নিজস্ব সংবাদদাতা: পয়লা বৈশাখ আসতে আর সপ্তাহ খানেক বাকি। এই সময় অনেকেই নতুন কিছু কেনাকাটা করেন, বিশেষ করে জামাকাপড়। যাদের শাড়ির বৈচিত্র্য সর্বজনবিদিত, সেই ক্রাফ্‌টস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার বিপণি ‘‌কমলা’ আয়োজন করেছে এক বিশেষ প্রদর্শনীর। শনিবার আইসিসিআর–এ শুরু হল সেই প্রদর্শনী। এ দিন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুরলীধর গার্লস কলেজের অধ্যক্ষা ড.‌ কিঞ্জলকিনি বিশ্বাস। প্রদর্শনী চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাপড়ের কাজ এবং হস্তশিল্পকে তুলে ধরতে সচেষ্ট ‘‌কমলা’। এ বারও তারা বিভিন্ন রকম পোশাক নিয়ে হাজির। এর মধ্যে যেমন রয়েছে ৯ ইয়ার্ড, বিভিন্ন পোশাকের উপকরণ, তেমনই রয়েছে দেশের প্রান্তিক কোনো শিল্পীর তৈরি ঘর-সাজানোর জিনিস, উপহারসামগ্রী। বাগরুর ব্লক প্রিন্টের জনপ্রিয়তা দুনিয়া জুড়ে। তেমনই রয়েছে সাঙ্গানেরের কোটা, তসর। দক্ষিণ ভারতের চেট্টিনাড়ের মনোরম শাড়ির আঁচলেরও দেখা মিলবে ‘‌কমলা’র প্রদর্শনীতে। এর পাশাপাশি রয়েছে হিবিসকাস আর কোরার হাতে তৈরি ব্লক প্রিন্ট সুতির শাড়ি। এ বারের প্রদর্শনীতে হলুদ রঙের বৈচিত্র‌্যময় উপস্থিতি। স্কার্ফ, কাপড়, স্ট্রোল, শাড়িতে জড়িয়ে রয়েছে সেই রঙ।

in Kamal's exhibition
‘কমলা’র প্রদর্শনীতে। নিজস্ব চিত্র।

“‌এ বারের বিশেষ জিনিসটি হল সাড়ে তিনশো বছরের পুরোনো এক ধরনের শাড়ি। আনা হয়েছে উত্তর কর্নাটক থেকে। এর নাম পাত্তেডা আনচু। বিস্মৃতপ্রায় এই শাড়ি উদ্ধার করতে হয়েছে বেশ কষ্ট করে। শাড়িটি দু’দিক থেকেই পরা যায়। আর পরাও বেশ সুবিধার। প্রাকৃতি্ক রঙ দিয়ে রাঙানো। আমাদের এ বারের সংগ্রহে রয়েছে পুরুলিয়া, ছত্তীসগঢ়, ভাগলপুরের তসর, গাড়োয়ালের সুতির কাপড়” – জানালেন ক্রাফ্‌টস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সাম্মানিক সভাপতি কস্তুরী গুপ্তা মেনন।

পয়লা বৈশাখের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে গরমকালে পরার মতো টাঙ্গাইল, শান্তিপুরী, ফুলিয়ার শাড়ি আর সমুদ্রগড়ের শিবরি। রয়েছে অঙ্গিকাম, দ্বারকার কলমকারি শাড়ি, স্কার্ফ, ব্লাউজ পিস।

উপহার দেওয়ার জিনিসের মধ্যে রয়েছে টুকটাক জিনিস রাখার ছোটো ব্যাগ, গয়নার বাক্স, চামড়ার মানিব্যাগ। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এগুলো আনা হয়েছে। এ বছর হলুদ আর লাল রঙের তৈরি মহিলাদের কাঁধের জমকালো ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। অসমের তেমনই ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে প্রদর্শনীতে। সুন্দর, বাহারি বিভিন্ন রেডিমেড ব্লাউজও রয়েছে। সবাই যাতে সেগুলি কিনতে পারেন তাই দাম রাখা হয়েছে সাধ্যের মধ্যে। কারও যদি নতুন ধরনের গয়না পরার ইচ্ছে থাকে, পূরণ হবে তা–ও। মাটি, লাক্ষা, গুটি দিয়ে তৈরি নজরকাড়া রাজস্থানি গয়না এ বারের অন্যতম আকর্ষণ। এর পাশাপাশি রয়েছে রুপো, তামা, টেরাকোটা এবং পরিবেশবান্ধব গয়নার ডালি।

প্রদর্শনী খোলা সকাল ১১ থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত। এমনকি রবিবারও।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here