শীতকালে মুখের ত্বকে টমেটোর জাদু দেখতে হলে ব্যবহার করুন এই ভাবে

0
Tomato
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক : শীতকালে ত্বকের অবস্থা দফারফা। শুষ্কতা, টান ভাব ইত্যাদি সব সময়ই একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তাই শীতকালে ত্বকের দরকার অতিরিক্ত যত্নের। সেই যত্ন যদি প্রাকৃতিক দ্রব্যের সাহায্যে হয়, তা হলে কিন্তু মন্দ হয় না।

তাই ব্যবহার করাই যায় শীতে পাওয়া লাল টুকটুকে টমেটো। বাজারের লাল টমেটো দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। সেই টমেটো নানা ভাবে খাবার হিসাবে যে ব্যবহার করা যায়, সে কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তেমনই ব্যবহার করা যায় ত্বকের যত্নের জন্য বিশেষ উপকরণ হিসাবেও।

বলে রাখা ভালো টমেটোতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি। এই ভিটামিন এ এবং সি ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ আর তরতাজা করে তোলে। শুধু যে ভেতরের সুফল বাইরে প্রকাশ পায় তাই নয়, বাহ্যিক ভাবে টমেটো ত্বকে ব্যবহার করলেও তার সুফল হাতেনাতে পাওয়া যায়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ত্বকের পক্ষেও দারুণ ভালো এই টমেটো।

ত্বকে অনেকেরই ব্রণ, কালো দাগ ছোপ থাকে। আবার অনেকেই তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সমস্যায় থাকেন। মুখের বাড়তি তেল নিয়ে চিপচিপে একটি বিশ্রী অবস্থা হয়। এই সমস্ত সমস্যার একমাত্র না হলেও অন্যতম সমাধান হল টমেটো।

এই সমস্ত সমস্যার সমাধানের জন্য অবশ্যই ব্যবহার করা যায় টমেটো মাস্ক। এই টমেটো মাস্ক নিয়মিত ব্যবহার করলে মুখের রোমকূপের ছিদ্রগুলো ছোট দেখায়। ফলে মুখ একটি মসৃণ ভাব ফিরে পায়। ফলে মেকআপ করলেও তা খুব সুন্দর মসৃণ দেখায়। শুধু তাই নয়। অর্থাৎ যে শুধু মেকআপ ভালো বসে তাই নয়। আসলে টমেট রসের মাস্কের দরুন মুখের অযাচিত দাগ, ছোপ, কালো ভাব, ট্যান, রুক্ষতা, ব্রণ ইত্যাদি এক দম চলে যায়। মুখ উজ্জ্বল, চকচকে, ফরসা, পরিষ্কার দেখায়। তারুণ্য ফিরে আসে।

এখন অবশ্যই অনেকেরই মনে হচ্ছে পদ্ধতিটি যদি জানা যেত তা হলে ভালো হতো। কী ভাবে তৈরি করা যায় এই মাস্ক, কী ভাবেই বা তা ব্যবহার করতে হয়। এখন জেনে নেওয়া যাক সেই মাস্ক তৈরির পদ্ধতিটি ঠিক কী?

বাড়িতেই তৈরি করা যাবে এই মাস্ক। তার জন্য উপকরণও এক দম ঘরোয়া। টমেটো মাস্ক তৈরি করে নিতে হলে লাগবে কী কী?

প্রথমেই টমেটো তো লাগবেই। তা দিয়ে বের করে নিতে হবে দুই টেবিল চামচ টমেটোর রস। তা ছাড়া লাগবে, এক টেবিল চামচ মুলতানি মাটি এবং এক চা চামচ মধু। সঙ্গে এক চা চামচ কাঁচা দুধ দিতে পারলে ভালো হয়।

এ বার দেখে নেওয়া যাক কী ভাবে বানাতে হবে এই মাস্কের প্যাকটি –

টমেটোর রস বের করার জন্য প্রথমে একটি গোটা টমেটোকে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এ বার তা আধখানা করে কেটে অর্ধেকটা থেঁতো করে নিতে হবে। ওই থেঁতো করা টমেটো ভালো করে চিপে তার রস বের করে নিতে হবে। রসটি একটি পরিষ্কার পাতলা সুতির কাপড়ে ছেঁকে নিতে পারলে ভালো হয়। তবে না ছেঁকে নিলেও কোনো ক্ষতি নেই। এ বার বের করা রস একটি পরিষ্কার কাচের পাত্রে নিতে হবে। তাতে মুলতানি মাটি, কাঁচা দুধ এবং মধু মেশাতে হবে। তা ভালো করে মিশে গেলে একটি পেস্টের মতো মিশ্রণ তৈরি হবে। এটিই হল টমেটো রসের মাস্কের জন্য তৈরি প্যাক বা পেস্ট।

কী ভাবে তা মুখে লাগাতে হবে তা দেখে নেওয়া যাক –

প্রথমে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। যাতে টমেটো ও সঙ্গের সমস্ত উপাদানের গুণাগুণ ত্বকে প্রবেশ করতে পারে। তার জন্য প্রথমে গোলাপ জলে তুলো ভিজিয়ে মুখটা পরিষ্কার করে নিতে হবে। অথবা হালকা গরম জলে তুলো ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া যেতে পারে। অথবা ফেস ওয়াশ দিয়েও মুখ ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে।

এর পর মুখের জল মুছে সারা মুখে সমান ভাবে এই টমেটোর পেস্ট লাগিয়ে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে চোখের চারপাশ যেন বাদই থাকে। এবার কিছু ক্ষণের অপেক্ষা। যতক্ষণ পর্যন্ত না পেস্ট শুকিয়ে যাচ্ছে ততক্ষণ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকাই বাঞ্ছনীয়। এই সময় কথা বলা ঠিক নয়। পেস্ট শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

দেখা যাবে মুখের ত্বকের চেহারা কেমন সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা উন্নত হয়ে যাবে।

তবে আরও একটি কথা –

যাদের ফেস মাস্ক ব্যবহার করার সময়ের অভাব তারাও টমেটো রসের সুফল পেতে পারেন। তবে অন্য পদ্ধতিতে। সে ক্ষেত্রে টমেটোর রস একই পদ্ধতিতে বের করে নিতে হবে। এ বার তা সরাসরি তুলোয় করে নিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। কিছু মেশানোর দরকার নেই। তবে তার আগে অবশ্যই কোনো একটি পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। রস লাগানোর পর রসটি মুখে শুকিয়ে যাওয়ার জন্য কিছুটা সময় অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে। তার জন্য কম করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় হাতে রাখতে হবে। তার পর মুখ শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। তাতেও উজ্জ্বল ভাব চোখে পড়বে। তবে এই রস লাগিয়ে রাখার সময়ও কথা না বলা এবং চোখের মধ্যে না লাগানোই ভালো।

তবে সব শেষে একটি জরুরি কথা। মনে রাখতে হবে –

টমেটোর মধ্যে কিন্তু অ্যাসিড আছে। তাই তা সকলের সহ্য নাও হতে পারে। তাই বিভিন্ন ত্বকে এই রস ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে কানের পেছনে বা হাতে এই টেস্ট করা যেতে পারে। কোনো রকম সমস্যা হলে রস মুখের ত্বকে না ব্যবহার করাই ভালো। আর কোনো সমস্যা না হলে অবশ্যই পদ্ধতিগুলি মেনে চলা যেতে পারে।

পড়ুন – শীতকালে ছেলেদের চুলের যত্নের ঘরোয়া টিপস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.