পুজো তো চলেই এল! ত্বকের জেল্লা বাড়াতে করেই দেখুন

ওয়েবডেস্ক: পুজো একেবারে নাকের ডগায়। নতুন পোশাক তো কিনেছেন। কিন্তু ত্বকের পরিচর্যা ঠিক ভাবে না করলে, পুজোর সময় যতই ভাল পোশাক পরুন না কেন, আপনাকে বেমানান লাগবে। সেই জন্য পুজোর আগে ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া ভীষণ ভাবে জরুরি।

যেহেতু দূষণ বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিংও। সে জন্য শরীরের সাধারণ আর্দ্রতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এই কারণে বিভিন্ন ধরনের ফল, তাজা শাক-সবজি ও প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া দরকার। সুষম স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনও বিকল্প হয় না।

ত্বকের যত্ন নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপই হল ত্বককে সব সময় পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রাখা। তারই সঙ্গে ত্বকে স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে। সবচেয়ে আগে জানা জরুরি যে, কী ধরনের ত্বক। তৈলাক্ত, আংশিক তৈলাক্ত, সাধারণ নাকি শুষ্ক।

১। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে

তা হলে সারাদিনে অন্তত দু’বার আপনাকে অয়েল কন্ট্রোল ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলতে হবে। এর পর মুখে অল্প টোনার লাগিয়ে নিন। তার পর সামান্য অয়েল ফ্রি ময়শ্চারাইজার লাগান। তৈলাক্ত খাবার খাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করতে হবে। বারবার জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলতে হবে। যাতে মুখে তেল জমতে না পারে।

২। আংশিক তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে

আংশিক তৈলাক্ত ত্বকের মধ্যে যাঁদের সেনসিটিভ স্কিন, তাদের বিশেষ ফেসওয়াশের সঙ্গে দু’ধরনের ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। টি-জোনের জন্য অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার এবং বাকি অংশের জন্য নর্মাল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

৩। স্বাভাবিক ত্বকের ক্ষেত্রে

যাঁদের ত্বক স্বাভাবিক, তাঁরা ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তার পর ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগান।

আরও পড়ুন: পুজোর আগে ত্বকের যত্ন নিতে ঘরে বসেই, করুন ফ্রুট ফেসিয়াল

৪। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে

শুষ্ক ত্বকের জন্য অয়েল বেসড ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এ ছাড়া ফেস ওয়াশ বা লিক্যুইড বেবি সোপ দিয়ে মুখ ধোয়া যাবে। টোনার খুব কম লাগাবেন।

ক। এ বার ফেস প্যাকের কথায় আসা যাক-

শুষ্ক ত্বকের জন্য এমন কোনও প্যাক ব্যবহার করা উচিত যাতে আপনার ত্বক ভীষণভাবে নরম, মসৃণ ও আর্দ্র হয়। গ্লিসারিন, মধু এই জাতীয় জিনিস শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশ ভালো।

রোদের থেকে রেহাই পেতে এবং ত্বকের ট্যান হওয়া থেকে দূরে থাকতে বেশ কয়েকটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যেমন, ছাতা ব্যবহার করা, শরীর ঢাকা জামাকাপড় পরা, রোদ থেকে ঘুরে এসে সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কিছু পরিচর্যা করে নেওয়া। ট্যান তুলতে টম্যাটো ও আলুর খোসা বাটা, আলুর রস, শসার রস কিংবা টক দই অত্যন্ত ভালো কাজ দেয়।

খ। সানস্ক্রিন নিয়ে খুঁটিনাটি

এই বার আসা যাক সানস্ক্রিন ব্যবহারের পদ্ধতির আলোচনায়। সানস্ক্রিন আমাদের ত্বকের উপর কিছুক্ষণের জন্য একটা পরত ফেলে দেয়, যা থেকে আমাদের ত্বক সূর্যকিরণ, অতিবেগুনি রশ্মি ও অন্যান্য ক্ষতিকারক বিকিরণ থেকে বাঁচে। সানস্ক্রিন বিভিন্ন ধরনের হয়। ত্বক অনুযায়ী আমাদের সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া উচিত।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য পাউডার বেসড, সাধারণ ত্বকে জন্য স্প্রে বেসড এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম বেসড সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। ত্বক সুরক্ষিত রাখার সময় অনুসারে এগুলোরও কতগুলো ভাগ রয়েছে।

যেমন এসপিএফ১০ হল এক ঘণ্টার জন্য, দু’ঘণ্টা কাজ দেয় এসপিএপফ২০ যুক্ত সানস্ক্রিন। এসপিএফ৩০ তিন ঘণ্টা, এসপিএফ৪০ চার ঘণ্টা এবং এসপিএফ ৫০ পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে। যারা যতক্ষণ রোদে থাকবেন সেই মতো নিজের সানস্ক্রিন বেছে নেবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন