিছু ভুল অভিভাবকরা প্রায়শই করে থাকেন। যেগুলির মূল্য শিশুদের প্রাণের বিনিময়েও অনেক সময় চোকাতে হয়। তাই খুব সচেতন হতে হবে। তাদের মনের অবস্থা বুঝতে হবে। তাদের কোনো ভাবেই সুইসাইডাল মেনটালিটিতে চলে যেতে দেওয়া যাবে না।  

পড়ুন – মানসিক স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সচেতনতা বাড়াতে নীরজা বিড়লা এবং অমিতাভ বচ্চনের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রচারাভিযান

আরও পড়ুন – শিশুসন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়েরা কী রকম আচরণ করবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.