মৈত্রী মজুমদার

কথাতেই বলে হাতের, কানের, গলার… গয়নার কথা আলোচনা করতে গেলে এই তিনটি অঙ্গের গয়নার কথাই প্রধান উপপাদ্য।

বিয়ের কনের অলংকারের কথা বলতে গিয়ে আমরা এর মধ্যেই গলার হার বা নেকলেসের কথা আলোচনা করে ফেলেছি। এবার আলোচনা করব আরও দুটি অতি প্রয়োজনীয় অলংকার কানের দুল আর হাতের সজ্জা নিয়ে।

কথায় বলে চোখ-কান খোলা রাখবে, আবার কখনও বলা হয় কেউ কেউ নাকি চোখের বদলে কানে দেখেন … আসলে যে কোনো মানুষের ক্ষেত্রেই তার পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে কানের ভুমিকা অপরিসীম। শ্রবনশক্তি প্রখর থাকলে কী কী হতে পারে তার প্রমাণ পুরাণ থেকে ইতিহাস এমনকি বাস্তবেও ভুরিভুরি আছে। তাই বহুকাল ধরেই কান সম্পর্কে মানুষ খুবই সচেতন।

আরও পড়ুন: বিয়ের গয়না কেনার আগে দেখে নিন কী পরবেন? আর কেন পরবেন?

এসবের মধ্যে একটি ধারণা হল কানের ছিদ্র দিয়েই নাকি ক্ষতিকর শক্তি শরীরে প্রবেশ করে তাই প্রাচীন কাল থেকেই মহিলাপুরুষ নির্বিশেষে কানের বিভিন্ন অংশে অলংকার পরার রীতি আছে।

আবার বিজ্ঞান বলে কান নাকি সারা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই কানই পুরো শরীরের  ‘মাইক্রোকজম’,  যার কেন্দ্রে আছে কানের লতি। তাহলে বুঝতেই পারছেন কানের শোনাকে ঠিক রাখতে কানের সোনা কতটা জরুরি।

তাহলে কনের এবং তার বিবাহিত জীবনের শারীরিক  ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আসুন জেনে নিই কী কী ধরনের কানের গয়না কী কী ভাবে পরা যেতে পারে।

বিয়ের অলংকার হিসেবে কানের গয়নাটি সব সময় গলার হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরা উচিৎ।

বিয়ের সময় যেহেতু সব গয়নাই খুব জমকালো হয়, সেক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে বেগ পেতে হয়। তাই নীচের টিপসগুলি অনুসরণ করুন।

যদি গলার হারটি হয় লম্বা রানিহার, এবং গলার কাছটি একটু খালি খালি থাকে সেক্ষেত্রে কানের গয়নাটি খুবই জমকালো পরুন। পুরো কানজুড়েই পরতে পারেন।

আবার যদি গলায় শুধুমাত্র একটি চোকার বা গুলবন্ধ বা প্রিন্সেস নেকলেস পরেন, তাহলে কানে একটি জমকালো লম্বা চাঁদবালি বা ঝুমকা পরুন।

প্রিন্সেস নেকলেসটি বড়োসড়ো হলে বা বিগ নেকলেস হলে ছোটো চাঁদবালি ভালো মানাবে।

আপনার গলার অলংকার যদি খুব বেশি জমকালো হয়, যেমন ধরুন একই সঙ্গে আপনি, চোকার, গুলবন্ধ আর রানিহার পরছেন তাহলে কানে একটি বড়ো কানপাশার সঙ্গে ছোটো ঝুমকো জাতীয় দুল পরুন, বেশি লম্বা বা ঝোলানো কিছু না পরাই ভালো।

আবার যদি আপনার সাজের ক্ষেত্রে মাথার দিকটা খালি থাকে যেখানে কানের পাশ থেকে পিছন দিকে চুলের খোঁপা দেখা যাবে, সেক্ষেত্রে কানের সঙ্গে জমকালো টানা লাগানো দুল পরুন।

যদি আপনার বিয়ের নেকলেসটি হয় মুক্তোগাঁথা সাতলারা তাহলে তার সঙ্গে বেশ জমকালো মুক্তোর ঝালর ঝোলানো কানবালা বেছে নিন। সঙ্গে ম্যাচিং মাংটিকা আর মুক্তোগাঁথা নথ, আপনার লুককে সম্পূর্ণ করবে।

হিরের গয়না যদি পরতে চান সেক্ষেত্রে তার সঙ্গে ম্যাচিং নকশার বড়োসড়ো কিন্তু বসানো কানের দুলই ভালো লাগবে।

বিয়ের  সময় ছোটো ছোটো অনেকগুলো অনুষ্ঠান হতে থাকে তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এই গয়নার মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ এর ব্যাপারটি জরুরি হয়ে ওঠে তাই  কিছু কিছু সময়  কম গয়না পরতে হলে,  কানের দুলের সঙ্গে মাথার টিকাটি  মিলিয়ে পরুন। বেশ জমকালো লাগবে।

তাহলে আর  কি, আপনি বেছে নিন আপনার কানের অলংকারটি। আমরা ফিরে আসব হাতের সাজের কথকতা নিয়ে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here